তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ
সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন দেয় ছাত্রলীগ
Published : Sunday, 19 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 18.11.2017 10:54:58 PM
সিলেট অফিস, দিনকাল : সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাস আগুন দিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ নেতাকর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা। আর এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের বিরোধের জের ধরেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এ নাশকতা চালায় বলেও তদন্তে  বেরিয়ে এসেছে। এদিকে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরুর আদালতে গত  ১৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। পরদিন ১৬ নভেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরা আসামিদের বিরুদ্ধে  গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। : বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পেশকার মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি ২৯ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পরোয়ানাগুলো সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হচ্ছে। : তদন্তে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের ওই ২৯ জন হলেনÑ সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক (বরখাস্ত) সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, আবু সরকার (বহিরাগত, শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি), জাহাঙ্গীর আলম (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), মৃদুল কান্তি সরকার, কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে আইনজীবী ও বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান), ছাত্রলীগ নেতা বাবলা, মো. আতিকুর রহমান, লায়েক আহম্মেদ, সিদ্দিক আহম্মেদ ইউসুফ, জহিরুল ইসলাম, আক্তারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান শাহিন, মোহাম্মদ বিন মামুন বুলবুল, আউলাদ, আছরাফ আহমেদ শিপন, নজরুল ইসলাম, অলিউল্লাহ ওরফে ওলিউর রহমান, খুরশেদ আলম, বাছিদ ওরফে আবদুল বাছিদ, আবদুস সালাম, ইমতিয়াজ রফিক চৌধুরী, আবদুল্লাহ ফারুক, কয়েছ ওরফে কয়েছুজ্জামান তালুকদার, আবু রেহান, রুবেল ও জ্যোতির্ময় দাস সৌরভ। : তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের জবানবন্দি ফের গ্রহণ করা হয়। এর ফলে সাক্ষীদের মৌখিক সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এটাই প্রমাণিত হয় যে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের বিরোধের কারণেই সংঘটিত হয়। : সূত্রমতে, এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিলেট পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। এরপর সিআইডি ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে প্রথমবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে আদালত এ প্রতিবেদন গ্রহণ না করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। : এরপর আবার তদন্ত করে সিআইডি ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট ফের আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনও আদালত গ্রহণ না করে পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। : পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দুইবার ও বিশেষায়িত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে অপরাধী শনাক্ত না হওয়ায় আলোচিত এ মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়  দেখা দেয়। সর্বশেষ এ মামলার জট খুলতে গত ৩১ মে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সারাবন তহুরা। : উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৮ জুলাই শিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দেয়া আগুনে ৪২টি কক্ষ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় হল সুপার বশির আহমদ বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ২০১২ সালের ১৩ জুলাই মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আরও দুটি মামলা করা হয়। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মৃত্যু ঘটেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
16471 জন