গুরুদাসপুরে বিষটোপে পাখি শিকার
Published : Friday, 24 November, 2017 at 12:00 AM
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি                                                                                                                                                                   : শীতের আমেজ শুরু হতেই রঙ-বেরঙয়ের অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত চলনবিল। শীত মৌসুমজুড়েই দেখা যায় সাদা বক, বালিহাঁস, মাছরাঙ্গা, সারস, পানকৌড়িসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য পাখি। পানি নেমে যাওয়ায় চলনবিলের খাল-বিল, জলাশয়গুলোতে দেখা মিলছে পুঁটি, খলসে, দারকেসহ ছোট ছোট সব মাছ। এসব মাছ খাওয়ার লোভেই নানা প্রজাতির অতিথি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আশ্রয় নেয় চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, তাড়াশ ও চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন বিলে। এসব উপজেলায় মাছ আছে, দিগন্ত জোড়া বিল আছে, আসছে অতিথি পাখিও। দিগন্তজুড়ে উন্মুক্ত হাওয়ায় পাখা মেলে এক বিল থেকে আরেক বিলে উড়াউড়ি করে। অপরূপ রূপে সেজে ওঠে প্রকৃতি। পাখির এমন অবাধ বিচরণে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে একশ্রেণির লোভী মানুষ। তারা বিষটোপ-বড়শিসহ নানা প্রকার ফাঁদ পেতে নির্বিচারে শিকার করছে এসব অতিথি পাখি। পাখি শিকার করতে বাঁশের খুঁটি, কলা পাতা, খেজুর ডাল বেতের পাতা প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হচ্ছে ৬ থেকে ৭ ফিট উচ্চতার ফাঁদ। এসব ফাঁদের সামনে একটি বাঁশের মগডালে রাখা বক হাতে শিকারি দল বেঁধে উড়ে যাওয়া বক শিকার করছে। এভাবেই প্রতিদিন শিকারিরা চলনবিলের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে সারি সারি করে ফাঁদ পেতে এবং বিষটোপ-বড়শি দিয়ে সাদা বক, বালিহাঁস, মাছরাঙ্গা, সারস, পানকৌড়িসহ নানা প্রকার অতিথি পাখি শিকার করছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত এবং ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব উপায়ে পাখি শিকার চলছে। সরেজমিনে দেখা গেল শিকারির জালে বন্দি প্রায় শতাধিক বক-পানকৌড়ি প্রকাশ্যে হাটে নেয়া হচ্ছে বিক্রির জন্য। রাতের শেষ প্রহর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত শিকার করা হয়েছে এসব পাখি। কেউ কেউ হাট-বাজারে ফেরি করেও বিক্রি করছে, আবার কেউ-বা বাসায় গিয়ে বিক্রি করছে এসব পাখি। প্রতিটি বক ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, বালিহাঁস ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং এবং চাকলা পাখি প্রতিটি ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পাখি শিকারি জানায়, তারা চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, তাড়াশ-চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে মাঠে খুঁটি পুঁতে কলাপাতা, খেজুর ডাল দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা ফাঁদের সামনে একটি বাঁশের মগডালে রাখা হয় শিকারি বক। আকাশ দিয়ে বকের ঝাঁক নির্মিত ফাঁদের ওপর দিয়ে দল বেঁধে উড়ে যাওয়ার সময় শিকারি তার শিকারি বকটিকে নাচাতে থাকে। এক পর্যায়ে শিকারি বকটি ডাকাডাকি শুরু করলে উড়ন্ত বকের ঝাঁকটি বিশেষভাবে নির্মিত ঘরের (ফাঁদ) ওপর বসে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ঢাকা-নেপিদু সমঝোতা স্মারককে আপনি কি ধোঁকা বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
4672 জন