পিইসিতে ভাড়াটে পরীক্ষার্থী
বাউফলে স্কুল জাতীয়করণে কর্তৃপক্ষের প্রতারণা
Published : Friday, 24 November, 2017 at 12:00 AM
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফলে নাজিরপুর বিদ্যাসুন্দর বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের শর্ত হিসেবে আবেদিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। সরকারের এমন বিধি মানতেই ৭ জন ভাড়াটে পরীক্ষার্থী দিয়ে সরকারের সেই নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা (!) জানাতে প্রতারণার বিরল নজির উপস্থাপন করেছে বাউফলের একটি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই বিদ্যালয়ের নাম বিদ্যাসুন্দর রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে অনেক ধাপ পেরিয়ে আসতে হয়। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকাসহ বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ওই বিদ্যালয়টি নিয়মিত পরিদর্শন করার কথাও রয়েছে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার এটিওর। কিন্তু কিভাবে একজন ক্লাস্টার এটিওর চোখ এড়িয়ে ওই ভাড়াটে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিল এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ভাড়াটে পরীক্ষার্থীরা সবাই উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার এটিওর (সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা) যোগসাজশেই এ ভাড়াটে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল। গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে সরেজিমনে নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৭টি আসনই শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো. মাহবুববুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষার্থীরা কেন পরীক্ষা অংশ নিচ্ছে না তার কারণ আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বিদ্যাসুন্দর রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রাজীবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি একটু ব্যস্ত আছি আপনাকে একটু পরে ফোন করি বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে একাধিকবার তার মুঠো ফোনে কল দিলেও কলটি রিসিভ করেননি ওই শিক্ষক। এ বিষয়ে জানতে পরিচয় গোপন রেখে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সামসুল হক বেপারির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আছি বড় ঝামেলায়। আপনার স্কুলে যে এবার ভাড়া করে পরীক্ষার্থী আনছেন সাংবাদিকরা তো বিষয়টা জেনে গেছে। এখন এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কী বলবেন এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি জানান সাংবাদিকরা আবার জানল ক্যামনে (কীভাবে)। ভাই আমার সামনে লোক আছে আমি একটু ফ্রি হইয়া (হয়ে) ফোন দেই। : এ বিষয়ে ওই ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই। : পরে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিয়াজুল হকের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করলেও ফোন কলটি রিসিভ করেননি তিনি। তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ঢাকা-নেপিদু সমঝোতা স্মারককে আপনি কি ধোঁকা বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
4657 জন