কর্তৃপক্ষের যেনো দায়সারা মামলা
রেলের জমি গোপনে  লিজ দেয়ার পাঁয়তারা
Published : Tuesday, 21 November, 2017 at 12:00 AM
হাফিজুর রহমান শাহীন, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : বাংলাদেশ রেলওয়ের কয়েক একর জমি অবৈধ দখল করে মৎস্য চাষ ও বালু উত্তোলনের ফলে পাইলিং ভেঙে রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়। বহুল আলোচিত এ ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত রেল বিভাগ দায়সারা একটি মামলা  করেছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকার লোকজনের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা গেছে, পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে ফজলুল হক প্রকাশ্যে রেলওয়ের কয়েক একর জমি জবর দখল নিয়ে বালু উত্তোলন, মৎস্য খামার, চাষাবাদসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছে। ফজলুল হকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফজলুল হকের মৎস্য খামার থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করায় পার্শ্ববর্তী ফসলি জমি, রেলপথসহ পরিবেশ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে রেলের জমি জবর দখল, বালু উত্তোলন করে বিক্রি ও  মৎস্য খামার প্রকল্প তৈরিকরণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবরটি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র প্রেরণ করেছেন। এর প্রায় আড়াই মাস পর বামনডাঙ্গা বাংলাদেশ রেলওয়ের এসএসএই/ওয়াকর্স মো. সাইদুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর উলিপুর থানায় একটি দায়সারা এজাহার দাখিল করেন। এজাহারটি পাওয়ার ৪১ দিন পর থানার অফিসার ইনচার্জ এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ মামলাটি রুজু করেন। যার নং ৪৯ তাং ৩১/১০/১৭ ইং।  মামলার বিষয়ে উলিপুর উপজেলা রেল, নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ-কমিটির সভাপতি আপন আলমগীর জানান, ভূমিদস্যু ফজলুল হক রেল বিভাগের কয়েক একর জমি অবৈধভাবে দখলে নিয়ে ১০ লক্ষাধিক টাকার বালু উত্তোলন, মৎস্য খামার তৈরি করে লাখ লাখ টাকার মাছ চাষ করে লুটপাট করছে। এতে রেলের পাইলিং ভেঙে রাষ্ট্রের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হলেও সে বিষয়গুলো মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত ভূমিদস্যু ফজলুল হক সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে রেলওয়ের জমিগুলো লিজ নেয়ার কাজ প্রায় চূড়ান্ত করেছে। তিনি এ অবৈধ লিজ কার্যক্রম বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক বলেন, ফিল্ডকানুঙ্গ গোলাম নবী উলিপুর থানায় এজাহার দাখিল করেছে। তবে মামলা হয়েছে কিনা জানি না। মামলার বাদী বামনডাঙ্গা রেলওয়ের এসএসএই/ওয়াকর্স সাঈদুর রহমান চৌধুরীকে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। লিজ নেয়ার বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় জোন লালমনিরহাটের ডিআরএম নাজমুল ইসলাম জানান, লিজ কাউকে দেয়া হয়নি। :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলেই সংখ্যালঘুরা বেশি নির্যাতিত। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
9061 জন