আমরা ক্ষমতায় গেলে গুম-খুনের বিচার হবে : ড. মোশাররফ
Published : Monday, 27 November, 2017 at 12:00 AM
আমরা ক্ষমতায় গেলে গুম-খুনের বিচার হবে : ড. মোশাররফদিনকাল রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বাধা আওয়ামী লীগের জনভীতি। এমন মন্তব্য করে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘জনগণ এ সরকারের পরিবর্তন চায়। তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অথচ আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন জোর করে ক্ষমতায় থাকতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। তাই জনগণ বিশ্বাস করে দেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় আওয়ামী লীগের জনভীতি। : গতকাল রবিবার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরামের উদ্যোগে ‘গুম, খুন ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাউথ এশিয়া ল’ ইয়ার্স ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার। : আগামীতে ক্ষমতায় গেলে গুম-খুনের বিচারের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়ে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, এই দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করে ভবিষ্যতে এই যে গুম-খুন এবং অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে একটি আইনগত পদ্ধতিতে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। আজকের আলোচনা সভার বার্তা হচ্ছে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করে গুম-খুন-অন্যায়ের জবাব দিতে হবে। : দেশে ‘গুম-খুন’-এর পেছনে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্পৃক্ততা’ রয়েছে অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জানে কারা গুম করেছে, কার নির্দেশে হয়েছে এবং কিছু কিছু উদাহরণ আমাদের সামনে আছে। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনা যদি হজম করে ফেলত তাহলে কখনো কেউ স্বীকার করত না যে, র‌্যাবের কর্মকর্তারা এর সাথে যুক্ত আছে। আজকে র‌্যাব কর্মকর্তারা ধরা পড়ার কারণে এটা প্রমাণিত হয়েছে। অতএব এর পূর্বে ২০০৯ থেকে এই পর্যন্ত যে চার শ’র অধিক গুম হয়েছে, প্রত্যেকটি  সরকারের নির্দেশে, সরকারের সর্বোচ্চ স্থান থেকে নির্দেশে তাদের যে প্রশাসন, তাদের যে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের মাধ্যমে কিন্তু গুম করা হয়েছে। আজকে ওইভাবে সরকারের পক্ষ থেকে সাফাই গাওয়া যারা গুম হয়েছে ইচ্ছাকৃত গুম হয়ে বা প্রতিদ্বন্দ্বীদের দ্বারা গুম হয়েছে ইত্যাদি বলার কোনো অবকাশ নেই। ‘গুম’ নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি করছেন বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। : তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন দেশে গুম হয়। সেই গুমকে যৌক্তিক করার জন্য তিনি বিভিন্ন দেশে গুম হওয়ার কথা বলেছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিশ্বের কোনো দেশে কোনো উদাহরণ দেখাতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী যে, রাষ্ট্রীয় নির্দেশে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে এভাবে পৃথিবীতে কোনো গুমের ঘটনা ঘটেছে। আমরা নিন্দা জানাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি সত্যকে গোপন করে অন্য দেশের উদাহরণ দিয়ে আজকে এদেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা করছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অধিকার আপনার নেই। বাংলাদেশের গুম এবং অন্যান্য দেশে সামান্য গুম হয় তার মধ্যে তফাৎ অনেক। অন্যান্য দেশে গুম হয় শত্রুতা করে বা পণ আদায়ের জন্য গুম করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ঘটনার সাথে প্রশাসন ও সরকারি বাহিনী জড়িত। : গুম হওয়া ব্যক্তিরা জীবিত আছেন এরকম প্রত্যাশা করে অবিলম্বে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেয়ার দাবিও জানান খন্দকার মোশাররফ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের দায়ও সরকার এড়াতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। : একাদশ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোকে ‘সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অগ্নিপরীক্ষা বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রংপুরসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের এবারের নির্বাচনকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। কেননা এসব নির্বাচন একাদশ নির্বাচনের পূর্বে হচ্ছে। তাই এসব নির্বাচনে আমরা দেখতে চাই, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আচরণ, আমরা দেখতে চাই, সরকারের কী আচরণ। এসব নির্বাচন সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। আমরা এসব পরীক্ষা দেখতে চাই এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চাই।’ : খন্দকার মোশাররফ বলেন, এরপর আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সরকারের একটা রূপরেখা দেবেন। সেই রূপরেখা নিয়ে আমরা জনগণের কাছে যাব এবং যদি আমরা দেখি এই সরকার আবার ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনের দিকে হাঁটছে, আমরা বিশ্বাস করি এবার আর জনগণ তা হতে দেবে না। জনগণ আরেকবার একতরফা নির্বাচন এদেশের হতে দেবে না। মানুষ রাস্তায় নেমে তাদের দাবি আদায় করে, তাদের ভোটের অধিকার আদায় করে ইনশাল্লাহ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে। আমরা জনগণের সঙ্গে থাকব। দেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তার দলকেই জনগণ ক্ষমতায় বসাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। : ‘গুম’ হওয়া লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের স্ত্রী শাহনাজ আকতার রানুর সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা রবিউল হোসেন রবির পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সিদ্দিকুর রহমান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম, বিএনপি নেতা বদিউজ্জামান আকন্দ, মিয়া মো. আনোয়ার, সৈয়দ মো. ওমর ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম, গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরুর ছেলে রাফসানুল ইসলাম, লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের ছেলে শাহরিয়ার রাতুল ও সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আফরোজা আক্তার আঁখি প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, রংপুর সিটি নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। আপনিও কি তেমন আশা করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
14967 জন