সরকার গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে হত্যা করেছে : রিজভী
Published : Tuesday, 28 November, 2017 at 12:00 AM
সরকার গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে হত্যা করেছে : রিজভীদিনকাল রিপোর্ট : ক্ষমতাসীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই আওয়ামী লীগ সরকার শুধু গুম, খুন আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকা  শুরু করেছে তা নয় এরা নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সভায় তিনি এসব বলেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তরের কাফরুল ও ক্যান্টনমেন্ট থানার কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে এ সভা হয়। : রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে আমরা ভয়ঙ্কর অন্ধকার তমস্যার মধ্যে পড়ে আছি। যারা আইনের কথা বলে, ন্যায়ের কথা বলে তারা কারাগারে যায়। তাদের নামে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। অথচ ক’দিন আগে আপনারা দেখেছেন ইউএনও শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতির জন্য জোরজবরদস্তি করে সভা করেছে। ইউএনও একটি থানার সর্বোচ্চ বড় কর্মকর্তা। কিন্তু সেখানে সভার মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী, গু াপা া আর ক্যাডাররা। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আর যিনি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায়, সত্য, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেন তার বাস হয় কারাগারের লৌহকপাটের ভেতরে। এ ধরনের বৈপরীত্য আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার অধীনেই দেখবেন। : ডাকাতরা আজকে শাসনদ  হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা আজকে দায়িত্ব পালন করছেন বলেই এমনটি হচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল, ত্রাণমন্ত্রী মায়া এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সাজাপ্রাপ্ত। তারা কত নির্লজ্জ। অথচ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক ও ভরসাস্থল প্রধান বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে রায় দিলেন। প্রত্যেকটি মানুষ, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এটাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আর অবৈধ বাকশালী সংসদ তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আসলে গোটা সংসদই হচ্ছে শেখ হাসিনার অধীনস্থ এবং চাকর-বাকর। সুতরাং ওই সংসদ যদি কোনো বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয় তিনি কি তার সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো বিচার করবেন? এটাকেই মনে হয় ভয়ঙ্কর দুঃসহ ও নাৎসীবাদী শাসন। আজকে নরপশুর শাসন চলছে আওয়ামী লীগের আমলে। : রিজভী বলেন, আজকে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর যিনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ন্যায়, সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলেন সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতি সপ্তাহে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। আজকে সেই আদালতের কোনো ক্ষমতা নেই। কারণ প্রধান বিচারপতির পরিণতির পর সবার ওপরে প্রচ  ক্ষমতাশালী একজন বসে আছেন। তিনি আদালত, নির্বাহী বিভাগ এবং সংসদেরও প্রধান হয়েছেন। তার কথা সবাইকে শুনতে হচ্ছে। এ ধরনের দুঃশাসন থেকে বেরিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে শরিক ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রধান বিচারপতির পরিণতির পরেই আজকে সমস্ত পার্লামেন্ট সবার উপরেই ক্ষমতাশালী বাদশাহীতে পরিণত হয়েছেন, রানীতে পরিণত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা আজকে দুঃসময় অতিক্রম করছি দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ভয়ংকর অন্ধকারের তামাশার মধ্যে আমরা পড়ে আছি। এমন একটি দেশ যারা সত্য কথা বলে, ন্যায়ের কথা বলে, যারা আইনের কথা বলে, তারা কারাগারে যায়। তাদের নামে মিথ্যা মামলা হাজার হাজার মামলা। দেশের সকল জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে ৭ মার্চের ভাষণকে উদযাপন করতে সরকার জোর করে বাধ্য করেছে। এটা সরকারের ভয়ংকর দুঃশাসন। : ঢাকা মহানগর মহিলা দল উত্তরের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনা খাতুনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহম্মেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি বেগম মেহেরুননেছা হক, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, কাফরুল থানা বিএনপির সদস্যসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, মহিলা দল নেত্রী রাবেয়া আলম, শারমিন শাহীন, নাছরিন হাসান মিতু, তানিয়া ইসলাম মনি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম রিপনসহ মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

দ্রুত রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান দেখছেন না ব্রিটিশ মন্ত্রী। আপনিও কি তাই দেখছেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
668 জন