নেত্রকোনায় ভবন পরিত্যক্ত খোলা আকাশের নিচে পাঠদান
Published : Tuesday, 28 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 27.11.2017 9:28:15 PM
নেত্রকোনায় ভবন পরিত্যক্ত খোলা আকাশের নিচে পাঠদানহায়দার জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা : নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের ৯২ নম্বর আশিয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনটি গত এপ্রিল মাস থেকে কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও অদ্যাবধি সংস্কার না করায় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করে আসছে। এলাকার কোমলমতি শিশু-কিশোরদের প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে কতিপয় শিক্ষানুরাগী আশিয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এটি বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তারও পরবর্তী সময়ে সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হলে এটিও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথম দিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় এবং শিক্ষকদের যতœ সহকারে নিয়মিত ক্লাস নেয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পর থেকেই নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান তেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও অপর একজন মাতৃত্বজনিত ছুটিতে থাকায় বর্তমানে ৩ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এলাকার ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ছাদ ও দেয়াল থেকে প্লাস্টার খসে পড়তে থাকে।  তারপরেও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয় ভবনের ভিম ভেঙে পড়ে আবুল হাসান নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কুল-সংলগ্ন খোলা জায়গায় খোলা আকাশের নিচে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কারের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের বরাবরে বার বার আবেদন-নিবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ঝড়-বৃষ্টি, রোদ মাথায় নিয়ে বৈরী পরিবেশে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে করতে অনেক কোলমতি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনেকে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আকাশে মেঘ দেখলেই স্কুলের ছুটির ঘন্টা বাজাতে বাধ্য হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় ক্রমান্বয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। বর্তমানে ১৬১ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার একেবারেই হতাশাজনক। দ্রুত বিদ্যালয় ভবনটি পুনর্নির্মাণে কার্যকর ব্যবস্থা না করা হলে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমতে কমতে এক সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।  আবুল হাসেম, রইছ উদ্দিন, কিতাব আলীসহ অনেক অভিভাবক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, কত দিন আর শিশুদের এভাবে খোলা আকাশের নিচে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হবে। সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে অন্য কোনো স্কুলে ভর্তি করাব। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, খোলা আকাশের নিচে ঝড়-বৃষ্টি, রোদের মধ্যে আর কত দিন ক্লাস চালানো সম্ভব জানি না। পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনটি পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে বার বার আবেদন-নিবেদন করার পরেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

দ্রুত রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান দেখছেন না ব্রিটিশ মন্ত্রী। আপনিও কি তাই দেখছেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
655 জন