খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
গভীর রাতে অস্ত্রধারীদের প্রবেশ : ফল পাল্টে আ’লীগ সমর্থিতকে বিজয়ী ঘোষণা
Published : Tuesday, 28 November, 2017 at 12:00 AM
খুলনা ব্যুরো, দিনকাল : তিন ভোটে বিএনপি সমর্থিত সভাপতি এগিয়ে ছিলেন। এরপর ফলাফল ঘোষণা না করে সদস্যদের ভোট গণনার কথা বলে কালক্ষেপণ করে নির্বাচন কমিশন। এক পর্যায়ে গভীর রাতে আওয়ামী লীগের যুব ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামধারী অস্ত্রধারীরা প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পর পাল্টে গেল ফলাফল। হারিয়ে দেয়া হলো বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে। পুলিশ বাইরে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এভাবেই শেষ হলো খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির ২০১৮ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের বার্ষিক নির্বাচন। এদিকে ঘোষিত এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপি সমর্থিত সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট নূরুল হাসান রুবা। : বিএনপি সমর্থিত সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত প্রার্থী সেখ নূরুল হাসান রুবা গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। তিনি নির্বাচনি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন। : লিখিত বক্তৃতা পাঠকালে তিনি বলেন, নির্বাচনে ১২৭০ জন ভোটারের মধ্যে এক হাজার ১১৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের লিখিত একটি রেজাল্টশিটে তিনি ৫৪৫ ভোট এবং তার প্রতিপক্ষ সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত সভাপতি প্রার্থী কাজী আবু শাহিন ৫৪২ ভোট পান, যা তিনিসহ তার প্যানেলের অন্য আইনজীবীরাও দেখেছেন। তিনি বলেন, ভোট গণনা শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ফলাফল ঘোষণা না করে দীর্ঘ সময় কালক্ষেপণ করে। এক পর্যায়ে বহিরাগতরা নির্বাচনস্থল ঘিরে ফেলে। তারা আওয়ামীপন্থী আইনজীবী এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সাথে শলা-পরামর্শ করে। এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান তিনি ৫৪২ ভোট পেয়েছেন এবং তার প্রতিপক্ষ কাজী আবু শাহিন ৫৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বলে ঘোষণা করেন। : সেখ নূরুল হাসান রুবা আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৫৭ (ছ) ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এ এম আহমেদ উল্লাহ পিলুর কাছে ব্যালট পুনরায় গণনা করার জন্য লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু তিনি এ আবেদনে সাড়া না দিয়ে কাজী আবু শাহিনকে সভাপতি নির্বাচিত ঘোষণা করে দ্রুত নির্বাচনস্থল ত্যাগ করেন। এভাবে তিনি গঠনতন্ত্র লংঘন করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করার চিন্তা-ভাবনা করছেন বলে জানিয়েছেন। : সংবাদ সম্মেলনে খুলনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ভাষাসৈনিক অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান বলেন, এটি একটি জঘন্য কাজ করেছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। তিনি বলেন, খুলনা বারের মানসম্মান আজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল। গণতন্ত্র ও সামাজিক মর্যাদার হানি হয়েছে। তিনি চিহ্নিত অস্ত্রধারীদের বারের নির্বাচন কক্ষে প্রবেশকে কলঙ্কময় বলে আখ্যায়িত করেন। : সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সর্বদলীয় আইনজীবী ঐক্য পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ভাষাসৈনিক এম বজলুর রহমান, সমিতির সাবেক সভাপতি আ. মালেক, আব্দুল্লাহ হোসেন, শেখ আ. আজিজ, গাজী আব্দুল বারী, মোহাম্মদ ইউনুস, এস আর ফারুক, মাসুদ হোসেন রনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. মাসুম রশীদ, নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মশিউর রহমান নান্নু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। : গত রবিবার ১৪টি পদের বিপরীতে দুই প্যানেলে ২৮ জন অংশ নেন এবং সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। : নির্বাচনে সভাপতি পদে জোর করে পরাজিত করলেও সাধারণ সম্পাদক, ১টি সহ-সভাপতি, সম্পাদক পাঠাগার সৈয়দ মো. এহতেশামুল হক (জুয়েল) এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শেখ মো. মুনজিল আলী ও দুজন সদস্য পদে বিজয়ী হন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

দ্রুত রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান দেখছেন না ব্রিটিশ মন্ত্রী। আপনিও কি তাই দেখছেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
665 জন