বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে সকল ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে
Published : Saturday, 25 November, 2017 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মারাত্মক প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও নেমে আসবে টানাপড়েন। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব পড়বে রাষ্ট্রের অধিকাংশ সেক্টরে। বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সেক্টরেই এর নগ্ন প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শুধু সরকারি অফিস-আদালত কিংবা সরকারের লোকজনের মধ্যে বিদ্যুতের অতিরিক্ত মূল্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়বে কৃষি, সেচ খাতে, শিল্প-কারখানায়, খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং মেরামতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে বিদ্যুতের বিষয়টি। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যয়ও বাড়বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে। রাজধানীসহ সারাদেশেই স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় ভর্তিকালীন উন্নয়ন ফি’র সাথে বিদ্যুতের বিল যুক্ত করা হয়। সেখানেও নতুন করে বিল বাড়বে। বাড়িভাড়া, অফিস ভাড়ায়ও বিরূপ প্রভাব পড়বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে। অর্থাৎ সাধারণ জনগণের পকেট কেটে সাবাড় করা একটা অমানবিক উদ্যোগ বলেও মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা। : এদিকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গণমাধ্যমের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম যেখানে কমানো উচিত ছিল, সরকার সেখানে উল্টো বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি (বাড়ানো) করল। এটা মোটেও সুবিবেচনাপ্রসূত, ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সরকার না বুঝেই এমন জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এরকম অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তে গেছে।’ : তিনি বলেন, জনস্বার্থবিরোধী এ ধরনের সিদ্ধান্ত যেভাবেই নেয়া হোক, সেটা সরকারের জন্য বুমেরাং হচ্ছে। এই বিষয়টি দেশের একজন শিশুও বুঝতে পারছে। কিন্তু সরকার বুঝছে না। এই সরকারের একঘেয়েমি মনোভাব। দিন দিন সরকারকে জনবিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যাবে। : সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম রহমান বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়বে। এই বাড়তি মূল্যবৃদ্ধির দরুন উৎপাদন ও পরিবহন সব খাতের ব্যয় বাড়বে। এতে দ্রব্যমূল্যও বাড়বে। খরচ ব্যবসায়ীরা ভোক্তার কাছ  থেকে এ বাড়তি ব্যয় কড়ায়-গন্ডায় আদায় করে নেবে। ফলে বাড়বে দ্রব্যমূল্যও। এতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা তৈরি হবে। : বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী সাংবাদিকদের বলেন, অসময়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ভালো লক্ষণ নয়। এখন গ্রাহক পর্যায়ে বাড়লেও কিছুদিন পর হয়তো ইন্ডাস্ট্রি পর্যায়েও বাড়াবে। আবার এটি এমন একটি উপকরণ এর দাম কোথাও বাড়লে সেটার প্রভাব সর্বত্র দেখা দেয়। ফলে জনজীবনে এর একটা বিরূপ প্রভাব এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে পড়বেÑ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। : তিনি বলেন, আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের মূল্য ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে সরকার জনজীবনকে অতিষ্ঠ করার নীতি গ্রহণ করেছে। মূল্যবৃদ্ধির পৃষ্ঠপোষক সরকার নিজেই, সেখানে সাধারণ মানুষের ন্যায্যতা পাওয়ার কোনো জায়গায়ই আর থাকল না। তবে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিবেচনাপ্রসূত ও শতভাগ জনস্বার্থবিরোধী। এই অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত সরকারকে দিন দিন জনবিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেবে। যার খেসারত দিতে হবে আগামী নির্বাচনে। : আগামী ডিসেম্বর থেকে খুচরা গ্রাহকদের ওপর বিদ্যুতের দাম পুনঃনির্ধারণের বিষয়টি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানানোর পর এভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ভোক্তা অধিকার রক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। : এদিকে ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হচ্ছে বৃদ্ধি করা বিদ্যুতের নতুন মূল্য। সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী নেতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার মুখে গ্রাহক পর্যায়ে ফের বিদ্যুতের দাম বাড়াল সরকার। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিইআরসি। আগামী ডিসেম্বর  থেকে নতুন এ হার কার্যকর হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অষ্টম দফায় বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। এবার দাম বাড়ানো হয়েছে কেবল খুচরা পর্যায়ে। পাইকারিতে বিতরণ কেন্দ্রগুলোর জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না। : বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যমান ৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৬ টাকা ৮৫ পয়সায় দাঁড়াবে। তবে গ্রাহক শ্রেণি এবং ধাপভেদে এ দাম সাড়ে ৩ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘লাইফ লাইন’ গ্রাহকদের ন্যূনতম চার্জ তুলে দেয়া হয়েছে। এতে গরিব মানুষ উপকৃত হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত দু মাসে ৭ দফায় শুনানির পর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এ ঘোষণা দেয়া হল। দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলো ৩০ নভেম্বর সারাদেশে অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণ হয় গুমের সঙ্গে সরকারই জড়িত। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24358 জন