শতকোটি টাকার অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে আবারো তৎপর সেই চক্র
Published : Saturday, 25 November, 2017 at 12:00 AM
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার শত কোটি টাকার অর্পিত সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে আবারো সেই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দুই ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিক পুরুষোত্তম পাডিয়া ও রাজারাম পাডিয়া সাজিয়ে কমিশনের মাধ্যমে নিজেদের অনুকূলে রায় করিয়ে নেয়ার পাঁয়তরা ফের শুরু করেছেন তারা। সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের ও গত রবিবার চুয়াডাঙ্গার একটি বাড়িতে কমিশন করানোর অপচেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানির এক পর্যায়ে কমিশনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও জোর গুঞ্জন রয়েছে। সরকারি ওই সম্পত্তিতে বসবাসকারী ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ওই জমিতে বসবাসকারীরা বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর মৃত রামজী পাডিয়ার ছেলে চুনিলাল পডিয়া এবং চুনিলাল পাডিয়ার স্ত্রী আইস্তা পাডিয়ার নামে আলমডাঙ্গার ৭২ নম্বর মৌজায় এস এ ৯৬৮, ৬৪৬, ৬৩৯, ২২৪৭, ১৪৭৫, ৬৬৬, ২৩৭৫, ১৯৭৪, ৭১৬, ৬৯৩, ৯৭০, ৬৩০ নম্বর খতিয়ানে শহরের সবচে আকর্ষণীয় কয়েক শ’ কোটি টাকার প্রায় ৯ বিঘা জমি ছিল। এসব জমিতে পডিয়া ওয়েল মিল, করাত কল, পাডিয়া বিল্ডিং, আড়তবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। পরে তারা ভারতের ব্যবসা বাণিজ্য গতে তুলতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাদের সন্তানরাও সপরিবারে ভারতে চলে যান। তৎকালীন পাাকিস্তান সরকার ওই সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ সরকার ওই সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত করে। এ সময় আলমডাঙ্গার অনেক গরিব সাধারণ মানুষ সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে বসবাস ও ব্যবসা করতে থাকেন। এদিকে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন পাসের পর একটি প্রভাবশালী চক্র শত কোটি টাকার এ সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু করে। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইনে বাংলাদেশের প্রকৃত এবং অব্যাহত নাগরিক ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার কথা বলা থাকলেও জালিয়াত চক্র ভারতীয় দুই নাগরিক পুরুষোত্তম পাডিয়া ও রাজারাম পাডিয়াকে এ দেশে এনে গোপনে ভোটার তালিকাভুক্ত করে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে নাগরিকত্বসহ ভুয়া বিদ্যুৎ বিলের কাগজ তৈরি, জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে। ঘটনাটি জানার পর ওই সম্পত্তি লিজ নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেন। শুরু হয় তদন্ত। এক পর্যায়ে সব কিছুই ভুয়া বলে প্রামাণিত হয়। অন্যদিকে আলমডাঙ্গা নাগরিক সমাজ মানববন্ধন, নির্বাচন অফিস ঘেরাওসহ লাগাতার নানা কর্মসূচি পালন করে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণ হয় গুমের সঙ্গে সরকারই জড়িত। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24312 জন