সুপারির রাজ্য উজিয়ালখান
বাম্পার ফলন ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত চাষীরা
Published : Sunday, 26 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 25.11.2017 9:04:58 PM
সুপারির রাজ্য উজিয়ালখানওমর ফারুক, ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলার পার্শ্ববর্তী উজিয়ালখান (কাউখালী) হাট। এ অঞ্চলে সুপারির ফলনে তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কালের বিবর্তনে ধান, পান হারিয়ে গেলেও  লাভজনক কৃষিপণ্য হিসেবে স্থান পেয়েছে সুপারি। কাউখালী উপজেলায় ব্যাপক হারে সুপারির চাষ হয়ে আসছে। এখনকার সুপারি মানে ভালো বলে সুপারির বাণিজ্যিক বাজার গড়ে উঠেছে। এবার এ উপজেলায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সুপারির বাজার ক্রমেই নিম্নমুখী হওয়ায় চাষীরা আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না। গত মৌসুমে চাষীরা সুপারিতে ভালো দাম পেয়ে লাভবান হলেও এবার ভালো দাম পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন চাষীরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৩৭০ একর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। এখন সুপারির ভরা মৌসুম। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপারির উৎপাদন ও বিক্রি চলবে। এবার সুপারির আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন চাষীরা। তবে দাম গত মৌসুমের তুলনায় কিছুটা কমতির দিকে। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সুপারি একটি অর্থকরী ফসল। আপদকালীন সুপারি বিক্রি করে সংসরের চাহিদা মিটছে অনেক কৃষকের। সুপারির চাষ লাাভজনক হওয়ায় অনেকেই এখন সুপারি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার পাকা ও শুকনো সুপারি কেনাবেচা হয় কাউখালীতে। কৃষক ও সুপারি ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, দেশে সুপারির অন্যতম উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের কাউখালী সুপরিচিত। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত সুপারির বড় অংশ দক্ষিণাঞ্চলের কাউখালীতে উৎপাদিত হয়। ফলে এখানে গড়ে উঠেছে সুপারির বাণিজ্যিক বাজার। উপকূলে সুপারির সবচেয়ে বড় মোকাম কাউখালী। দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা সুপারি নিয়ে বিক্রির জন্য কাউখালী শহরে গড়ে ওঠা সুপারির হাটে আসেন। এখানে প্রতি সপ্তাহের সোম ও শুক্রবার দুই দিন সুপারির হাট বসে। এ ছাড়া গাজিরহুলা, চৌরাস্তা, তালুকদারহাট, মিয়ারহাট, ধাবড়ী, নতুন বাজার, কেউন্দিয়াসহ ১০-১২টি ছোট-বড় হাটে সুপারি কেনাবেচা হয়। এসর হাটে সারা বছরই সুপারি কেনাবেচা চলে। তবে শুকনো সুপারির পিক মৌসুম ফাল্গুন থেকে আষাঢ় পর্যন্ত এবং পাকা সুপারির পিক মৌসুম শ্রাবণ থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত। এ সময় বেশির ভাগ সুপারি  ক্রয়-বিক্রি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরাও এখানে আসেন সুপারি কিনতে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পারসাতুরিয়া গ্রামের জামাল হোসেন জানান, আমার মতো অনেকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাড়ি থেকে সুপারি কিনে এনে এসব হাটে বিক্রি করেন। এখানে বছরে কোটি কোটি টাকার সুপারি কেনাব্চো হয়। অনেক কৃষকদের অভিযোগ  সুপারি আমদামি ছাড়াও বাজারে একটি চক্র সিন্ডিকেট করে সুপারির দাম কমিয়েছে বলে অভিযোগ, সুপারি চাষী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের। দালাল বাজারের সুপারি চাষী সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর সুপারির ফলন ভালো হওয়ায় খুশি হলেও ফলন অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় হতাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। কাউখালীর সুপারি ব্যবসায়ী শেখ লিটন জানান, কাউখালীতে প্রতি হাটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পাকা ও শুকনো সুপারির কেনাবেচা হয়। প্রতি বছর এই মৌসুমে বিভিন্ন হাট থেকে সুপারি কিনে মজুদ করে থাকি। শুকিয়ে ও পানিতে ভিজিয়ে সুপারি সংরক্ষণ করা হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ সুপারি এলসির মাধ্যমে ভারতে এবং ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। তিনি জানান, গত মৌসুমে সুপারির দাম ছিল অনেক ভালো। তবে এবার সুপারির দাম অনেক কমতির দিকে।  এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার বলেন, এবার সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। গত  মৌসুমের তুলনায়  উৎপাদন  বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। : :  





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো আশার আলো দেখতে পান?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24856 জন