তোষামোদি নয় নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন : ইসির উদ্দেশে মির্জা ফখরুল
শিক্ষক ব্যাংকার ও কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে সমাবেশে যেতে বাধ্য করা হয়েছে
Published : Sunday, 19 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 18.11.2017 10:54:12 PM
দিনকাল রিপোর্ট : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শিক্ষক, ব্যাংকার ও সরকারি চাকরিজীবীদের জোর করে আওয়ামী লীগের সমাবেশে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। এ সময় তিনি তোষামোদি নয়, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, একটা নির্বাচন কমিশন বানিয়েছেন, আপনাদের (সরকার) ইচ্ছামতো লোক দেখানো কিছু ক্যারিকাচার করে এটা করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, তিনি (সিইসি) তোষামোদি করে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন আনতে চান। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, আপনি নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিন, নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। কাউকে তোষামোদি করার তো দরকার নেই। এটার প্রয়োজন নেই। গতকাল শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম নুরুল হুদাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এ আহবান জানান। সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ভাসানী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে  মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুদিবস উপলক্ষে এই আলোচনা  সভা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশনের শেষ হওয়া সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বিএনপিকে খুশি করার চেষ্টা করছেন। আবার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ বলে আওয়ামী লীগের কথা বলছেন। এসব কথা বললে লাভ হবে না। কাজে দেখান। কাজের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে আপনার নিরপেক্ষতা প্রমাণ করুন। : সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন থেকে সব কিছু আওয়ামী লীগ সরকার করে যাবে। তারা মহাসুখে হেলিকপ্টারে চড়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালাবেন। আর আমরা একটা মিটিংও করতে পারবো না, রাস্তায় দাঁড়াতেও পারবো না, একটা সত্য কথা বলতেও পারবো না, আমরা কোর্টের বারান্দায় ঘুরবো, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সপ্তাহে সপ্তাহে হাজিরা দিতে হবে, আমাদের সব নেতা-কর্মীকে হাজিরা দিতে হবে- এভাবে নির্বাচন হবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে এখন থেকেই সব রাজনৈতিক দলকে তাদের কাজ করতে দিতে হবে। : মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন হতে হলে অবশ্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং এই সংসদকে ভেঙে দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি ফলপ্রসূ ও একটা কার্যকরী নির্বাচন দিতে হবে। : বিএনপি অংশ না নিলে আগামীতে নির্বাচন হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন ক্ষমতায় আছেন কিছুদিনের জন্য। খুব আনন্দিত হচ্ছেন, বগল বাজাচ্ছেন যে, আমরা তো ক্ষমতায় এসে যাবো। কোনো চিন্তা নেই, বিএনপি না আসলে না আসবে। বিএনপি না আসলে হবে না। আর গিলাতে পারবেন না। এদেশের মানুষকে আর ওই ধরনের নির্বাচন গিলাতে পারবেন না। এদেশের মানুষ অবশ্যই আগামী নির্বাচনে সমস্ত দলকে নির্বাচনে দেখতে চায়, এদেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে একটা সত্যিকার অর্থেই সুন্দর পরিবেশ-পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নির্বাচনে যেতে চায়, এদেশের মানুষ তারা নিজেরা নিজের ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন করতে চায়, সরকার গঠন করতে চায়। : সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষের কাছে যান, তাদের হৃদয়ের ভাষাটা বুঝুন, চোখের ভাষাটা বুঝুন, দেয়ালের লিখনটা পড়–ন, দেখুন তারা কি বলছে। তারা সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চায়, জনগণের সরকার চায়। সেই পরিবর্তন সম্ভব যদি একটা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। : মরহুম মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে ‘কিংবদন্তীর নেতা’ হিসেবে অভিহিত তার মৃত্যু দিবসের সংবাদ জাতীয় দৈনিকসহ গণমাধ্যমে ‘ছোট করে প্রকাশে’ বেদনা ও ক্ষোভের কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। : ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ইউনেস্কোর তালিকাভুক্তি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নাগরিক সমাবেশে স্কুল-কলেজসহ সকল সরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটা হচ্ছে, যে বক্তব্য ৭ মার্চ দেয়া হয়েছিলো সেটা ইউনেস্কোতে তালিকাভুক্তি করেছে সেজন্য এই সমাবেশ। তো ভালো কথা। আমরা তো মনে করি যে, আনন্দের কথা। : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাগরিক সমাবেশের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, সমাবেশকে সামনে রেখে কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন? প্রত্যেকটা স্কুল-কলেজকে চিঠি দিয়েছেন না আসলে শিক্ষকদের চাকরি থাকবে না। ব্যাংকে চিঠি দিয়েছেন না আসলে পাঁচ দিনের বেতন কাটা যাবে এবং আসতেই হবে। সব করপোরেশন টিচার-শিক্ষক সবাইকে এই কথা বলে নিয়ে আসছেন। স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে এসেছেন। সকালে দেখে এসেছি আপনার, বড় বড় বাসে স্কুলের বাচ্চাদের তোলা হচ্ছে। আমাদের তো আপত্তি নেই। : বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিচ্ছেন, মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢেকে দিচ্ছেন। অন্যদিকে এ সমস্ত কথা বলে মানুষকে প্রতারিত করছেন। : ভাসানী স্মৃতি সংসদের সভাপতি জিয়াউল হক মিলুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সাবেক মন্ত্রী জাকারিয়া খান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, সাবেক মন্ত্রী নুর মোহাম্মদ খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু, মেহেদি আহমেদ রুমী, মরহুম নেতা মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে ন্যান্সি রহমান, স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুল হুদা প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মৃত্যু ঘটেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
16440 জন