সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান
হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমার দেশ প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে
Published : Saturday, 25 November, 2017 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, সরকার জোরপূর্বক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে রেখেছে। এর মাধ্যমে তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রই ফুটে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে আমার দেশ পত্রিকার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আমার দেশ পরিবার। : মাহমুদুর রহমান বলেন, আমার দেশ বন্ধ করে রাখার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এটা সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বন্ধ করে রেখেছে। দেশে গণতন্ত্র নেই বলেই সরকার এটা করতে পারছে। তিনি বলেন, মহামান্য হাইকোর্ট আমাদের পক্ষে রুল জারি করলেও রুলের নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমার দেশ প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে পত্রিকার পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারী চাকরিহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। : মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ‘ফ্রি, ফেয়ার এন্ড ফাংশনাল জুডিশিয়ারি’ না থাকলেও অনন্যোপায় হয়ে আমরা আদালতের কাছেই গিয়েছি। রিট দায়ের করেছি। আদালতকে বলেছি, ছাপাখানায় তালা দিয়ে রাখার কোনো এখতিয়ার পুলিশের নেই। পাঁচ বছর ধরে যে মামলার চার্জশিট দেয়া হয়নি, সেই মামলাকে উপলক্ষ করে আমার দেশের মতো একটি জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক এভাবে বন্ধ করে রাখা যায় না। একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি কোনো আইনে পুলিশ এভাবে বছরের পর বছর দখল করে রাখতে পারে না। কেন আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানার তালা খুলে মালিককে তা বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, আমার দেশ পত্রিকার যে ঋণ বর্তমান মালিকপক্ষ কোনোদিন গ্রহণ করেননি, সেই ঋণের দাবিতে একটি বেসরকারি ব্যাংককে দিয়ে ক্ষমতাসীন মহল বেআইনিভাবে আমাদের বন্ধ ছাপাখানা নিলামে উঠানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আদালত কত বিষয়ে রুল ও আদেশ দিচ্ছেন। কিন্তু আমার দেশের রুলটি নিষ্পত্তি করে কেন বিপুল সাংবাদিক-কর্মচারীর রুটি-রুজির সুযোগ করে দিচ্ছে না বুঝে আসে না। : আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক দ্বিতীয় দফায় পত্রিকাটি আক্রমণের শিকার হয়। আজ দীর্ঘ চার বছর সাত মাস ধরে পত্রিকাটি বন্ধ। আমাকে আমার দেশ অফিস থেকে গ্রেফতার করে দ্বিতীয় দফায় প্রায় চার বছর বন্দি করে রাখা হয় এবং রিমান্ডে নির্যাতন করা হয়। স্কাইপ কেলেঙ্কারি ফাঁস করার অভিযোগে আমার দেশের মাথার ওপর ৫৭ ধারার মামলার খড়গ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখার মাধ্যমে বেআইনিভাবে পত্রিকার ছাপাখানা তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অথচ একই সংবাদ ছাপার কারণে লন্ডনের ইকোনমিস্ট পত্রিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয় এবং পরে ওই মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমার দেশ সত্য রিপোর্ট এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরার কারণেই সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। আমরা আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছি এবং দেশবাসীর কাছে তাদের প্রিয় পত্রিকা প্রকাশে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি, মহামান্য হাইকোর্ট আমার দেশের রুল নিষ্পত্তি করে অবিলম্বে পত্রিকাটি প্রকাশের সুযোগ করে দেবেন। : তিনি বলেন, হাইকোর্ট আমাদের পক্ষে রুল জারি করলেও আজ পর্যন্ত সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি হয়নি এবং আমাদের ছাপাখানা পুলিশের দখলমুক্ত হয়নি। এখন আবার যে ঋণ আমার দেশ পত্রিকার বর্তমান মালিকপক্ষ কোনোদিন গ্রহণ করেনি, সেই ঋণের দাবিতে বেসরকারি ব্যাংককে দিয়ে ক্ষমতাসীন মহল বেআইনিভাবে বন্ধ ছাপাখানা নিলামে উঠানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের আদালত কত বিষয়ে স্যুয়োমোটো রুল ও আদেশ দিচ্ছেন। কিন্তু আমার দেশ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। : মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ‘৪০ আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ সাপেক্ষে কোনো পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসায় পরিচালনার জন্য আইনের দ্বারা কোনো যোগ্যতা নির্ধারিত থাকিলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্নœ প্রত্যেক নাগরিক যে কোনো আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের এবং যে কোনো সঙ্গত কারবার বা ব্যবসায় পরিচালনার অধিকার থাকিবে।’ : মাহমুদুর রহমান বলেন, ??একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি কোন আইনে পুলিশ এভাবে বছরের পর বছর দখল করে রাখতে পারে? কেন আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানার তালা খুলে সেটি বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না? হাইকোর্ট আমাদের পক্ষে রুল জারি করলেও আজ পর্যন্ত— সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি হয়নি। আমাদের ছাপাখানা পুলিশের দখলমুক্ত হয়নি। এভাবে ছাপাখানায় তালা দিয়ে রাখার কোনো এখতিয়ার পুলিশের আছে কি না সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহমুদুর রহমান। : সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণ হয় গুমের সঙ্গে সরকারই জড়িত। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24342 জন