বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির চূড়ান্ত খসড়া সুপ্রিম কোর্টে : আইনমন্ত্রী
Published : Wednesday, 22 November, 2017 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির চূড়ান্ত খসড়া সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, সেখান থেকে ফিরে এলে সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমরা (আপিল বিভাগের বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী) বসেছিলাম। আমাদের যে ক্ষুদ্র মতভেদ ছিল সেটা দূর হয়েছে এবং সমাধান হয়েছে। সেদিন আমি বলেছিলাম (সাংবাদিকদের) গেজেটের খসড়া রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি যদি সন্তুষ্ট হন, তিনি যদি অনুমোদন দেন তাহলে গেজেট পাবলিকেশনে আর বিলম্ব^ হবে না।’ : আলোচনার মাধ্যমে খসড়া বিধিটি গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন,  ‘সেটারই চূড়ান্ত খসড়া করা হয়েছে। সোমবার সেটা সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে যে মুহূর্তে ফিরে আসবে, আমি আইন মন্ত্রণালয় থেকে সেটা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেব।’ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছিলেন, বিচার বিভাগে দ্বৈতশাসন চলছে। বর্তমান গেজেটের মাধ্যমে দ্বৈতশাসনের অবসান হতে যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা যখন বেরোবে, নিশ্চয়ই দেখবেন  দ্বৈতশাসন আছে কি না।’ : তিনি বলেন, ‘ওনার (এস কে সিনহা) এসব কথার প্রত্যেকটার জবাব আমি দিতে পারব না। আরেকটা কথা হলো, আপনারা দেখেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি চলে যাওয়ার পরে কত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়েছে। বাকিটুকু আপনারা বুঝে নিতে পারবেন।’ : নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি ও শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারকে ৩ ডিসেম্ব^র পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। গত ৫ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ সময় দেন। এর আগেও অসংখ্যবার সময় নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।  গত ১৬ নভেম্ব^র আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, গেজেট প্রকাশ নিয়ে সমস্যার সুরাহা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি যদি সন্তুষ্ট হন তাহলে তিনি গেজেট প্রকাশ করবেন। : আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্ব^র মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। গত বছরের ২৮ আগস্ট এই মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ জানান, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একই সঙ্গে ওই বছরের ৬ নভেম্ব^রের মধ্যে তা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নয় বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত বছরের ৩১ অক্টোবর এক বাণীতে বিচার বিভাগে দ্বৈত শাসন চলছে বলে উল্লেখ করেন। : তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর হাইকোর্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলা হয়েছে। কিন্তু ১১৬ অনুচ্ছেদে যে বিধান দেয়া হয়েছে তা বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ। : এই অনুচ্ছেদ অনুসারে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্য পদে সময়মতো বিচারক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচার কাজে বিঘœ ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ফেনী জেলা আ’লীগের নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার নেপথ্য নায়ক নিজাম হাজারী। এরপরেও আ’লীগ মিথ্যাচার করবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7919 জন