রোহিঙ্গাদের ফেরা নিয়ে ধোঁয়াশা
Published : Sunday, 26 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 25.11.2017 11:02:52 PM
রোহিঙ্গাদের ফেরা নিয়ে ধোঁয়াশারাশেদুল হক, দিনকাল : বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াবিষয়ক সমঝোতার পর তাদের ফিরে যাওয়া নিয়ে আরো অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিবে মিয়ানমার এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও বলেছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হলেও কবে নাগাদ শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া সম্ভব নয়। এতে কোনো লাভও নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো। আর এ লক্ষ্য অর্জনে পুরো পৃথিবী বাংলাদেশের সাথে আছে। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়ার পরিবেশ এখনও হয়নি। শুক্রবার জাতিসংঘ বলেছে, ফেরত যাওয়ার প্রক্রিয়া অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুসরণ করে হতে হবে। প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ ও সম্মানজনক। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ নেই। সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে রোহিঙ্গারা এখনো বাংলাদেশে আসছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ কাজে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছে। : বিএনপি মহাসচিব সির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ‘সমঝোতা চুক্তি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গতকাল শনিবার বিকালে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা(সরকার) রোহিঙ্গা বিষয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে চুক্তি করে ফেললেন মিয়ানমারের সঙ্গে ভালো কথা। কিন্তু আমি পেলাম কী? আমি যে পেলাম, কিছুক্ষন আগে জানতে পারলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্রিফিং করেছেন ২০১৬ তে যারা আসলো শুধুমাত্র তাদের ফেরত নেবে। বাকীগুলোর ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলবে না। তাও আবার কখন থেকে ফেরত নেবে, কবে শেষ হবে তাও কিছু বলা হয়নি। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ জাতিসংঘকে সম্পূর্ণ বাইরে রেখে অন্যান্য দেশগুলো যারা ইন্টারেস্টেড তাদের বাইরে এই কাজগুলো করে আসলেন অতিদ্রুততার সঙ্গে।” ‘‘প্রধানমন্ত্রী একবারও গেলেন না মিয়ানমারে বা চীনে বা ভারতে বা রাশিয়ায় যে এই জিনিগুলো আমাদের পক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করা।। আমরা বার বার বলেছি ডিপলোমেটিক যে  যে এফোর্স, সেই এফোর্সগুলো আমরা দেখতে পেলাম না।”  ২৫ অগাস্টের পর নতুন : করে বাংলাদেশে আসে সোয়া ছয় লাখের : বেশি রোহিঙ্গা। : বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) সাখাওয়াত হোসেন এক টকশোতে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে যে অ্যারেজমেন্টে দু দেশ স্বাক্ষর করেছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর যেভাবে চাপ অব্যাহত রেখেছে এ অবস্থায় মিয়ানমার অ্যারেজমেন্ট স্বাক্ষর করে চাপ কিছুটা হলেও কমিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ যেহেতু অ্যারেজমেন্টে স্বাক্ষর করেছে সে ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের সহযোগিতা ও চাপ অনেকটাই এখন কমে যাবে। ফলে নিরাপদে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অনেকটাই ব্যাহত হবে। আরেকটা প্রশ্ন এখানে এসেই যায়, রোহিঙ্গারা যদি মিয়ানমারকে নিরাপদ মনে না করে তারা যেতে চাইবে না। সে ক্ষেত্রে আরও জটিলতা তৈরি হয় কি না দেখতে হবে। এছাড়া এখনও রোহিঙ্গারা সে দেশ থেকে আসছে সেটাও ভেবে দেখতে হবে। আর ফেরতের সময়সীমা বিষয়ে তো প্রশ্ন রয়েছেই। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে ধোঁকা দিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এমন চুক্তি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, কবে থেকে ফিরিয়ে দেবেন এ রকম কিছু বলা হয়নি। গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে একটি চুক্তি করা হয়েছে। এটা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে ধোঁকা দিতে করা হয়েছে। বলা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়ার কাজ শুরু হবে। কিন্তু কতদিনের মধ্যে ফেরত দেয়া হবে তা বলা হচ্ছে না। রোহিঙ্গা চুক্তি করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে কতদিনের মধ্যে ফেরত দেয়া হবে তা স্পষ্ট উল্লেখ ছিল। : মিয়ানমারের রাখাইন থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে দলে দলে প্রথমবার পালিয়ে আসে ১৯৭৮ সালে। তখন তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ প্রসঙ্গে মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে শহীদুল হক বলেন, ‘১৯৭৮ সালের চুক্তিতে বলা ছিল ছয় মাসের মধ্যে সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়া হবে। পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ফিরে গিয়েছিল।’ : ১৯৯২ সালে আবারও দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। ওই সময় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আরেকটি সমঝোতা হয়। তবে এতে সময়সীমা নির্দিষ্ট করা ছিল না। এ কারণে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩ বছরে ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা ফিরে গেছে। : সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে বলেন, ‘এখনকার চুক্তিতে সময় নির্দিষ্ট করা না থাকলেও ১৯৯২ সালের গতিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে কতদিন লাগবে তা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।’ : নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শহীদুল হক বলেন, ‘২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিয়ানমার সফরের সময় প্রত্যাবাসনের জন্য ৬ হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা দেয়া হয়। কিন্তু সেটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি।’ : রোহিঙ্গাদের যদি মংডুতে কোনো ক্যাম্পে রাখা হয় তাহলে বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছে ইসরাইলের গাজার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাবেক এই ডিফেন্স অ্যাটাশে। : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া শুরু হবে। আবার টিভিতে দেখা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারে সাংবাদিকদের বলেছেন ভিন্ন কথা। ঠিক বুঝতে পারছি না কোনটা ঠিক।’ সাবেক রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘১৯৯২ সালের সমঝোতা এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে বর্তমানে নতুন একটি ফর্মুলা প্রয়োজন।’ : প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জরুরি, যেন তারা রাখাইনে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয়।’ : এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আড্রিয়ান এডওয়ার্ডস গত শুক্রবার জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের একটি সমঝোতায় পৌঁছার খবরকে ইউএনএইচসিআর আমলে নিয়েছে। কয়েক দশক ধরে চরম বৈষম্য ও নাগরিকত্বের বঞ্চনার মধ্যে সহিংসতার পরিপ্রক্ষিতে গত ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় ছয় লাখ ২২ হাজার লোক মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালায়। তিনি বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর এখনো সমঝোতার বিস্তারিত দেখেনি। শরণার্থীদের (রোহিঙ্গাদের) ফেরার অধিকার আছে।’ : তাদের সেই অধিকার চর্চায় আন্তর্জাতিক মানদন্ডের আলোকে কোনো কাঠামো হলে তাকে স্বাগত জানানো হবে। এর অর্থ হলো, প্রথমে ও সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই স্বেচ্ছায় হতে হবে, আর স্থায়ী সমাধানের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিস্থিতিতে হতে হবে।’ : ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আরো বলেন, ‘বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের যে পরিস্থিতি তাতে তাদের (রোহিঙ্গাদের) নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। শরণার্থীরা (রোহিঙ্গারা) এখনো পালাচ্ছে। অনেকে সহিংসতা, ধর্ষণ ও বড় ধরনের      মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। অনেকে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের মৃত্যু দেখেছে।’ : ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, ‘তাদের (রোহিঙ্গাদের) বেশিরভাগেরই ফিরে পাওয়ার মতো খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে। তাদের বাড়িঘর ও গ্রামগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে জোরালো বিভাজন দূর করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আর উত্তর রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তাকর্মীদের প্রবেশাধিকারের দাবি এখনো উপেক্ষিত।’ : ইউএনএইচসিআর মনে করে, টেকসই সমাধানের মৌলিক বিষয়গুলো বা রোহিঙ্গাদের সম্মতি ছাড়া পরিস্থিতি পর্যালোচনার আগেই তড়িঘড়ি করে হঠাৎ প্রত্যাবাসন ঠিক হবে না। নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ এবং সেখানে নির্দিষ্ট এলাকায় বন্দি না থাকার বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। : ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, রাখাইন পরামর্শক কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নাগরিকত্ব না থাকাসহ এ সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। : ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা দলিল সম্পর্কে বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় আছে। আন্তর্জাতিক শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক মানদন্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় দেশের সরকারকে সহযোগিতা করতে ইউএনএইচসিআর প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। : নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী অধিকারবিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেন, আগুনের ধোঁয়া উড়তে থাকা গ্রামগুলোতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দুই হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাবেÑএমন ভাবনা হাস্যকর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্পষ্টভাবে বলা উচিত যে, ধ্বংস করা বাড়িঘর ও গ্রাম পুনঃনির্মাণ, জমি ফেরত দেয়া, ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের শিবিরে রাখার ভাবনা বাদ দেয়া এবং সর্বোপরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি পর্যবেক্ষণের সুযোগ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের না থাকলে একজনকেও ফেরত পাঠানো যাবে না। : ইউএনএইচসিআরের আরেক মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহেচিক বলেন, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে সম্পৃক্ত করার রীতি রয়েছে। : রয়টার্স জানায়, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর তাদের সংঘাত থেকে রক্ষার নিশ্চয়তা এবং আইনি স্বীকৃতির মতো বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার কোনো দেশের সরকারের বিজ্ঞপ্তিতেই তথ্য নেই। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দফতরের এক মুখপাত্রের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকারবিষয়ক দফতরের পরিচালক শারমেন মোহাম্মদ বলেন, সমঝোতায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পুরোপুরি পাশ কাটানো হয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এখনো রোহিঙ্গাদের আসা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে আলোচনা সময়োপযোগী নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম গতকাল গণমাধ্যমে বলেছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গতকাল একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি আসলে চুক্তিও নয়, স্মারকও নয়। বিবিসির ভাষ্যে এটাকে বলা হয় অ্যারেঞ্জমেন্ট বা ব্যবস্থাপত্র। কূটনীতির পরিভাষায় এ ধরনের ব্যবস্থাপত্রের কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। সমঝোতা স্মারক সাধারণত দু পক্ষের স্বাক্ষরে সম্পাদিত হয়। এ ক্ষেত্রে দুটি দেশ পৃথক পৃথকভাবে তাদের সিদ্ধান্ত জ্ঞাপন করেছে। এতে রোহিঙ্গাদের নাম উল্লেখ না করে রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নেয়ার সমঝোতার কথা বলা হয়। এতে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের ব্যাপারে সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়। কবে নাগাদ এ কার্যক্রম শুরু হবে বা কখন এটি শেষ হবে তার কোনো উল্লেখ বিবৃতিতে নেই। : তিনি বলেন, নেইপিডোর যৌথ বিবৃতি বস্তুত একটি অকার্যকর কূটনৈতিক প্রয়াস। এতে মিয়ানমারের সদিচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যেতে দ্বিপক্ষীয় কোনো সমঝোতা যে সুফল বয়ে আনবে নাÑআবার তা প্রমাণিত হলো। মিয়ানমারের ওপর কোনো আস্থা রাখা ঠিক হবে না। স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেই সমস্যা সমাধানে সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার তাৎপর্য মিয়ানমারের মতো অস্বাভাবিক সরকারের পক্ষে কতটা অনুধাবন সম্ভব তা প্রশ্নসাপেক্ষ। অতীত প্রমাণ করেছে, তারা সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের সম্মান ধারণ করে না। উভয় দেশের মধ্যে যে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণে মিয়ানমারের কোনো উদ্যোগ দৃষ্টিগোচর হয়নি। সুতরাং বাংলাদেশকে অব্যাহত চাপ প্রয়োগ কূটনীতি বা ‘কোয়ার্সিভ ডিপ্লোমেসি’র কার্যকর প্রয়োগে সমাধানের পথে এগোতে হবে। এ মানবিক ইস্যুতে পৃথিবীব্যাপী যে সহানুভূতি সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনই জনগণের কাম্য। : :   :  





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো আশার আলো দেখতে পান?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
24854 জন