দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত যাত্রীদের ভোগান্তি
Published : Sunday, 26 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 25.11.2017 11:04:04 PM
দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত যাত্রীদের ভোগান্তিস্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর, দিনকাল : দিনাজপুর হাবিপ্রবির ছাত্র ও মোটর পরিবহন মালিক গ্রুপ এবং  মোটর শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ কোনো সমঝোতা ছাড়াই আবারো শেষ হয়েছে। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা দুটি বাস পুড়িয়ে দেয়ার প্রতিবাদে ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় ধর্মঘট আহ্বান করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দিনাজপুর শহরের ইজিবাইকও চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। শ্রমিকদের একটি অংশের বক্তব্য, হুইপ না বলা পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে না। হাবিপ্রবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভিযোগ, হুইপের সমর্থিত সাবেক ভিসি রুহুল আমিন ও হুইপের ইন্ধনেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্ররা মারমুখী হয়েছে শুধু ভিসিকে কেন্দ্র করে। সাবেক ভিসির মেয়াদ বৃদ্ধি না করে বর্তমান ভিসি ড. এসএম আবুল কাসেমকে নিয়োগ দেয়ার পর থেকেই সাবেক ভিসি আওয়ামী সমর্থিত কিছু শিক্ষক ও হুইপ সমর্থিত কিছু ছাত্র নানাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করে আসছে। ছাত্র ও শ্রমিকদের বিরোধ শুরুর আগের দিন সাবেক ভিসির সমর্থিত কিছু আওয়ামী শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান ভিসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। এর পরের দিন বর্তমান ভিসির পক্ষে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও ছাত্র পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পিতভাবে হাবিপ্রবির সামনে ভবানী শংকর আগরওয়ালের একটি বাস (তৃপ্তি পরিবহন) জ্বালিয়ে দেয়। ইতিপূর্বেও ছাত্ররা একটি বাস পুড়িয়ে দিয়েছিল সেটিও ছিল তৃপ্তি পরিবহনের। বিভিন্নজনের প্রশ্ন, যখনই বাস পুড়ে তখনই তৃপ্তি পরিবহনের বাস ছাড়া আর কোনো বাস ছাত্ররা পায় না, নাকি তৃপ্তি পরিবহনকে হাবিপ্রবির ছাত্রদের জন্য সর্বদাই প্রস্তুত রাখা হয় পোড়ানোর জন্য? : প্রকাশ, গত বুধবার ২২ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বহন করা একটি বাসের সঙ্গে তৃপ্তি পরিবহন নামে একটি বাসের সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শহরের মহারাজা স্কুল মোড়ে শ্রমিক ও ছাত্রদের মধ্যে হালকা সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয়পক্ষের ৭ জন আহত হয়। আহত ৪ ছাত্র ও ৩ শ্রমিককে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  এই ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে দিনাজপুর হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তায় বাঁশ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এ সময় তৃপ্তি পরিবহনসহ দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিক ও মালিকরা। শুরু হয় পরিবহন ধর্মঘট। এই ধর্মঘটের ফলে দিনাজপুর জেলার সঙ্গে সারাদেশের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব বাস পোড়ানোর মূল হোতা সাবেক ভিসির সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনাটি পরবর্তীতে ফাঁস হয়ে গেলেও প্রশাসন কিছুই করতে পারছে না। : এ ঘটনায় গতকাল শনিবার থেকে দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন উত্তরাঞ্চলে সকল প্রকার যানবাহন অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট আহ্বান করে। অপরদিকে ক্যাম্পাসের সামনে মহাসড়কে ছাত্ররাও অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেয় এবং পুড়িয়ে দেয়া বাস দুটির অবশিষ্ট অংশ আবারো পুড়িয়ে দেয়। দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মেনে নেয়া হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। : হাবিপ্রবি ও শ্রমিকদের মধ্যকার এ ঘটনায় দিনাজপুর অচল হয়ে পড়েছে। জিম্মি হয়ে পড়েছে সমগ্র উত্তরাঞ্চল। জেলা প্রশাসন বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো আশার আলো দেখতে পান?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24918 জন