বিডিআর বিদ্রোহের রায় পড়া শুরু
এটা ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র : হাইকোর্ট
Published : Monday, 27 November, 2017 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন বিডিআরের সদর দফতর পিলখানায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় আপিলের ওপর হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ  ১ হাজার পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণসহ রায় পড়া শুরু করেছেন। গতকাল রবিবার প্রথম দিনের মতো রায় পড়া শেষ করেছেন। তবে আজ সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায় পড়া শেষ হবে জানিয়েছেন ওই বেঞ্চের বিচারপতিগণ। তবে রায়ের বিষয়ে তিন বিচারপতিই একমত পোষণ করেছেন। গতকাল সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির রায় পড়া শুরু করেন। প্রথমে রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি শওকত হোসেন। ওই বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেনÑ মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে রায় পড়া মুলতবি করা হয়। পরে বিচারপতি মো. শওকত হোসেন বলেন, পরদিন (আজ) সোমবার ওই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় পড়া শেষ হবে। এর আগে বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী আদালতের ভেতর বলেন, গতকাল রায় পড়া শেষ হবে না। রায়ে ১ হাজার পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ রয়েছে বলে জানান তিনি। : এখন পর্যন্ত পড়া রায়ের পর্যবেক্ষণে নারকীয় এই হত্যাকান্ডকে নৃশংস ও বর্বরোচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ইপিআর পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত এই বাহিনী দেশে-বিদেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু ২০০৯ সালে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরের কিছু সদস্য আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। এই কলঙ্কচিহ্ন তাদের অনেকদিন বয়ে বেড়াতে হবে। : প্রসঙ্গত, একসঙ্গে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার নজির ইতিহাসে নেই। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এই মামলা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ওই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এই হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় দিয়েছিলেন। আজ হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হতে যাচ্ছে। এ মামলায় আসামি ছিলেন ৮৪৬ জন। সাজা হয় ৫৬৮ জনের। তাদের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদন্ড, ১৬০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড হয়েছিল। খালাস পেয়েছিলেন ২৭৮ জন। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দন্ডিত ব্যক্তিরাও জেল আপিল ও আপিল করেন। আর ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৩৭০তম দিনে গত ১৩ এপ্রিল। সেদিন শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, রংপুর সিটি নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। আপনিও কি তেমন আশা করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
14963 জন