বিদ্যুতের দাম ফের বাড়লো
Published : Friday, 24 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 23.11.2017 10:33:44 PM
আবদুল্লাহ জেয়াদ, দিনকাল : বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ল। নয় বারের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো। এবার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামী মাস থেকে নতুন এ হার কার্যকর হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিইআরসিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, দরিদ্র গ্রাহকদের (লাইফ লাইন) েেত্র বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। তবে এত দিন তাদের যে ন্যূনতম বিল (মিনিমাম চার্জ) দিতে হতো, সেটা আর থাকছে না। মিনিমাম চার্জ তুলে দেয়ার ফলে ৩০ লাখ দরিদ্র গ্রাহক উপকৃত হবে। আর সাত লাখ লাইফ লাইন গ্রাহকদের েেত্র বিদ্যুতের দাম কিছুটা বাড়বে। : আওয়ামী লীগ মতায় আসার পর ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো। এবার নয় বারের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ৩০ নভেম্বর আধা বেলা হরতাল ডেকেছে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। আটটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত এ জোট গতকাল সন্ধ্যায় সভা শেষে হরতালের র্কমসূচি ঘোষণা দেয়। খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল আহবান করেছে তারা। : বিইআরসি জানায়, পাইকারি েেত্র বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না। এ েেত্র দাম না বাড়ার কারণ, সরকার সেখানে ভর্তুকি দেবে। তাতে বছরে ৩৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়কে পাইকারি দাম হিসেবে ধরা হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছর মার্চে বিভিন্ন খাতে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার পর বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের কথা বলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এর পর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গত সেপ্টেম্বরে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে শুনানির আয়োজন করে। সেখানে পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে ডিপিডিসি গ্রাহক পর্যায়ে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ, ডেসকো ৬ দশমিক ৩৪, ওজোপাডিকো ১০ দশমিক ৩৬, আরইবি ১০ দশমিক ৭৫ এবং পিডিবি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং গ্যাসের সঙ্গে জীবনযাত্রার এত উপকরণের দাম বৃদ্ধির ফলে মানুষের জীবনে চরম ভোগান্তি নেমে আসবে বলে মনে করছেন নাগরিকরা। বিশেষ করে রাজধানীবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে লাগামহীন। : বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকারের মধ্যে থাকা একটি মহল সরকারকে বিব্রত করার জন্য একের পর এক বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চক্রান্ত করছে। এবার যে হারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কার্যকর করা হলে শিল্পকারখানা ধ্বংস হয়ে যাবে। ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে অনেক কারখানা মালিককে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে। এতে লাখ লাখ চাকরিজীবী বেকার হয়ে যাবে। তারা বলেন, বেসরকারি অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি কম রেটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিলেও সরকার সে প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। উল্টো সরকার বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বারবার সরকারকে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে। : দরিদ্র শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত লাইফ লাইন এক থেকে ৫০ ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘণ্টা) বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে বর্তমানে কোম্পানিভেদে প্রতি ইউনিটে পরিশোধ করতে হয় ৩ টাকা ৩৩ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। এক থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী গ্রাহকরা ইউনিট প্রতি ৩ টাকা ৮০ পয়সা দেন। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের মূল্য ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ১৪ পয়সা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ৩৬ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ৬৩ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য ৮ টাকা ৭০ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ৯ টাকা ৯৮ পয়সা। : কৃষিকাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্প ব্যবহারকারী পিডিবি, ডিপিডিসি, ডেসকো ও ওজোপাডিকোর গ্রাহকদের জন্য ইউনিট প্রতি ৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং আরইবি ও পবিস গ্রাহকদের জন্য ৩ টাকা ৮২ পয়সা নির্ধারিত আছে। ুদ্র শিল্প গ্রাহকদের জন্য ফ্যাট রেট ৭ টাকা ৬৬ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৯০ পয়সা এবং পিক সময়ে প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ২৪ পয়সা। অনাবাসিক খাতে বিদ্যুৎ বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের েেত্র ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ২২ পয়সা। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের েেত্র প্রতি ইউনিট ফ্যাট মূল্য ৯ টাকা ৮০ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ৮ টাকা ৪৫ পয়সা এবং পিক সময়ে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা। বৃহৎ শিল্পের (১১ কেভি লাইন ব্যবহারকারী) গ্রাহকদের জন্য ফ্যাট রেট প্রতি ইউনিটে ৭ টাকা ৫৭ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ৬ টাকা ৮৮ পয়সা, পিক সময়ে ৯ টাকা ৫৭ পয়সা। : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, বিশ্ব বাজারে তেলে দাম কমলেও জনগণের রক্ত চুষে খেতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো শুধু অযৌক্তিক ও গণবিরোধী নয় ভোটারবিহীন সরকারের লুটপাট নীতির বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের লুটপাটের আরো বেশি সুযোগ করে দিতেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আসলে জনগণের প্রতি ভোটারবিহীন সরকারের দায়বদ্ধতা নেই বলেই জনগণকে নিষ্পেষণ ও অপমান করতে এই দাম বৃদ্ধি। : রিজভী আরও বলেন, যেখানে বিদ্যুতের দাম কমানোর কথা সেখানে পূর্বের তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসায় এখন বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে বাড়বে ৩৫ পয়সা। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা শুধু অযৌক্তিক ও গণবিরোধী নয় ভোটারবিহীন সরকারের লুটপাট নীতির বহিঃপ্রকাশ। গোটা দেশটাকে গিলে খেতেই রক্তচোষা সরকার উন্মত্ত হয়ে পড়েছে। তারা ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজারসহ সমস্ত অর্থনৈতিক খাতকে তিলে তিলে খেয়ে তাদের স্বাদ মিটেনি। তাই বার বার গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে গরীবের রক্ত পান করাটাই যেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। শুধুমাত্র লুটপাটের জন্যই গরীবের সর্বশেষ সম্বলটুকু আত্মসাৎ করে সরকার আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ালো। : : : : : : : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ঢাকা-নেপিদু সমঝোতা স্মারককে আপনি কি ধোঁকা বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
4681 জন