জিয়াউর রহমানের কৃষি বিপ্লবের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন তারেক রহমান : মির্জা ফখরুল
Published : Sunday, 26 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 25.11.2017 11:02:35 PM
জিয়াউর রহমানের কৃষি বিপ্লবের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন তারেক রহমান : মির্জা ফখরুলদিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি বিপ্লবের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের কোনো পদে ছিলেন না। তিনি সরকারে না থেকেও সরকারকে কৃষি খাতে উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন। জিয়াউর রহমান অনুধাবন করতে পেরেছিলেন কৃষি হলো দেশের অর্থনীতির প্রাণ। তাই তিনি প্রতিটি গ্রামে গ্রামে, মাঠে মাঠে কৃষকদের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। তাদের পাশে থেকে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়ে দেশকে দুর্ভিক্ষ থেকে উত্তরণ করেছিলেন। তারেক রহমানও তার বাবা জিয়াউর রহমানের মতো দেশের প্রতিটি এলাকায় কৃষকদের সুখ-দুঃখ জেনে বিনামূল্যে সার, বীজ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করলেন এবং কৃষকদের মুখে হাসি ফোটালেন। এই হলেন তারেক রহমান।   : গতকাল শনিবার বিকেলে গুলশানে হোটেল লেক শোতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইউনিভার্সিটি টিচার্স (এগ্রিকালচারাল সায়েন্স)-এর উদ্যোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিবস উপলক্ষে ‘তারেক রহমানের রাজনীতি এবং কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ?কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি। : বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা (সরকার) রোহিঙ্গা বিষয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে চুক্তি করে ফেললেন মিয়ানমারের সঙ্গে, ভাল কথা। কিন্তু আমরা পেলাম কী? কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিং করেছেন ২০১৬-তে যারা এলো শুধু তাদের ফেরত নেবে। বাকিগুলোর ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলবে না। তাও আবার কখন থেকে ফেরত নেবে, কবে শেষ হবে তাও কিছু বলা হয়নি। : মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, জাতিসংঘকে সম্পূর্ণ বাইরে রেখে, অন্য দেশগুলো যারা ইন্টারেস্টেড তাদের বাইরে রেখে এই কাজগুলো করে আসলেন অতি দ্রুততার সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী এ কবারও গেলেন না মিয়ানমার বা চীন বা ভারত বা রাশিয়ায় যে এই জিনিসগুলো আমাদের পক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে। আমরা বারবার বলেছি ডিপ্লোমেটিক যে যে এফোর্স, সেই এফোর্সগুলো আমরা দেখতে পেলাম না। : একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্সে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যে ভাষণ দিয়েছেন তাকে ‘ঐতিহাসিক’ মন্তব্য করে ‘ঢাকঢোল পিটিয়ে সমাবেশ’ করার সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ৭ মার্চের যে ভাষণ ঐতিহাসিক ভাষণ। নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক ভাষণ। ইউনেস্কোর একটার তালিকায় এই ভাষণ যুক্ত হয়েছে। খুব ভাল কথা তো। অস্বীকার কে করেছে? আপনারা এত বছর পরে হঠাৎ ঢাকঢোল পিটিয়ে নামছেন, তখন কিন্তু দেশের মানুষ কষ্টে আছে। হাওর এলাকাসহ সিলেট-সুনামগঞ্জে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আবারো চালের দাম ৬০ টাকা হয়েছে। বলেছেন বিনামূল্যে সার দেবেন, এখন সেই সারের দাম তিন গুণ আগের চেয়ে। : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বড় গলায় বড় বড় অনুষ্ঠান করে স্কুলের ছাত্রছাত্রী-শিক্ষকদের সরকারি চিঠি পাঠান হাজির হতে হবে। না হলে সরকারি অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে, চাকরি চলে যাবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিঠি দেন হাজির না হলে ৫-৬ দিনের বেতন কাটা যাবে। বিশাল বিশাল সমাবেশ করে লেক তৈরি করা হয়েছে। সেই লেকের পাশে স্টেজ নির্মাণ করে বুলেট প্রুফ মঞ্চের মধ্যে বক্তৃতা দিয়ে এই কথা বলা হয় যে, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। : দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তা শুধু ক্ষমতাসীনদের পকেটে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ডেভেলপমেন্ট কার হচ্ছে? ডেভেলপমেন্ট আপনাদের হচ্ছে। উন্নয়ন হচ্ছে আপনাদের উন্নয়ন, গুটিকতক মানুষের ?উন্নয়ন। যারা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে একদিকে বিদ্যুৎ খাত থেকে লুটছেন, অন্যদিকে মেগা প্রকল্প, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে ইত্যাদি করে লুটপাট করেছেন। এই উন্নয়নের কথা বলে তারা (ক্ষমতাসীন) তাদের পকেটের উন্নয়ন করছে। তারা নিজেদের বিত্ত তৈরি করছে, সেই বিত্ত তৈরি ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না। কিছুদিন আগেও পত্র-পত্রিকায় সংবাদ বেরিয়েছে, বাংলাদেশে কিছুসংখ্যক মানুষ অনেক উন্নত হচ্ছে, তাদের বিত্ত বাড়ছে আর কিছুসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার আরো নিচে চলে যাচ্ছে। : তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন শেষ হয়ে গেছে। এখানে তাদের পছন্দমতো লোককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে এবং দলীয়করণ করা হচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। বিচার বিভাগ শেষ করে ফেলেছে। প্রধান বিচারপতিকে মতের মিল না হওয়ায় তাকে প্রথমে এক মাসের ছুটি নিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং পরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, স্থায়ীভাবে চলে যেতে হয়েছে এবং তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। : সংসদ নেই। যে সংসদ এটাকে সংসদ বলা যায় না। ১৫৪ জন অনির্বাচিত এবং শতকরা ৫ ভাগ ভোটে সংসদ দাঁড়িয়ে আছে। এই সংসদে একটা বিরোধী দল আছে, তারা সরকারে আছে। তাহলে রাষ্ট্রের পিলারগুলো কোথায়? টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাসটেইনেবল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট হতে হলে সাসটেইনেবল ডেমোক্রেসি দরকার। সে জন্য সবার আগে দরকার একটা নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং সকল দলের অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। সেই নির্বাচনে অবশ্যই জনগণ অংশ নেবে এবং তারা যে রায় দেবে সেটা জনগণের সরকার তৈরি করবে। : কৃষি উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার নানা পদক্ষেপ এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইদ্রিস মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক তাসমেরী এস ইসলাম, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুজ্জামান কায়সার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন কচি, অধ্যাপক মো. মাহবুব আলম, অধ্যাপক আমীর হোসেন, অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক সিদ্দিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আবু তালেব, দেলোয়ার হোসেন টিটু, সামিউল ইসলাম, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, তৌহিদুল ইসলাম, এনামুল কাদির প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো আশার আলো দেখতে পান?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24934 জন