মিয়ানমারের কাছে দেশের স্বার্থ বিক্রি করে দিয়েছে সরকার : মির্জা ফখরুল
Published : Monday, 27 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 26.11.2017 10:39:42 PM
দিনকাল রিপোর্ট : রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘সমঝোতা চুক্তি’তে দেশের স্বার্থ ‘বিক্রি করে’ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার সমঝোতা চুক্তিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করলেও এর কঠোর সমালোচনা করে বিষয়টিকে ‘ধোঁকাবাজির রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে এর আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। আলোচনা সভার পর জন্মদিন উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বিএনপি মহাসচিব। গত ২০ নভেম্বর ছিল তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন, যিনি ২০০৮ সাল থেকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, কী এমন কম্পালশন হলো যে, আপনি আপনার বাংলাদেশের স্বার্থটাকে বুঝে না নিয়ে মিয়ানমারের স্বার্থের কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিলেন। চাপটা কোথায় হলো? আসল ঘটনাটা কোথায়? জাতির সামনে বলা উচিত। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে, লজ্জার সঙ্গে আমাদের বলতে হয়, এই সরকারের কোনো রকমের যে আত্মসম্মানবোধ, সেই আত্মসম্মানবোধ পর্যন্ত নেই। : গত সপ্তাহের শেষে মিয়ানমারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে একটি সম্মতিপত্রে সই করেছেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণার আলোকে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নিজ দেশের অধিবাসীদের ফেরত নেবে মিয়ানমার। রাখাইনে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে বিভিন্ন সময়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। : গতকাল রবিবার রাষ্ট্রদূত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, এতবড় কূটনৈতিক অর্জন নাকি আর কখনো হয়নি। একে (সমঝোতা চুক্তি) আপনি বলছেন, সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অর্জন করেছেন। কূটনৈতিক অর্জনটা কী? মিয়ানমারের সাথে চুক্তি হয়েছে একটা। সেই সমঝোতা চুক্তিতে (চুক্তির অংশবিশেষ পড়ে) আপনি (সরকার) স্বীকার করে নিচ্ছেন, মিয়ানমার যে দাবি করছে যে,  টেরোরিস্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের বিলং করা হয়েছে, টেরোরিস্ট অ্যাটাক হয়েছে বলেই তাদের গণহত্যা করা হয়েছে। একবারের জন্য আপনি এখানে (চুক্তিতে) বলেননি গণহত্যা হয়েছে, একবারের জন্য আপনি এখানে (চুক্তিতে) বলেননি যে তাদের এথননিক কিনসিং হচ্ছে, তাদের জাতিগতভাবে নিধন করা হচ্ছে। যা যা বলেছে মিয়ানমার, তাই তাই মেনে নিয়েছেন। এর মধ্যে পুরো চুক্তিটা পড়লে দেখবেন পুরো বিষয়টা তাই। : মিয়ানমারের সাথে সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গতকালই জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান বলেছেন যে, এই চুক্তি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এরা (রোহিঙ্গারা) কোথায় যাবে, কোথায় গিয়ে বাস করবে। তাদের ঘর নেই, বাড়ি নেই, সব পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, তাদের খাওয়ার কোনো সংস্থান নেই, বাঁচার কোনো সংস্থান নেই। তাদের কোথায় কার কাছে নিচ্ছেন। বাঘের কাছ থেকে তারা প্রাণভয়ে এসেছে, সেই বাঘের মুখে আপনি তাদের দিয়ে দিচ্ছেন। আর আপনাকে আপনার দলের লোকেরা মাদার অব হিউম্যানিটি বলে ঘোষণা দিচ্ছেন। এই যে ধোঁকাবাজির রাজনীতি চলছে। : ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও ১৯৯২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন দ্রুততার সাথে করেছিলেন বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। : আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ নয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার কাউকে বিশ্বাস করে না। আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন বিনাভোটে। ২০১৪ সালের যে নির্বাচনের নাটক হয়েছিল সেখানে ১৫৪টা আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন। সরকার তো সেদিন করেছেন। ভোটে ৫ শতাংশ জনগণও ভোট দিতে যায়নি। তাহলে সরকারটা জনগণের নয়, আওয়ামী লীগের। আমাদের স্পষ্ট কথা, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এটাকে একটা জনগণের নিরপেক্ষ সরকার তৈরি করতে হবে। সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ প্রকৃত প্রতিনিধিদের বেছে নিয়ে একটা প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ গঠন করবে। সেটা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, সবার অংশগ্রহণে হবে। : ‘সংবিধানের দোহাই’ দিয়ে কোনো লাভ হবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারকে বলতে চাই, এই  ‘বো বো’ করে লাভ হবে না। সময় আপনাদের শেষ, এখন পরকালের চিন্তা করুন। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি, দেশনেত্রী বলেছেন, আমরা এদেশে শান্তির রাজনীতি চাই, হিংসা নয়, প্রতিহিংসা নয়, আমরা রিকসিলেশনের রাজনীতি চাই। সেদিকে আসুন, আলাপ-আলোচনা করুন, সমঝোতা করুন। একটা সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে যান। এলোমেলো করে আর ঘুরে লাভ হবে না। এটা বৃথা। : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পরও প্রধান বিচারপতি পদে কাউকে নিয়োগ না করায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) দেশ থেকে বের করে দিলেন। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে, অযৌক্তিকভাবে, অন্যায়ভাবে সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছেন। এখন প্রধান বিচারপতি দেশে নেই। যাকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন তিনি কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হচ্ছে, কোনো কারণে যদি প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন অথবা পদত্যাগ করেন তাহলে সাথে সাথে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে। সেটা আপনারা করেননি। : তিনি বলেন, আজকে সরকার অর্থনীতিতে সংকট সৃষ্টি করেছে। দেশের অর্থনীতি আজকে তাসের ঘরের মতো, একটা ফলস ফাউন্ডেশনের ওপর দাঁড় করিয়েছে মিথ্যা কথা বলে। বলা হচ্ছে এখানে (বাংলাদেশে) সাংঘাতিক রকম উন্নয়ন হচ্ছে, উন্নয়নের রোল মডেল। রোল মডেলের অবস্থা এমন যে প্রতিদিন খবরের কাগজে দেখবেন ব্যাংকগুলো কাহিল হয়ে পড়েছে। যে কোনো দিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা ফেল করবে, কলাপস করবে। ব্যাংকগুলো ফোকলা করে ফেলা হয়েছে। উন্নয়নের নামে ‘মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট’ করছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। : আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানী প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, রংপুর সিটি নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। আপনিও কি তেমন আশা করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
14907 জন