মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট হচ্ছে : ফরাসউদ্দিন
Published : Wednesday, 22 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 21.11.2017 10:54:32 PM
দিনকাল রিপোর্ট : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন বলেছেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা লেনদেনের এই পদ্ধতিতে ব্যাপক ‘লুটপাট ও ডাকাতি’ হচ্ছে। নিয়ামক পরিমন্ডল  (রেগুলেটরি ফ্রেইম ওয়ার্ক) না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এই মোবাইল ফান্ড ট্রান্সফারের নামে মোবাইল ব্যাংকিংকে তীব্র ভাষায় নিন্দা  ও ধিক্কার জানান। : ফরাস উদ্দিন বলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। দেশের ভেতরে বিনিয়োগে কিছু সমস্যা আছে। তাহলে কী এইভাবে দেশের বাইরে টাকা পাঠিয়ে দেবেন? শুধু বিচার-আচারের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি। গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. শামসুল আরেফিন ও মহাপরিচালক ড. মো.জাফর ইকবাল প্রমুখ। সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, বগুড়ায় তার এক শিক্ষককে কিছু টাকা পাঠাতে গিয়ে দেখেছেন এই লুটপাটের চিত্র। সেখানে গুণে গুণে ২ শতাংশ কেটে  রেখেছে। তারপর টাকা তুলতে গেলে শিক্ষকের কাছ থেকেও টাকা কেটে নিয়েছে। এই রকম লুটপাট ও ডাকাতি করছে। যেহেতু  কোনো নিয়ামক পরিমন্ডল নেই, তাই কাউকে ধরা যাচ্ছে না। আর ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কাটা হয়। : মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন বলেন, রেগুলেটরি ফ্রেইম ওয়ার্ক ছাড়া বাজার অর্থনীতি চলছে এবং এতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও তা আশানুরূপ হবে না। বাজার অর্থনীতিতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতিবাজ-লুটেরারা অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে। রেগুলেটরি ফ্রেইম ওয়ার্ক ছাড়া টেকনোলজিক্যাল অ্যাডভান্সমেন্টে চলে যান।  দেশে ই-কমার্সে কেনাকাটায় কর না থাকার সমালোচনা করেন তিনি। : সাবেক গভর্নর বলেন, সেখানে ট্যাক্স বসানোর জন্য পাঁচ বছর ধরে বলছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। ব্যক্তি পর্যায়ে বিদেশ থেকে ঋণ নেয়ার সুযোগেরও সমালোচনা করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩৩ বিলিয়ন ডলার পড়ে আছে, বাংলাদেশের মুদ্রা অবমূল্যায়ন হতে বাধ্য। যখন অবমূল্যায়ন হবে তখন স্বল্প সুদেও হবে না, অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। সুনির্দিষ্ট নিয়ামক না থাকায় আগে বিদেশ থেকে যারা ঋণ এনেছিলেন তাদের ৯০ শতাংশই নানা কৌশলে অর্থ পাচার করছে। : দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দেশে অনেক বড় বড় দুর্নীতবাজ আছে তাদের কাছে যেতে পারিনি। এটা আমাদের স্বীকার করতেই হবে। তবে ওইসব দুর্নীতিবাজের কাছে যাবার সাহস দুদকের (আমাদের) রয়েছে।  কখনো তাদের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করলে শেষ করব, মাঝপথ থেকে ফিরে আসব না। তিনি উন্নয়ন ও দুর্নীতিকে ‘যমজ ভাই’ উল্লেখ করেন।  দেশের উন্নয়নের সঙ্গে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরাই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যাবে। তাহলে জনগণের উন্নয়নের জন্য যে অর্থনৈতিক উন্নতি দরকার, সেটা করা সম্ভব হবে। : দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সম্পদের অসমতা থাকলেও আমরা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছি। এই উন্নয়নের সঙ্গে দুর্নীতির গতিকে টেনে ধরাই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। দুদক জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে পারেননি বলেও স্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা না থাকলে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ সময় তিনি জনগণকে হয়রানি না করতে দুদক কর্মকর্তাদের  অনুরোধ জানান। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় দুদক কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা ও সংস্থার নিজস্ব পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দুদকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ফেনী জেলা আ’লীগের নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার নেপথ্য নায়ক নিজাম হাজারী। এরপরেও আ’লীগ মিথ্যাচার করবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7930 জন