ফেরার পরিবেশ হয়নি : জাতিসংঘ
Published : Saturday, 25 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 24.11.2017 11:23:11 PM
ফেরার পরিবেশ হয়নি : জাতিসংঘদিনকাল ডেস্ক : রোহিঙ্গা নিয়ে সময়ের সবচেয়ে বড় সংকটে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে। রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতি এখনও হয়নি, বিশেষ করে এই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদে প্রত্যাবাসনের মতো পরিস্থিতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে এখনও হয়নি। রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্মতিপত্র সইয়ের পরদিন এক বিবৃতিতে একথা বলেছেন সংস্থাটির মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড। : জেনেভায় ইউএনএইচসির সদর দফতর থেকে দেয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এখনও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে (রোহিঙ্গাদের) ফেরার জন্য নিরাপদ ও স্থায়িত্বশীল পরিস্থিতি নেই। সেখান থেকে মানুষ এখনও পালিয়ে আসছে। রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগেরই ফিরে যাওয়ার জন্য কোনো ধরনের সংস্থান নেই। তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। উত্তর রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাওয়ার কোনো অধিকার এখনও নেই।’ গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে ‘নিরাপত্তা অভিযানের’ নামে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এ অভিযানকে এরই মধ্যে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছে; যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ। এরপর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ লাখের মতো রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এছাড়া আগে থেকেই পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এতে বাংলাদেশ আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। রাখাইনে শত শত বছর ধরে বসবাস করে এলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজেদের নাগরিক মনে করে না মিয়ানমার। আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবেÑ এমন আশাবাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির দফতরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে ওই সম্মতিপত্রে সই করেন। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আত্রিয়ান এডওয়ার্ড গতকাল শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্মতিপত্রে কী রয়েছেÑ তা এখনও তারা দেখেননি। : তবে সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর রাখাইনে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি যেন স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে হয় তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, ‘শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরা একটি অধিকার। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী শরণার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং এ ব্যাপারে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্মতিপত্রে তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন ও যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। : এদিকে নিরাপত্তাসহ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছে। মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম। : নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী অধিকারবিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভস্ম হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে বার্মা এখন তাদের উন্মুক্ত বাহুডোরে ফেরত নেবে এমন ধারণা হাস্যকর।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাবলিক রিলেশনের একটি স্টান্টবাজিতে সমর্থন না দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এটা স্পষ্ট করা উচিত যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ছাড়া কোনো প্রত্যাবাসন হবে না। ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ধারণার ইতি টানতে হবে। এছাড়া জমিজমা ফেরত দেয়া এবং ধ্বংস করা বাড়িঘর, গ্রাম পুনর্গঠনসহ আরো অনেক শর্ত দিতে হবে। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি বলেছেন, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি প্রধানত দেশটিতে বাসস্থানের প্রমাণ উপস্থাপন সাপেক্ষে হবে। এছাড়া প্রত্যাবাসন ‘নিরাপদ ও স্বেচ্ছায়’ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে দেশটির ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী তাকে বাধ সাধতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। : দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিক সমঝোতায় তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের কথা আছে। তবে এতে প্রত্যাবাসনের শর্তাবলী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কি ভূমিকা পালন করবে, বা তারা আদ্রৌ কোনো ভূমিকা পালন করবে কি না সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত নেই। ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র আন্দ্রে মাহেসিচ বলেন, ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআর-এর সম্পৃক্ততা থাকাটা প্রচলিত একটি চর্চা। যে কোনো ধরনের প্রত্যাবাসন চুক্তিকে আন্তর্জাতিক মানদন্ড মানা হচ্ছে কি না সেটা নিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করে ইউএনএইচসিআর।’ মি. মাহেসিচ জানান, তারা এখনও চুক্তির বিস্তারিত দেখেননি। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, দুই দেশের তরফে পৃথক যে দুটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আমলে নেয়া হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে, ভবিষ্যতে সহিংসতা থেকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা, তাদের বৈধ পরিচয়ের সমস্যা মেটানো এবং তাদের নিজেদের বাড়িতে ফেরত যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে কি না সেটা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকারবিষয়ক পরিচালক চারমেইন মোহাম্মদ বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়েছে। আর যখন কি না বাংলাদেশে এখনও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল অব্যাহত রয়েছে তখন তাদের ফেরতের চুক্তি ‘প্রিম্যাচিওর’। : : :  





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণ হয় গুমের সঙ্গে সরকারই জড়িত। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24313 জন