গুরুদাসপুরে বিনা হালে রসুন চাষ
Published : Saturday, 25 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 24.11.2017 9:08:15 PM
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি                                                                                                                                                              : গুরুদাসপুরে বিনা হালে রসুন চাষবন্যার পানি নেমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে চলনবিল অঞ্চলের ফসলের ক্ষেত। সেই সব ক্ষেতের আমন ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে নরম কাদা মাটিতে চলছে বিনা হালে রসুনের আবাদ। উপেক্ষাকৃত জমিতে কম খরচে বাড়তি লাভের আশায় কৃষকরা এ বিনা চাষে রসুন আবাদকে বেছে নিয়েছেন। সেটা প্রায় এক যুগ ধরে।  কারণ, অন্য ফসল উৎপাদনের জন্য জমি প্রস্তুত, বীজের প্রক্রিয়াকরণসহ নানা রকম উপকরণ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু নরম কাদা মাটিতে পুঁতে রসুন চাষের প্রক্রিয়া চলনবিল অঞ্চলে এক ভিন্নমাত্রা। এ চাষ পদ্ধতিটি ‘বিনা হালে রসুন চাষ’ হিসেবে পরিচিত। চলনবিল অঞ্চলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, তাড়াশ, চাটমোহরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় এখন চলছে রসুন চাষের ভরা মৌসুম। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি  অফিসের তথ্যমতে, উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলি গ্রামের কৃষক বিমল কুন্ড নামে একজন কৃষক প্রায় এক যুগ আগে আমন ধানের আবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আর্থিক অনটনের কারণে রবিশস্য আবাদ করতে পারছিলেন না। ঘরে থাকা সামান্য রসুন নরম কাদা মাটিতে পুঁতে রেখেছিলেন। ফসল ওঠার পর দেখে রসুনের ফলন ভালো ফলন হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হন তিনি। তার চাষ পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। পেয়ে যান উপজেলার সেরা কৃষকের পুরস্কার। তার পর থেকে চলনবিল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ‘বিনা চাষে রসুন’ আবাদের কারিসমা। নরম কাদা মাটিতে রসুন পুঁতে রাখার পর রোপণকৃত রসুনের উপরে ধানের খড় বা কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। ঢেকে দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যই রসুনের চারা গজায়। রসুনের চারা বেড়ে ওঠার পর সাথি ফসল হিসেবে একই জমিতে বাঙি, তরমুজ এবং জমির আইলে কালোজিরা, ধনে, মেতি লাগনো হয়। কোনো কারণে রসুনের দরপতন হলে কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম জানান, এই রসুন আবাদকে ঘিরে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গড়ে উঠেছে শ্রমিকের হাট। গুরুদাসপুর উপজেলার নয়াবাজার, কাছিকাটা, হাঁসমারী এবং বড়াইগ্রামের রাজ্জাকের মোড়ে এলাকায় বসে শ্রমিকের হাট। এসব হাট থেকেই শ্রমিক ছড়িয়ে পড়েন ক্ষেত-খামারে।  গত বৃহস্পতিবার  গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ ও নারী শ্রমিকের পাশাপাশি স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত অনেক দরিদ্র ছাত্রছাত্রীও স্কুল-কলেজের বেতন, হাত খরচ, প্রাইভেট পড়ার টাকা জোগাতে ব্যস্ত সময় পার করছে রসুনের জমিতে। নারী শ্রমিকরা কোলের শিশু সন্তানদেরও মাঠে নিয়ে এসে ছাতা বা কাপড়ের ছাউনি তৈরি করে বসিয়ে রাখছেন সেখানে। কৃষকের পাশাপাশি গৃহিণীরাও রসুন ভাঙার কাজ করছেন। অনেকে আবার বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। এক মণ রসুন ভাঙতে সময় লাগে দুই দিন। তাদের দিতে হয় ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। একই সঙ্গে মাঠে মাঠে চলছে রসুন পুঁতে রাখার কাজ। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণ হয় গুমের সঙ্গে সরকারই জড়িত। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24345 জন