নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে বাজার সয়লাব
Published : Friday, 24 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 23.11.2017 10:34:28 PM
নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে বাজার সয়লাবদিনকাল রিপোর্ট : ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার  অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শপিংমল, ঢাকা নিউ মার্কেট, বইয়ের দোকান  ও কাঁচা বাজারের দোকান থেকে শুরু করে প্রায় সব দোকানেই ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে ঢাকা শহরের পরিবেশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত পলিথিনের স্তূপ জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টির পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং শহরের ভয়াবহ জলাবদ্ধাতা সৃষ্টি হচ্ছে অল্প বৃষ্টিতে। ফলে রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা ও ১ মার্চ সারাদেশে পলিথিনের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। পলিথিনের বহুল ব্যবহারের কারণে ১৯৯৮ সালের বন্যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০০২ সালে নিষিদ্ধ হওয়ার পর জোরালো অভিযান ও আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে পলিথিনের ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু এর পর ২০০৬ সালের শেষের দিকে দেশের রাজনৈতিক পোপট পরিবর্তনের সময় থেকে এ ব্যাপারে নজরদারি শিথিল হয়ে পড়ায় আবার দাপটের সাথে পলিথিনের আবির্ভাব ঘটে। পরিবেশ সংরণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণের অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবে। একই ব্যক্তি যদি পরবর্তীতে অপরাধ করে তাহলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। এছাড়া বিক্রয়, প্রদর্শন, বিতরণ, পরিবহন ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে সর্বোচ্চ ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহারের নিদের্শ থাকা সত্ত্বেও তার বাস্তবতা ভিন্ন। প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা পলিথিন বিক্রয়ে তৎপর হয়ে ওঠেছে। : এ ব্যবসা পরিচালনায় গড়ে ওঠেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ুদ্র ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ ধরা পড়লেও মূল হোতারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যার ফলে সমূলে নির্মূল করা যাচ্ছে না পলিথিনের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন পাইকারি দোকানের মাধ্যমে বিক্রয় হচ্ছে এই নিষিদ্ধ পলিথিন। এছাড়াও বিভিন্ন হকার বাজারে বাজারে বিক্রয় করছে। পলিথিন বিষয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে মনিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি  জানান,  আমরা ক্রেতা। দোকানদার আমাদের যে ব্যাগ দিবে আমরা সেই ব্যাগ নিয়ে আসতে বাধ্য। দোকানদার আর্থিকভাবে যেখানে সুবিধা পাবেন তারা সেটাই  দেবেন। নাজমা বেগম মনে করেন বিভিন্ন ডিজাইনের কাগজের ব্যাগগুলো ভালো কিন্তু আমরা যে দোকানে যাই প্রতিটি দোকানে আমাদের পলিথিন ব্যাগ ধরিয়ে দেয়। : তুলি আক্তার বলেন আগে পাট ও কাগজের বিভিন্ন ব্যাগ দেয়া হতো কিšুÍ বর্তমানে নীল কালারের ব্যাগ দেয়া হচ্ছে। সরকারের প্রচারের ঘাটতি, পরিবেশ অধিদফতরের গাফিলতির কারণে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের সকলকে এই ব্যাপারের সচেতন হতে হবে, পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের নেতিবাচক দিকগুলো সকলের কাছে তুলে ধরতে হবে । সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা  করা যদি উৎপাদন ব্যবস্থাকে নজরদারি ও নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থ গ্রহণ করার উপর বেশি জোর দিতে হবে। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বিশিষ্টজনদের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তারা জানান, কেবল আইন প্রয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ভরসা না করে আমাদেরও সচেতন হতে হবে, বাঁচাতে হবে দেশ, রেখে যেতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য এক সুন্দর পৃথিবী। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ঢাকা-নেপিদু সমঝোতা স্মারককে আপনি কি ধোঁকা বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
4652 জন