ভয়ঙ্কর পরিণতি আলিঙ্গনের জন্য প্রস্তুত থাকুন : আ’লীগকে রিজভী
Published : Sunday, 19 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 18.11.2017 10:54:34 PM
সোহরাব হোসেন, খুলনা, দিনকাল : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমদ আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দ্রুত নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সরে পড়েন। অন্যথায় জনগণের ক্রোধের আগুনে পুড়ে ভয়ঙ্কর পরিণতি আলিঙ্গনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এই সরকার থাকলে ঘোর অন্ধকারে নৈরাজ্য বিরাজ করবে। তিনি বর্তমান সরকারকে বাকশালের নব্য সংস্করণ বলে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশে গুম, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নালা ডোবার ভিতরে লাশ পড়ে থাকার আতঙ্কে মানুষ কথা বলতে পারছে না। রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনা তিন অঙ্গের প্রধান হয়ে থাকতে চান। তিনটিরই তিনি হেড মাস্টার হয়ে বিরোধিতাকারীদের বেত্রাঘাত করছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার তার বেত্রাঘাতের শিকার হয়েছেন। প্রধান বিচারপতি মনে করেছেন, ষোড়শ সংশোধনী অন্যায়। কেননা বর্তমান পার্লামেন্টে আছে সরকারি দল আর তাদের অনুগত গরু,ছাগল-মহিষ। এদের হাতে যদি বিচারপতিদের হাতে অপসারণের ক্ষমতা দেয়া হয় তাহলে মানুষ ন্যায় বিচার পাবে না। : শেখ হাসিনা দেশে বাকশালের নতুন সংস্করণ কায়েম করতে চলেছেন, অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগ সব কিছুই তিনি একক নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। প্রধান বিচারপতি মনে করেছিলেন, ষোড়শ সংশোধনীর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হবে। এ নিয়ে কথা বলায় তাকে শুধু পদ নয়, দেশ ছাড়তে হয়েছে। এখন একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে এবং ইভিএম’এ ভোট হবেনা। কিন্তু এ কথা শেখ হাসিনা শুনতে চাননা। আমরা জানি না তার পরিণতি কি হবে? প্রধানমন্ত্রীর পছন্দে নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে। তার অধীনে নির্বাচন হলে ভোটের আগের রাতেই নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্স ভরে ফেলা হবে। : তিনি বলেন, এক এগারোর সরকারের ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের দেয়া ষড়যন্ত্রমূলক একই মামলায় শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া আসামি ছিলেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ওনার মামলাগুলো হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো হাওয়া হয়ে গেলে। আর বেগম খালেদা জিয়ার মামলাগুলো চলমান। তিনি বলেন,প্রতিহিংসার কারণে এখন প্রতি বৃহস্পতিবার বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এটা শেখ হাসিনার ইচ্ছা। বলা আইনের চোখ অন্ধ। আইন অনুসারে বিচার হয়। শেখ হাসিনার ক্ষমতার কাছে আদালত ও বিচারকদের স্বাধীন সত্তা আর নেই। : দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ অবস্থা বর্ণনা করতে যেয়ে তিনি ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশে বলেন,যশোর থেকে খুলনায় আসার এক ঘণ্টার পথ সাড়ে তিন ঘণ্টা লেগেছে। মানুষ এখন সেতুমন্ত্রীকে গর্তমন্ত্রী ও খানা-খন্দক মন্ত্রী নামে ডাকতে শুরু করেছে। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে রাজনৈতিক বয়াতি বলে অভিহিত করে বলেন,দেশে আব্দুল করিম বয়াতি ও কুদ্দুস বয়াতি ছিল। এখন হয়েছে কাদের বয়াতি। ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার দুঃশাসনের কথাগুলো সাফাই গেয়ে বক্তৃতা করেন বয়াতি গানের মাধ্যমে। : রুহুল কবীর রিজভী তারেক রহমান সম্পর্কে বলেন, রাজনীতিতে তারেক রহমান নাম লেখানোর পর দুই-তিন বছরের মধ্যে তার উপর ঝড় বয়ে গেলে। কারাগারে তিনি যে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তা ব্যতিক্রম। তিনি হুড খোলা গাড়ি নিয়ে সন্ত্রাসী ও গুণ্ডামি করেননি। তিনি দুস্থদের মাঝে হাঁস-মুরগি দিয়েছেন, বন্যার্তদের ত্রাণ দিয়েছেন, শীতার্তদের কম্বল দিয়েছেন, প্রতিবন্ধীদের কম্পিউটার দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তি প্রকাণ্ড বটবৃক্ষে পরিণত হচ্ছিল তখনই তাকে ঘিরে ষড়যন্ত্র হয়। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ফখরুদ্দিনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং মঈনউদ্দিনকে সেনা প্রধান বানিয়েছিলেন। তারাই ঘষেটি বেগমকে সাথে নিয়ে মীরজাফর, জগৎ শেঠ উমিচাঁদের ভূমিকা পালন করেছেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাবেক সেনা প্রধান বিদ্যুৎ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ করেন। অথচ ওই সময় পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ খাতে বাজেট ছিল ১৩ হাজার কোটি টাকা। এই নির্লজ্জ মিথ্যা সংবাদ মিডিয়ায় আসার পর এক সাহসী সাংবাদিক তা খণ্ডন করলে,কারাগার থেকে তারেক রহমানকে বের করে এনে অন্ধ কুঠিরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়, তাকে চিরতরে পঙ্গু করা হয় যাতে তিনি আর রাজনীতি করতে না পারেন। : তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন,আপনার হাতে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি,তার পরেও তারেক রহমান সম্পর্কে আপনার এতো আতঙ্ক। তার আওয়াজ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। একুশে টিভি তার বক্তব্য প্রকাশ করায় মালিককে দুই বছর কারাগারে আটক রেখেছেন। আর একুশে টিভির মালিকানা কেড়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, মিডিয়ার বাকরুদ্ধ করা হয়েছে। : শনিবার খুলনায় জেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবীর রিজভী এসব কথা বলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে নগরীর ইউনাইটেড ক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. এসএম শফিকুল আলম মনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। : বিশেষ অতিথি বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দলীয় নেতাকর্মীদের ইস্পাত কঠিন ঐক্যের কথা বলে বলেন, একজন মানুষ পাঁচ বছর আওয়াম লীগ-বিএনপির রাজনীতি করলে এমপি-মন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু একজন নেতা ৪০/৫০ বছরেও জন্মগ্রহণ করেননা, শফিকুল ইসলাম মনা হচ্ছেন সেই নেতা। তারেক রহমানকে কৃষক-শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষের নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, তার জন্মদিনে আমাদের জৌলুস করার কিছু নেই। এই দিন আমাদের ঐক্য প্রতিষ্ঠার উপলক্ষ। তাই ঐক্যের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠা করে লাখো কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে হবে। : বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি শেখ মুজিবর রহমান, খান রবিউল ইসলাম রবি, আমীর এজাজ খান, খান জুলফিকার আলী জুলু, শফিকুল আলম তুহিন, মনিরুজ্জামান মন্টু, খান আলী মুনসুর, শেখ আব্দুর রশিদ, চৌধুরী কওসার আলী, আবু হোসেন বাবু, জি এম কামরুজ্জামান টুকু, মোল্লা মোশারফ হোসেন মফিজ, অ্যাড. মোমরেজুল ইসলাম, অ্যাড. তছলিমা খাতুন ছন্দা, শামীম কবীর, খায়রুল ইসলাম খান জনি, ইমদাদুল হক, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, মোল্লা সাইফুর রহমান, উজ্জল কুমার সাহা, তৈয়েবুর রহমান, আতাউর রহমান রনু, আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, গোলাম মোস্তফা তুহিন। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা ফারুক হুসাইন। : তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকীর এই কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই কর্মসূচিস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিট থেকে একের পর এক বিশাল বিশাল মিছিল আসতে থাকে। বেলুন, ফেস্টুন, প্লাকার্ড ও অন্যান্য উপকরণে সাজানো হয় অডিটোরিয়াম ও তার আশপাশ। শুরুতেই সৈয়দ মাইনুল হক রিপন নামের এক শিল্পী তারেক রহমানকে নিয়ে রচিত দুটি গান শোনান। এ সময় দর্শক শ্রোতারা করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠেন। : সভায় অধিকাংশ বক্তা তাদের বক্তব্যে আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাড. এসএম শফিকুল আলম মনাকে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের জোরালো দাবি জানান। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মৃত্যু ঘটেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
16445 জন