শিমের বাম্পার ফলনে কৃষক যেনো মহাখুশি
Published : Tuesday, 21 November, 2017 at 12:00 AM
শিমের বাম্পার ফলনে কৃষক যেনো মহাখুশি মো. আব্দুল হালিম, ফুলবাড়ীয়া থেকে : শীতকালে সবজির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিম। শিম বাগানগুলো এখন গোলাপি সাদা রঙে বিস্তীর্ণ। ফুলের এমন বিস্তীর্ণে চাষীরা মহাখুশি। অবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর শিমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। সবজির ভান্ডার হিসেবে পরিচিত উপজেলার বাকতা, কালাদহ, রাঙ্গামাটিয়া, এনায়েতপুর ও কুশমাইল ইউনিয়নের বাজারগুলোতে উঠতে শুরু হয়েছে দেশি শিম। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বাগান থেকে পুরোদমে শিম উঠাবেন চাষীরা। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কালাদহ দাশপাড়া, নিজপাড়া, শিবরামপুর, কাল্লাজানি, কালারচর, বাক্তা, চাঁদপুর, রঘুনাথপুর, বিদ্যানন্দ, শ্রীপুর, কাচিচুরা, কুশমাইল, নাওগাঁও, বালুঘাট, কৃষ্টপুর, রাঙ্গামাটিয়া, হাতিলেইট, বাবুলের বাজার, ছিদ্দিকালী, গোপীনাথপুর, রাজঘাট, এনায়েতপুর এলাকার কৃষি মাঠ বেশির ভাগই পরিপূর্ণ শিমের মাচায়। বাগানগুলোর দিকে তাকালে গোলাপি সাদা রঙের ফুল আর থোকায় থোকায় ছোট ছোট শিম আর শিম। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় সবজির চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮৯০ হেক্টর আর এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর। তার মধ্যে শিম বাগান হয়েছে ৩৭৫ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের চেয়ে এ বছর ২৫ হেক্টর বেশি। গত রবিবার কুশমাইল ইউনিয়নের দেওনাইপাড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কৃষক আ. কুদ্দুছের  ৪০ শতাংশ জমিতে বাঁশ ও লাইলনের মোটা সুতা দিয়ে শিমের মাচা। মাচা ভরা সবুজের মধ্যে গোলাপি, সাদা আর নীল রঙে ফুলের অপরূপ দৃশ্য। প্রতিটি শিম গাছের ডগায় অসংখ্য ফুল আর ছোট ছোট শিম ধরে রয়েছে। কৃষক আ. কুদ্দুছ জানান, গত বছর ৪০ শতাংশ জমি ৭ হাজার টাকা বছর ভাড়া নিয়ে শিম আবাদ করেছিলাম। মাচাসহ সব কিছু মিলে খরচ হয়েছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা, খরচ বাদে লাভ হয়েছিল ২০ হাজার টাকা। এ বছর পুরনো মাচায় শিম আবাদ করেছে শেষ পর্যন্ত খরচ হবে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা, আবহাওয়া ভালো থাকলে এ বছর লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবে বলে আশা করছেন তিনি। কালাদহ গ্রামের শিমচাষী আ. সালাম জানান, ৬০ শতাংশ শিমের বাগান থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ কেজি শিম উত্তোলন করে প্রায় ২ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। শুরুতে বাজার দর বেশি পাওয়ায় তিনি মহাখুশি। তিনি আরো বলেন, এ বছর শিমের মাচায় অন্যান্য বছরের চেয়া ফুলের পরিমাণ অনেক বেশি। প্রাকৃতি দুর্যোগ না হলে শেষ পর্যন্ত শিম বাগান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. নাসরিন আক্তার বানু বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে উদ্বুদ্ধকরণ করায় রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈবসার ব্যবহার করছেন কৃষকরা। তাতে সবজি চাষে খরচ কম হয়, ফলন হয় ভালো। শৈতপ্রবাহ গ্রাস না করলে এ বছর শিমের ফলন হবে অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত অবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উপজেলায় সবজি বাম্পার ফলন হবে আশা করছি। :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলেই সংখ্যালঘুরা বেশি নির্যাতিত। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
9055 জন