কপোতাক্ষের ভাঙনে পাঁচ শতাধিক পরিবার গৃহহীন
Published : Saturday, 25 November, 2017 at 12:00 AM
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছার কপোতাক্ষের অব্যাহত ভয়াবহ ভাঙনে পর্যায়ক্রমে ৬টি গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সম্পূর্ণ দরগামহল গ্রামটি। শুধু বাপ-দাদার ভিটা মাটিই নয়, ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে কবর স্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এক সময়ের জমিদাররাও আজ পরিবেশ উদ্বাস্তু হয়ে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তার পাশে, ওয়াপদার উপর কিংবা কারো বসতভিটায়। গত প্রায় এক দশকে কপোতাক্ষের অব্যাহত চোখ রাঙানিতে নদী উপকূলের এমন করুণ পরিণতিতে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারের বিভিন্ন দফতরে একের পর এক আবেদন-নিবেদন করলেও সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে এসে দাঁড়াননি কেউ। তাদের অভিযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনে একদিকে নদের নব্যতা হ্রাস অন্যদিকে করাল গ্রাসে পাল্টে গেছে নদীর মূল গতিপথ। সর্বশেষ সরকারের ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ খননে ভুক্তভোগীদের দাবি কপোতাক্ষের যৌবন ফেরাতে নদী ফিরে যাক তার মূল ঠিকানায়। কপোতাক্ষের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গেলে কথা হয় দরগা মহলের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সালাম উল্লাহর সঙ্গে। তিনি জানান, বসত ভিটাসহ তিনি প্রায় আড়াই বিঘা সম্পত্তি হারিয়েছেন কপোতাক্ষের ভাঙনে। প্রায় ২৫ বিঘা জমির মালিক ছিলেন শেখ আবু বক্কর। বসতভিটাসহ সমুদয় সম্পত্তি আগ্রাসী কপোতাক্ষ গিলে খেয়েছে। বাস্তু-ভিটা, ফসলিসহ প্রায় ১২ বিঘা জমির মালিক ছিলেন শেখ আ. মান্নান। গত প্রায় ১ দশকে চোখের সামনেই কপোতাক্ষ সব কিছু গ্রাস করেছে। শুধু তাদেরই নয়, উপজেলার হরিঢালীর সোনাতনকাটি, মাহমুদকাটি, রামনাথপুর, কপিলমুনির শিলেমানপুর, মালথ, হাবিবনগর, দরগামহলের বিস্তীর্ণ এলাকা এরই মধ্যে কপোতাক্ষের ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে মানচিত্র থেকে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে দরগামহল গ্রামটি। আজ আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই সেখানে। বিদ্যুতের খুঁটিগুলোও দাঁড়িয়ে রয়েছে পড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। অথচ কারোরই যেন কিছু করার নেই। : উল্লেখ্য, এর আগে পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়ক ভাঙনে নিপতিত হলে পার্শ্ববর্তী এলাকা অধিগ্রহণ করে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হলেও সেখানে বসবাসরত সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ফিরে তাকাননি কেউ। : ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে এর আগে তারা সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন করলেও কোনো কাজ হয়নি। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণ হয় গুমের সঙ্গে সরকারই জড়িত। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24311 জন