ইতিহাস বিকৃতকারীদের ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী
Published : Sunday, 26 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 25.11.2017 11:03:05 PM
ইতিহাস বিকৃতকারীদের ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রীদিনকাল রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে ইতিহাস বিকৃতকারীদের আর ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে কোনোভাবেই যেন স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, খুনি ও ইতিহাস বিকৃতকারীরা আর ক্ষমতায় আসতে না পারে। সেদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেসকোর প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি উপলক্ষে গতকাল শনিবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘদিন ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করতে দেয়া হয়নি। এই ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সত্য ইতিহাস চিরভাস্বর। ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের কথা বলেছিলেন ৭ মার্চের ভাষণে। গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলেছিলেন।  শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু এই দেশের মানুষকে রাজনৈতিক মুক্তি দিয়েছেন, অর্থনৈতিক মুক্তি দেয়ার পথে হাঁটা শুরু করেছিলেন। দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তখনই স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যাই করা হয়নি, তার আদর্শ নষ্ট করে এ দেশে রাজাকার-খুনিদের ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়ার কারণে শেখ হাসিনা ইউনেসকোকে ধন্যবাদ জানান। : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শাসনতন্ত্র রক্ষাসহ জাতির জীবনের প্রত্যেকটি অর্জনে আওয়ামী লীগ জড়িত। বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন ছয় দফা। তিনি এ ছয় দফা দিয়েই বসে ছিলেন না, তিনি এটা নিয়ে সারা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। ফলে তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেয়, তাকে ফাঁসি দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাঙালিরা তার প্রতিবাদ করেছে। বাংলার ছাত্রসমাজ, বাংলার জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে বারবার।’ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, এত দূরদর্শী ও এত নির্দেশনা বিশ্বের আর কোনো ভাষণে নেই। এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের কথা বলেছিলেন, গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি জয় বাংলা বলে তার ভাষণ শেষ করেছিলেন। : তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষকে রাজনৈতিক মুক্তি দিয়েছেন, অর্থনৈতিক মুক্তি দেয়ার পথে হাঁটা শুরু করেছিলেন। দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তখনই স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ নামটাও বঙ্গবন্ধুর দেয়া। প্রধানমন্ত্রী  বলেন, সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যাই করা হয়নি, তার আদর্শ নষ্ট করে এ দেশে খুনিদের ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। : শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বে এখন আমরা উন্নয়নের রোল মডেল। শিগগিরই এই জাতি অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে। ২০২১ সালে এ দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ।’ তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি যারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন তাদেরও স্বীকৃতি। বিশ্বে এখন আমরা উন্নয়নের রোল মডেল। শিগগিরই এই জাতি অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে। : সমাবেশ উপলক্ষে দুপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে থাকেন রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সরকারি চাকুরে, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুপুর থেকেই চলে নানা আয়োজন। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি উপভোগ করেন আগত অতিথিরা। বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে সরকারি চাকুরেদের সমাবেশে ভাষণ দিতে উপস্থিত হন। : এর আগে এ উপলক্ষে গতকাল দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি কলাবাগান-সায়েন্স ল্যাব হয়ে শাহবাগ গেট দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে। পরে বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে মিলিত হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, সব মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নিয়েছেন। আনন্দ শোভাযাত্রায় আরও উপস্থিত আছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ। : শোভাযাত্রায় আরও অংশ নিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিশু-কিশোর, ক্রীড়া সংগঠক ও খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক, শিল্পকলা একাডেমি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, এনজিও, স্কাউটস ও রোভার, পুলিশের সুসজ্জিত ঘোড়া, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুসজ্জিত বাদক দল ও সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয় দলীয় লোকজন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো আশার আলো দেখতে পান?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24928 জন