ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না : শেখ হাসিনা
Published : Sunday, 19 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 18.11.2017 10:53:45 PM
ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না : শেখ হাসিনাদিনকাল রিপোর্ট : ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ইতিহাস যতই মুছতে চেষ্টা করুন, তা সম্ভব নয়। ইতিহাস সত্যকেই তুলে ধরে। ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিলের স্বীকৃতি দেয়ায় ইউনেস্কোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো ভাষণ এত দিন, এত ঘন্টা প্রচার হয়নি। ওই ভাষণে যতই বাধা এসেছে মানুষ : ততই জাগ্রত হয়েছে। : নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। : ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যারা এ ভাষণ বাজাতে বাধা দিয়েছে, আজ যখন ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে তখন তাদের কি লজ্জা হয় না? জানি না এদের লজ্জা-শরম আছে কি না? কারণ এরা তো পাকিস্তানি বাহিনীর প্রেতাত্মা। : শেখ হাসিনা বলেন, তখন ৫৬ শতাংশ মানুষ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে। কিন্তু বাঙালির কোনো অধিকার ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানিরা সম্পূর্ণ শোষণ করেছে। তারা আমাদের মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তখন বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। প্রধানমন্ত্রী  বলেন, বাঙালিরা শাসনভার হাতে নিক তা পাকিস্তানিরা কখনও চায়নি। ডিসেম্বরের ৭ তারিখে ইলেকশন হয়। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি গেল কিন্তু তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। বঙ্গবন্ধুর কথায় এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ৭ মার্চের ভাষণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেদিন ভাষণ দিয়েছিলেন লাখো মানুষ এসেছিল এ রেসকোর্স ময়দানে। বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে এখানে এসেছিল তারা।’ ‘জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। জাগ্রত করেছিলেন বাঙালি জাতিকে। ৭ মার্চ সেদিন তার নির্দেশনা নিতে লাখ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে এসেছিল।’ : প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শেষদিকে বলেন, ‘এতক্ষণ মেঘে ছেয়েছিল, আজকে আমাদের সূর্য নতুনভাবে দেখা দিয়েছে। এই সূর্যই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আবারও আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’ : প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের যে উন্নতি হয় তা আমরা প্রমাণ করেছি। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই এদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। যে দেশের মানুষকে ভিক্ষার ঝুলি দিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো। এখন আর ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরতে হয় না। এখন আমরা বাজেটের ৯৮ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে পারি। : এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। বিভিন্ন সরকারি অফিসের সিবিএ সংগঠনগুলো কর্মচারীদের সমাবেশে যোগ দিতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সমাবেশে যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। বিএনপির সমাবেশে যাতে জনসাধারণ যাতে যোগ দিতে না পারে সে জন্য সড়কে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়া হলেও কিংবা গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হলেও আওয়ামী লীগের সমাবেশের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মৃত্যু ঘটেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
16438 জন