দুর্গাপুরে আলু নিয়ে বিড়ম্বনায় কৃষক
চাষী, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের বিপুল টাকা লোকসান
Published : Thursday, 23 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 22.11.2017 9:04:14 PM
দুর্গাপুরে আলু নিয়ে বিড়ম্বনায় কৃষকদুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহী দুর্গাপুরে সরকারের অব্যবস্থাপনার ফলে স্টোরজাত আলু নিয়ে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরা পড়েছেন বিপাকে। লাভ তো দূরের কথা লোকসান গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকার। মূলত আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের ভয়ে হিমাগার থেকে আলু তোলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে এবারে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক প্রকার বিপাকে পড়েছেন হিমাগার মালিকরা। হিমাগারে রক্ষিত আলু বিক্রির বিষয়ে এখনই সরকারি পর্যায়ে কোনো বিশেষ উদ্যোগ না নিলে বছর শেষে হিমাগার মালিকদের এই আলু ফেলে দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে হবে। নতুন আলু বাজারে আসবে আর মাত্র এক থেকে দেড় মাস পরেই। অথচ গত মৌসুমের আলু অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে দুর্গাপুর উপজেলার হিমাগারগুলোতে। ব্যাংক ও হিমাগার থেকে ঋণ নিয়ে এ বছর আলু চাষ ও ক্রয় করেছেন অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিমাগারের এক বস্তা আলু সংরক্ষণ করতে খরচ হয় খালি বস্তা ১০০ টাকা বুকিং খরচ ৩৬৫ টাকা ও অন্যান্য ৪০ টাকা ও আলুর মূল্য ৯৫০ টাকা সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৪৫৫ টাকা। অথচ বর্তমানে এখন বাজারে আলু বস্তাপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা বস্তা। ফলে ফলে আলু সংরক্ষরণকারী কৃষক ও  ব্যবসায়ীদের বস্তা প্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। এরপরও ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এখানকার খুরচা বাজারে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মানভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আলু। বাজারে দর কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় হিমাগার থেকে আলু বের করছেন না ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী আজগর আলী জানান, নতুন আলু বাজারে আসতে আর বেশি সময় নেই। আলুর দাম বৃদ্ধি না হলে সম্পূর্ণ আলু হিমাগারেই থেকে যাবে। তাদের মতে, হিমাগারে রক্ষিত আলু বিক্রির বিষয়ে সরকারে কোনো উদ্যোগ না থাকায় মূলত এ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এখনই সরকারি পর্যায়ে কোনো বিশেষ উদ্যোগ না নিলে বছর শেষে হিমাগার মালিকদের এই আলু ফেলে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। উপজেলার কানপাড়া বাজুখলসি গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী জানান, বেশি লাভের আশায় মৌসুমে ১ হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায় আলুর বস্তা বিক্রি না করে স্টোরে রেখেছিলাম। বর্তমানে আলুর দামসহ স্টোর ভাড়া দিয়ে বস্তায় ৫০০-৭০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষক গোড়খাই গ্রামের সৈয়দ হোসেন, মাড়িয়া গ্রামের লিটন আলী, দুর্গাদহ গ্রামের বাদল আব্দুলসহ একাধিক আলু সংরক্ষণকারী জানান, এ বছর হিমাগার ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে হিমাগারে প্রায় ১০ হাজার বস্তা আলু মজুদ রেখেছিলাম। বর্তমানে বাজারে যে অবস্থা তাতে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। এদিকে উপজেলার শালঘরিয়া গ্রামে অবস্থিত নিগার কোল্ডস্টোরের ম্যানেজার লিয়াকত আলী সরকার জানান, আলু চাষ ও ক্রয় করার জন্য তাদের সুবিধার্থে অনেক চাষী ও ব্যবসায়ী স্টোর কর্তৃপক্ষ এক বছরের জন্য বস্তা প্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা হারে মোটা অংকের ঋণ দিয়েছে। বর্তমানে বাজারে আলুর দামের যে দুরবস্থা এতে চাষী ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কোল্ডস্টোরের মালিকদের পথে বসতে হবে। তিনি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে তাদের স্টোরে এখনো ৩০ হাজার বস্তা আলু স্টোরজাত রয়েছে। ওই সব আলু স্টোরজাতের সময় আর মাত্র কয়েক দিন সময় বাকি অর্থাৎ আগামী ৩০ নভেম্ববর পর্যন্ত। এর মধ্যে চাষী ও ব্যবসায়ীরা যদি আলু নিতে না আসেন তাহলে তাদের বিশাল অংকের লোকসান গুনতে হবে। এ ছাড়া বাকি এ সময়ের মধ্যে আলু বের করা অসম্ভব। কারণ তাদের স্টোরে এক লটে ১০ হাজার বস্তা আলু স্টোর থেকে বের করে প্রক্রিয়াকরণের কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগে যায় প্রায় ১৫ দিন। এদিকে অনেক চাষী এ লোকসান পুষিয়ে নিতে চলতি মৌসুমে আলু চাষের কাজ শুরু করেছেন। : :  





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে বলে বিশ্বাস করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
26064 জন