দুর্নীতিবাজরাই দুর্নীতির তদন্তে
শিক্ষা অধিদফতরে ঘুষ-বাণিজ্যের আখড়া, সুশাসন-জবাবদিহিতার বালাই নেই
Published : Monday, 27 November, 2017 at 12:00 AM
সারাদেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক এবং প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরার দায়িত্ব যাদের তারাই দুর্নীতিবাজ। এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে গতকালের ‘দমনকারীরাই যখন দুর্নীতিবাজ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। তাতে বলা হয়েছে, সারাদেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক এবং প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরার দায়িত্ব ডিআইএ’র। অথচ যাদের ওপর এই দায়িত্ব, তারাই জড়িয়ে পড়ছেন দুর্নীতির জালে। পদোন্নতি পেলেও ডিআইএ ছাড়েন না কর্মকর্তারা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত সরকারি কলেজের শিক্ষকরা নানা প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর বহাল থাকছেন। কেউ কেউ মাঝে স্বল্পকালীন বিরতি দিয়ে ৯ বছর পর্যন্ত একই জায়গায় চাকরি করছেন। : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অধিদফতর পরিদর্শন ও নিরীক্ষা (ডিআইএ)। এ অধিদফতরটির দায়িত্ব দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটিই এখন দুর্নীতিবাজদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ডিআইএতে নির্বিবাদে দুর্নীতি করা যায়। ডিআইএতে ট্যুর প্রোগ্রাম বিক্রি বাণিজ্য জমজমাট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পর যে পরিদর্শক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বেশি খুশি করতে পারেন তাকে বেশি বেশি পরিদর্শনে (ট্যুর) পাঠানো অলিখিত নিয়মের মতো। ডিআইএতে দুর্নীতিবাজদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের তৎপরতা চলছে কোনো প্রকার রাখ-ঢাক ছাড়াই। বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত রাতারাতি ছাড়া পাওয়ার নজির রয়েছে ডিআইএতে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী কর্মকর্তারা একটানা তিন বছরের বেশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দফতর, অধিদফতর ও সংস্থায় থাকতে পারেন না। ডিআইএতে নীতিমালা অকার্যকর বলা চলে। এ বিভাগে একই পদে টানা ১৭ বছর চাকরি করছেন এমন কর্মকর্তাও রয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের বখরার ভাগাভাগি নিয়ে এক কর্মকর্তা আরেক কর্মকর্তার নাক-মুখ ফাটিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে এ বিভাগে। এ বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট এতোটাই শক্তিশালী যে, খোদ শিক্ষা সচিবকে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সকালে বদলির আদেশ দিয়ে বিকালে প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছে। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কৃষ্ণগহ্বরে পড়ে আছে। ২০১৪ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ডিআইএ’র ১৭ জনের একটি তালিকা শিক্ষা সচিবের কাছে দিয়ে তাদের বদলি করতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছিল। সংসদীয় কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে কয়েকজন কর্মকর্তার দুর্নীতি ও ঘুষ আদায়ের প্রমাণও পেয়েছিল। সংসদীয় কমিটির সুপারিশও অগ্রাহ্য হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এ বিভাগটিতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দাপট-দৌরাত্ম্য বন্ধের কোনো কোন কার্যকর উদ্যোগই নিচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দফতর-অধিদফতর ও বিভিন্ন বিভাগ, শাখায় দুর্নীতির মচ্ছব চোখের সামনেই চলছে। জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয় কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণের নামে প্রমোদ ভ্রমণের আয়োজন করেছে। ইউজিসির উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) অধীনে প্রশিক্ষণের জন্য ৬২ জন শিক্ষককে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে একজনও শিক্ষক নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা মাউশি অধিদফতরের অধীনে শিক্ষার্থীদের অর্থে ‘গ্রীষ্মকালীন’ ও ‘শীতকালীন’ নামে দুটি প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। এ অর্থে কর্মকর্তারা ভোগবিলাস করেন। শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে সীমাছাড়া দুর্নীতি-অনিয়ম প্রকাশ্যেই চলে। মাউশির কর্মকর্তাদের শিক্ষমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দাতাদের কাছ থেকে প্রায়ই উঠে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দফতর, অধিদফতর, বিভাগের কেনাকাটায়, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে পুকুর চুরি চলে। শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোকজনের বেপরোয়া দুর্নীতি-অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পত্রিকায় এসেছে বিভিন্ন সময়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুশাসন-জবাবদিহিতার কোনো বালাই আছে মনে হয় না। : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বহীনতায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অদূরদর্শী-অবিবেচক সিদ্ধান্তের খেসারতে শিক্ষার গুণগত মান প্রায় ধ্বংসই হয়ে গেছে। ডিআইএ বিভাগ দুর্নীতিবাজদের লীলাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাতেই। দুর্নীতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গিলে ফেলেছে বলেই এ মন্ত্রণালয়ের দফতর, অধিদফতর ও বিভাগগুলোতে দুর্নীতিবাজদের রামরাজত্ব কায়েম সম্ভব হয়েছে।    : :





অনলাইন জরিপ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, রংপুর সিটি নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। আপনিও কি তেমন আশা করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
14901 জন