অর্থনীতি ধ্বংস করে দিতে নতুন ব্যাংক আইন হচ্ছে : বিএনপি
Published : Thursday, 23 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 22.11.2017 10:39:42 PM
দিনকাল রিপোর্ট : ষড়যন্ত্র করেও আওয়ামী লীগের শেষ রা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বর্তমান ভোটারবিহীন বাকশালী  স্বৈরশাসকদের হটাতে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। তাই যতই ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগ করুক না কেন তাদের শেষ রা হবে না। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অচিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিতেই নতুন ব্যাংক আইন। রিজভী বলেন, আমরা বরাবরই বলে আসছি আওয়ামী লীগ নিজেরা অপকর্ম করে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর বাতিক অনেক পুরনো। আওয়ামী ঐতিহ্যে আইনের শাসনের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাস্তবে বেআইনি সরকার অপকর্মের ওপর নির্ভর করে নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করে। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও সহমর্মিতা জানাতে গেলে ফেনীতে তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। আপনারা সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, সেটি নিজেরা স্বচক্ষে দেখেছেন এবং আপনারা নিজেরাও আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ শত শত বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আটক করা হয়েছে বেশকিছু নেতা-কর্মীকে। তাদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হামলার মিথ্যা নাটকও সাজানো হয়েছিল। কিন্তু সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা কখনই সফল হয় না, শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। তিনি বলেন, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে গতকাল হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, সম্প্রতি কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যে হামলা হয় তার নেপথ্যে ছিল ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। তাছাড়া ফেনীতে যে অপকর্ম হচ্ছে সবকিছুই তিনি ও তার সহযোগীরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর মিথ্যা মামলা দিয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে। স্থানীয় প্রশাসনকে তিনি ব্যবহার করেছেন নিজের সন্ত্রাসী অপকর্মের সহযোগী হিসেবে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসকাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে এসব অভিযোগ করেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য আজহারুল হক আরজুসহ বেশ কয়েকজন নেতা। : লিখিত বক্তব্যে আরজু বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। সেদিন বেছে বেছে ডিবিসি, চ্যানেল আই, একাত্তর, বৈশাখী টেলিভিশন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুরো ঘটনার নেপথ্য নায়ক নিজাম হাজারী। অথচ ফেনীর উক্ত এমপির দুর্বৃত্তপনা পূর্ব থেকেই দেশের মানুষের কাছে অজানা নয়। ফেনীকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে এই এমপি। : আর নিজাম হাজারী বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে যে হামলা চালিয়েছে সেটি আরো ওপরে অর্থাৎ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়েই যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই। থলের বিড়ালকে বেশিক্ষণ আটকিয়ে রাখা যায় না। : বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরে মানুষের ঢল নেমেছিল। কক্সবাজার যাবার পথে পথে ছিল লাখো মানুষের ঢল। সরকারি বাধা, পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা, পরিবহনে সরকারি ধর্মঘট ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষের স্রোতে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা মহাসমাবেশে রূপ নেয়। যদি পথে পথে ব্যাপক বাধা না দেয়া হতো, যদি পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলা না করতো, যদি সরকারের লোকজন পরিবহন জোর করে বন্ধ করে না দিত তাহলে গোটা ঢাকা মহানগরী মিছিলের মহাসমুদ্রে পরিণত হতো। বন্ধুরা এ জনস্রোত দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বর্তমান ভোটারবিহীন বাকশালী স্বৈরশাসকদের হটাতে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। যতই ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগ করুক না কেন তাদের শেষ রক্ষা হবে না। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অচিরেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে ইনশাল্লাহ। : সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় বসার পর থেকে ব্যাংকিং খাতে যে সীমাহীন লুটপাট চলছে আরও বেশি লুটপাটের সুযোগ করে দিতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার। একই পরিবারের চার সদস্য থাকার সুযোগ তৈরি করে দিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন প্রস্তাব পাসের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। পরিচালকরা পদে থাকবেন ৬ বছরের পরিবর্তে ৯ বছর।  নতুন এই সিদ্ধান্তে বেসরকারি ব্যাংকে পরিবারতন্ত্র কায়েমের সুযোগ  তৈরি হবে। জাতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে মূলত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েক ব্যবসায়ীকে সুযোগ দিতেই ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এমনিতেই ব্যাংক-বীমাসহ দেশের  আর্থিক খাত ধসে গেছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে দেশের অর্থনীতি চোরাবালির ওপর বসে আছে। তার ওপর ক্ষমতাসীন দলের লোকজন একের পর এক বেশ কয়েকটি ব্যাংক দখল করে নিয়েছে। বর্তমান সরকার যেন মানুষের সর্বস্ব হরণকারী দস্যু দলে পরিণত হয়েছে। : সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন সরকার মানুষের বাক-স্বাধীনতা হরণ করতে একের পর এক কালো আইন তৈরি করছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে আজ কিছুই অবশিষ্ট নেই। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলে শুধু গণমাধ্যম বন্ধই নয় প্রতিনিয়ত হামলা ও খুনের শিকার হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। সাগর-রুনি হত্যার বিচার আজও হয়নি। এরই মধ্যে সাংবাদিকরা গুমেরও শিকার হয়েছেন। বিশেষ জায়গা থেকে ফোনের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সম্প্রতি গণমাধ্যম ও মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণরূপে হরণ করতে সম্প্রচার আইন করতে যাচ্ছে সরকার। অশ্লীল, অসত্য, মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য প্রকাশ, জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দেশের অখন্ডতার প্রতি হুমকি এই ধরনের বিষয় এনে সরকার এমন কালো আইন করতে যাচ্ছে। ওই আইনে ৫ কোটি টাকা জরিমানা এবং ৩ বছরের সাজার বিধান আছে। ক্ষেত্র বিশেষে উভয় দন্ডই প্রয়োগ হতে পারে। মূলত এই আইনের শিরোনামকে যতোই ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হোক না কেন, এটি যে বিরোধী দল, বহুমত, বিশ্বাস, স্বাধীন চিন্তার ওপর কুঠারাঘাত করার জন্যই এই আইন পাস করার তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। যাতে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা, বিরোধিতা ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বেপরোয়াভাবে দমন করার জন্যই এই আইন করা হচ্ছে। এই আইন পাস হলে একদলীয় দুঃশাসনের কালো অন্ধকার আরো ঘনীভূত হবে। এই ভোটারবিহীন সরকারের আমলে তাদের সৃষ্ট নানা গণবিরোধী আইনের মধ্যে এটি হবে আরেকটি ভয়াবহতম কালো আইন। বিরোধী কন্ঠকে স্তব্ধ করতে এই আইনটি গিলোটিন হিসেবে ব্যবহার হবে। বাংলাদেশের মানুষ এমন কালো আইন মেনে নেবে না। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের এহেন সম্প্রচার আইন-২০১৭ পার্লামেন্টে পাস করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। : তিনি আরো বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যন তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে দলের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হওয়ার সময় আওয়ামী সরকারের চিরাচরিত আক্রমণাত্মক আচরণের পনরাবৃত্তি হয়েছে। জেলায় জেলায় পুলিশ ও আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদেরকে আহত ও গ্রেফতার করেছে। যেমন- গতকাল বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে অনেক নেতাকর্মীকে আহত এবং যুবদল নেতা মোল্লা মাসুদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এছাড়া, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলাধীন কসবা পৌর বিএনপির সভাপতি আলী আশরাফ, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুদুর রহমান দিপু, সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান বাবু, যুগ্ম আহবায়ক সাদ্দাম হোসেন, আনোয়ার হোসেন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহেদুল খাঁ, যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শিমুল, কসবা টি আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফয়সাল আরেফিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। গতকাল বানোয়াট মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করে। আমি দলের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে বলে বিশ্বাস করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
26074 জন