সরকারি উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা রাজধানীজুড়ে মানুষের চরম দুর্ভোগ
Published : Sunday, 26 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 25.11.2017 11:03:40 PM
সরকারি উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা রাজধানীজুড়ে মানুষের চরম দুর্ভোগদিনকাল রিপোর্ট : আনন্দ শোভাযাত্রায় তীব্র যানজটে ভোগান্তির কবলে পড়ে নগরবাসী। গতকাল দুপুর হতে না হতেই তা মিলছে গিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। আর সেই আনন্দ মিছিল তীব্র ভোগান্তি বাড়িয়েছে নগরবাসীর। তীব্র যানজটে থমকে যায় রাজধানী। প্রধান সড়কের যানজটের প্রভাব পড়ে মহল্লাসহ অলি-গলিতেও। অসহনীয় যানজটে সাধারণ মানুষের দুঃখের যেন অন্ত ছিল না। যানজট বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রাজধানীতে আসা রোগীদেরও। গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেঁটে আসতে দেখা গেছে অনেক বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় ঢাকায় আনন্দ শোভাযাত্রায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণ করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহা. শফিউল আলম নোটিশ (চিঠি) জারি করেন। এর ফলে একরকম বাধ্য হয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উদ্দেশে রওনা দেয় শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার সময় আশপাশের সড়ক ১ ঘন্টা বন্ধ রাখা হয়। ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অচল হয়ে পড়ে ট্রাফিক পরিস্থিতি। পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, শোভাযাত্রাটি মিরপুর রোডের রাসেল স্কয়ার দিয়ে কলাবাগান হয়ে সায়েন্স ল্যাব থেকে বাঁয়ে মোড় নিয়ে বাটা সিগন্যাল-কাঁটাবন ক্রসিং হয়ে শাহবাগে যায়। শাহবাগ থেকে ডানে মোড় নিয়ে চারুকলা ইনস্টিটিউটের বিপরীত পাশে ছবিরহাট হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। এর প্রভাবে রাজধানীর ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, সাইন্স ল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল, শাহবাগসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। আধা ঘন্টার আগে কোনো সড়কের সিগন্যাল পার হওয়া যায়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশ শোভাযাত্রার রুট নির্ধারণ করে দিলেও বিচ্ছিন্নভাবে অন্যান্য সড়ক থেকেও শোভাযাত্রা নিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে যাচ্ছে অনেকে। এতে যানজটে পড়েছে রাজধানীর অন্যান্য এলাকায়ও। এছাড়া বনানী, মহাখালী ও জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় সৃষ্টি হয় যানজট। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে রামপুরা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে চলতে দেখা যায় যানবাহন। ডিএমপির ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম বলেন, ‘শোভাযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিছু সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়। পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। কিন্তু শোভাযাত্রাগুলো খন্ড খন্ড আকারে আসায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে যানজট নিয়ন্ত্রণে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে।’ এদিকে বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন  প্রধানমন্ত্রী। তার চলাচলের কারণে তার কার্যালয় থেকে  সোহরাওয়াদী পর্যন্ত সড়কের দু পাশ ও আশপাশের গলিতে যান চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। এছাড়া বন্ধ রাখা হয়েছে শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবনের সড়কের দু পাশ। যানজটের প্রভাবে সড়কে নামেনি গণপরিবহন, ভোগান্তিতে পড়েছে জনগণ। রাজধানীর হেয়ার রোডে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক বন্ধ থাকায় বিভিন্ন কোম্পানির বাস ও মিনিবাস বন্ধ করে ওখানে রাখা হয়েছে। জাকারিয়া নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানান, ধানমন্ডি থেকে হেঁটে পল্টনে এসেছি। একদিক বন্ধ, অন্যদিকে সড়কে যানজট। বাস নেই। অনেকে রাস্তায় হেঁটে চলাফেরা করেছেন। ধানমন্ডির কমফোর্ড হাসপাতালের সামনে শরিফুল ইসলাম নামে এক রিকশাচালকের সাথে কথা হয় সোয়া ৪টায়। তিনি বলেন, ‘মামা গুলিস্তান থেকে শাহবাগ আসতে ৪ ঘন্টা সময় লাগল।’ রিকশার যাত্রী সমাপ্তি রানী বলেন, প্রচন্ড রোদ আর যানজটে আমার মা অসুস্থ হয়ে যান। আমাদের এখনো দুপুরের খাবার খাওয়া হয়নি। রাজধানীর যানজট নিয়ে ফেসবুকের ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ঢাকাবাসী। গ্রুপে সবাই ছবিসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের ভয়াবহ যানজটের ছবি পোস্ট করেছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো আশার আলো দেখতে পান?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24858 জন