সংখ্যালঘু নির্যাতন
আওয়ামী লীগের সময়েই সবচেয়ে বেশি অত্যাচার
Published : Wednesday, 22 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 21.11.2017 9:36:37 PM
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জের ধরে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের অবস্থা সরেজমিনে দেখার ও সহায়তা দেয়ার জন্য ঘটনাস্থল রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় গিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে আমরা সবাই একই বন্ধনে বসবাসকারী। কিন্তু একশ্রেণীর দুর্বৃত্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে এতে ফাটল ধরায়। ঠাকুরপাড়ায়ও একশ্রেণীর দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে বলে মনে করি আমরা। এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সুষ্ঠু তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে। ঠাকুরপাড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিএনপিও একটি তদন্ত দল পাঠাবে। খতিয়ান বলেÑ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সবচেয়ে বেশি টর্চার, অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, রামুর ঘটনাতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ জড়িত ছিল। নাসিরনগরেও আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান সরাসরি জড়িত।  রংপুরের ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুর্বৃত্তদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অযথা ও অন্যায়ভাবে কাউকে পুলিশ যেন হয়রানি না করে। :  দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন, বাড়ি-ঘর, সহায়-সম্পত্তি দখল, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের ঘটনা মাঝে-মধ্যেই ঘটতে দেখা যাচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এ ধরনের ঘটনা বন্ধের জন্য এ যাবৎ সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নেপথ্যের কারণ স্বচ্ছতার সাথে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের বেশিরভাগ ঘটনাই পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক তা বহুবার প্রমাণ হয়েছে। বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এদেশে হিন্দুদের ওপর এক নিঃশব্দ নির্যাতন খুব ব্যাপকভাবে চলে আসছে। এ নির্যাতনের রূপ হলো হিন্দুদের সম্পত্তি দখল এবং তার মাধ্যমে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া করা। ১৯৭২ সাল থেকে এ কাজ যেভাবে হয়েছে সেটা পাকিস্তান আমলের কোনো পর্যায়েই হয়নি এবং একাজটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের লোক দ্বারাই শুরু হয়েছে।’ স্বাধীনতার পর শুরু হওয়া হিন্দু নির্যাতন আজো চলছে দোষীদের শাস্তি প্রদানের ব্যর্থতায়। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আছে, সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসীরা জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করছে বা করার চেষ্টা করছে। : সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলা ও তাদের সহায়-সম্পত্তি বিনষ্ট, লুণ্ঠনে জড়িতরা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার বদৌলতে অধরা থাকার সুযোগ পায়Ñএটা এ যাবৎ লক্ষণীয়। বৌদ্ধপল্লীতে হামলায় জড়িত ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ধরতে মানা ছিলÑএমন তথ্য সংবাদ মাধ্যমকে দেন পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। ওয়াকার্স পার্টি নেতা রাশেদ খান মেনন রামুর সন্ত্রাসী ঘটনায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ এনেছিলেন। সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশ কর্তৃক আগুন দেয়ার ছবি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় আওয়ামী লীগের মিছিলে না যাওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার প্রত্যক্ষ নির্দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। কক্সবাজারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার একটি ঘটনার সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামছুল হক টুকু ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ওই এলাকায় এক সাথেই ছিলেন। অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ওই হামলার সময় তাৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্বিকার ছিলেন। এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তার কিছুই করার নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের পর কয়েকটি স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও তাদের ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর একটি ছিল যশোরের অভয়নগরস্থ মালোপাড়া। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের এমপি ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা রণজিত রায় বলেন, আওয়ামী লীগের হুইপ শেখ আবদুল ওহাবের কর্মীরাই ভোট না দেয়ায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পল্লী পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওই সময়কার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় কারা জড়িত তা আমরা জানি। শুধু জামায়াত-শিবিরের ওপর দোষ চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না। শুধু জামায়াত-শিবিরের ওপর দোষ চাপানো সরকারি গল্প। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, তাদের সহায়-সম্পত্তি লুণ্ঠন-বিনষ্ট বন্ধ হচ্ছে নাÑসত্যাশ্রয়ী হয়ে তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে অনাগ্রহ দেখানোর এবং দোষারোপের খেলা করার ফলশ্রুতিতেই। : বাংলাদেশ সুপ্রাচীন কাল থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কোনোকালেই এদেশের ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো পরস্পরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করেনি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিই অনুসরণ করেছে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও তাদের বাড়ি-ঘর, সহায়-সম্পত্তি লুণ্ঠন-বিনষ্টের প্রতিটি ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেয়া হলে এ ধরনের ঘটনা রোধ সম্ভব। এর জন্য সবারই সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।   : :





অনলাইন জরিপ

ফেনী জেলা আ’লীগের নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার নেপথ্য নায়ক নিজাম হাজারী। এরপরেও আ’লীগ মিথ্যাচার করবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7918 জন