সান্তাহার স্টেডিয়ামের গেটে তালা : খেলাধুলায় স্থবিরতা
Published : Monday, 27 November, 2017 at 12:00 AM
সান্তাহার  (বগুড়া ) প্রতিনিধি : আদমদীঘি ও সান্তাহার ক্রীড়া সংস্থার রশি টানাটানির অবসান না হওয়ায় সান্তাহারের আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের গেটে ফের ঝুলছে তালা। ফলে সাপ, বেঁজি, শিয়ালসহ নানা ধরনের জন্তুর বাসায় পরিণত হয়ে স্টেডিয়ামটি দিনে দিনে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। ১৯৯৫ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থ প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. মজিবর রহমান প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৩ একর জমির উপর এই আধুনিকমানের স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৯৭ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী, বর্তমান সরকারের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ স্টেডিয়ামের শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর আদমদীঘি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয়। সান্তাহার শহর থেকে আদমদীঘি উপজেলা সদরের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। ফলে উপজেলা পরিষদ বা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা এ পর্যন্ত কোনো খেলাধুলা এমনকি কোনো জাতীয় প্রোগ্রামও করেনি। ১৯৯৮ সালে সান্তাহার পৌর ক্রীড়া সংস্থা গঠন হওয়ার পর থেকে ওই স্টেডিয়ামে খুলনা, যশোহর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা দল নিয়ে জিয়া স্মৃতি, বঙ্গবন্ধু পৌর গোল্ডকাপসহ বড় বড় টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। ওই টুর্নামেন্টগুলোতে দেশের  স্বনামধন্য খেলোয়াড় সাব্বির, আলফাজ, মুন্না, জয়, নকিব, কায়সার হামিদ, মুনসহ বহু দেশসেরা খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। এরপর ওই স্টেডয়িামের তত্ত্বাবধান নিয়ে সান্তাহার ক্রীড়া সংস্থা ও আদমদীঘি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মধ্যে শুরু হয় রশি টানাটানি। যেহেতু সান্তাহার শহর থেকে আদমদীঘি উপজেলা সদরের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। ফলে বন্ধ হয়ে যায় সান্তাহার রেলওয়ে জংশন শহর পৌরসভা এবং আশপাশ এলাকার খেলাধুলা। একপর্যায়ে এলাকার খেলাধুলার স্বার্থে সান্তাহার পৌরসভা গত ৪-৪-২০০০ সালে স্টেডিয়ামটি দেখাশোনার দায়িত্ব চেয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে একটি আবেদন করে। উল্লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং জেলা প্রশাসক, বগুড়া স্মারক নং-জেপ্র-বগুড়া-৩৫-২০০১-২৯, তারিখ ২৮-০১-২০০১ ইং-এর পত্রের প্রেক্ষিতে সান্তাহার স্টেডিয়ামটিকে সান্তাহার পৌরসভা বরাবরে ন্যাস্ত করা হলো বলে উল্লেখ করে তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষরকৃত অনুমোদনের অনুলিপি বগুড়া জেলা প্রশাসক ও আদমদীঘি উপজেলা পরিষদকে দেয়া হয়। এরপরও আনুষ্ঠানিকভাবে সান্তাহার পৌর ক্রীড়া সংস্থাকে স্টেডিয়ামটি হস্তান্তর না করায় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে থাকায় খেলাধুলার মাঠের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় সান্তাহার পৌর ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম। শহরের রতবাড়ী এলাকার জনৈক সাইদ নামের এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামটি দেখাশোনার নামে দিন-রাত মূলগেটে তালা মেরে প্যাভেলিয়নের রুমগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করার কারণে একদিকে বন্ধ  হয়ে পড়েছে এলাকার সব ধরনের খেলোয়াড়ের খেলাধুলা। ফলে এলাকায় খেলাধুলার স্থবিরতা দেখা দেয়। অন্যদিকে স্টেডিয়ামটিতে সাপ, বেঁজি, শিয়ালসহ নানা ধরনের জন্তুসহ গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়ে দিন দিন স্টেডিয়ামটি ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে সান্তাহারে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দীন  স্টেডিয়ামটি পরিদর্শনে এসে স্টেডিয়ামটির দুরবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, রংপুর সিটি নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। আপনিও কি তেমন আশা করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
14973 জন