খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিলে উচ্চমূল্য দিয়ে সরকারকে পালাতে হবে : আমীর খসরু
Published : Sunday, 26 November, 2017 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : সরকারকে উদ্দেশ্য করে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আপনারা ঘরে ফসল তুলবেন সেটা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। বরং এর জন্য উচ্চমূল্য দিয়ে আপনাদেরকে পালাতে হবে। তিনি বলেন, একজন আইনমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের কথা শোভা পায় না। বিচার বিভাগ যে তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারই প্রতিফলন ঘটেছে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে। : গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়োজন ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশ প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সমাবেশকে স্বাগত জানাই। একটা গণতান্ত্রিক দল হিসাবে প্রতিটি দলেরই সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। তবে কয়েকদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই আরেকটি সমাবেশের আয়োজন করেছিল বিএনপি এবং সেই সমাবেশ করার জন্য ২৩টি শর্ত দেয়া হয়েছিল, সমাবেশে যেন লোকজন না আসতে পারে তার জন্য গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এটা কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো? একদল সরকারি সকল সুবিধায় নির্বাচনি প্রচারণা করবে অন্যদল সাধারণ সকল সুযোগ-সুবিধা পাবে না এটা তো গণতন্ত্র নয়। আজ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই নির্বাচনকালীন সময়ে থাকবে এর তো কোনো আশাই দেখছি না। : নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো চিন্তা করে তাহলে তারা ভুল করছে। আগামী নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষ প্রস্তুত। তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সেই ধরনের নির্বাচন করার কোনো সুযোগ থাকবে না। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন,  আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্যই এই চুক্তি করা হয়েছে। এটা একটা ওপেন চুক্তি। কবে থেকে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে এবং কতদিনের মধ্যে পাঠানো হবে নির্দিষ্ট কোনো কিছুই নেই এই চুক্তির মধ্যে। এটা শুধুমাত্র জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্যই করা হয়েছে। : পরামর্শ বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার তো শাস্তি হয়ে গেছে, গতকাল আইনমন্ত্রী বলেছেন তার নাকি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আইনমন্ত্রী যদি এ কথা বলেন এই সিগনালটা কি? নিচের বিচারকদের কাছে সিগনাল নাকি? এখানে কি হাইকোর্টের করণীয় নেই? অন্তত হাইকোর্ট একটি সুয়োমটো জারি করে বলতে পারে একটি বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে বক্তব্য রাখার অধিকার আইনমন্ত্রীর নেই। আইনমন্ত্রীকে মানহানির মামলায় অভিযুক্ত করা উচিত। : আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক দিলারা চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, ড. সুকোমল বড়–য়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো আশার আলো দেখতে পান?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24860 জন