গোপালপুরে সমাপনী পরীক্ষায় নকলের মহোৎসব
পরীক্ষা দিচ্ছেন অভিভাবকরা!
Published : Tuesday, 28 November, 2017 at 12:00 AM
কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট পরই কেন্দ্রের আশপাশে দলে দলে ভাগ হয়ে কিছু একটা করার জটলা চোখে পড়ে। কৌতূহলবশত একটু এগিয়ে গিয়েই দেখা গেল প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখে সাদা কাগজে উত্তর লিখছেন অভিভাবকরা। এ যেন ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের নয়, অভিভাবকদের পরীক্ষা চলছে। অবাক করা বিষয় হলেও এমনই ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নারুচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সরেজমিনে গত রবিবার প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) গণিত পরীক্ষা চলাকালীন ওই কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। আর এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ সময় প্রশ্নপত্র কিভাবে বাইরে এলো জানতে চাইলে অভিভাবকরা বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর থেকে প্রশ্নটি মোবাইলের মাধ্যমে ছবি তুলে স্থানীয় কোচিং সেন্টারের পরিচালকরা সরবরাহ করছেন। আর সেই প্রশ্ন দেখে সাদা কাগজে উত্তর লেখার পর দায়িত্বরত শিক্ষকদের ম্যানেজ করে শিক্ষার্থীদের কাছ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের দেয়া নকল দেখেই পরীক্ষার মূল উত্তরপত্রে লিখছে শিক্ষার্থীরা। ওই কেন্দ্রে চারটি কোচিং সেন্টারের ৪৮ জন শিক্ষার্থীরা ছাড়াও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ৩৯৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। শুধু ওই কেন্দ্রেই নয়, উপজেলার অনেক কেন্দ্রে পরীক্ষার নামে চলছে নকলের মহোৎসব। আর প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ঘটনা ঘটলেও যেন দেখার কেউ নেই। এ নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে। উত্তরপত্র লেখার সময় ব্রাইটার কোচিং সেন্টারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক জানান, ব্রাইটারের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। সুতরাং দায়িত্বের মধ্যেই এই কাজগুলো করতে হচ্ছে। সবাই করছে তাই আমাদের ছেলেমেয়ের জন্য একটু সহযোগিতা করছি। তিনি আরো জানান, দায়িত্বরতদের ম্যানেজ করেই মোবাইলে প্রশ্নপত্র তুলে বাইরে আনতে হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে নারুচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব সাইদুজ্জামান জানান, কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হচ্ছে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় এই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা কষ্টের। তবে নকলের কোনো সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্র বাইরে যাওয়ার কোনো খবর জানা নেই। প্রশ্নপত্র বাইরে ও নকলের মহোৎসবের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা শারমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ছাড়া সাংবাদিকরা কীভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছেন তাও জানতে চান। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

দ্রুত রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান দেখছেন না ব্রিটিশ মন্ত্রী। আপনিও কি তাই দেখছেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
672 জন