সমঝোতা স্বাক্ষরের পরেও রোহিঙ্গারা আসছে
Published : Tuesday, 28 November, 2017 at 12:00 AM
দিনকাল ডেস্ক : একদিনের জন্যও থামছে না রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হলেও সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এখনো অবাধে ঢুকছে রোহিঙ্গারা। প্রতিদিন দু-চারশ নারী-পুরুষ ও শিশু এপারে এসে আশ্রয় নিচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে। মিয়ানমার ১৯৯২ সালের সমঝোতা অনুসারেই প্রত্যাবাসন চুক্তি দাবি করে আসছিল। গণহত্যা ও ধর্ষণের মতো দমন-পীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আলোচনায় সম্মত হয় মিয়ানমার। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করে নতুন চুক্তির কথা বললেও শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তির অনুসরণেই নতুন চুক্তি সই করেছে। এদিকে চুক্তি সইয়ের পরও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা অব্যাহত আছে। : রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি বাস্তবসম্মত নয় এমন দাবি করে এলেও শেষ পর্যন্ত সেই আদলেই সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর এবং ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। ২০১৬ সালের পর আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শেষ হলে বাকি রোহিঙ্গাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে মিয়ানমার। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং টার্মস অব রেফারেন্স চূড়ান্ত করা হবে। মাঠ পর্যায়ে প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নের জন্য শিগগরিই ফিজিক্যাল এগ্রিমেন্ট ফর রিপারট্রিয়েশন স্বাক্ষরিত হবে। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ এ চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবে। আগামী ২ মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে দুদেশ সম্মত হয়। বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দিষ্ট সময়সীমার দাবি করলেও মিয়ানমার রাজি হয়নি। ফলে চুক্তিতে একটি যৌক্তিক সময়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে বলা হয়। সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে। চুক্তি অনুযায়ী কেবল স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদেরই মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। আগ্রহী রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারের নাগরিক হতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। : এদিকে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ বলেন, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্নে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের ফেরানোয় সাফল্য নিয়ে বিভিন্ন মহলের সংশয়ের মধ্যে কেন চুক্তি হলো সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, মিয়ানমার ১৯৯২ সালের চুক্তি অনুসরণ করতে চায় বলে সেভাবেই করা হয়েছে। : তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো। এর খুঁটিনাটি, ত্রুটি-বিচ্যুতি, এটা-ওটা নেই, কেন নেই, কী হবেÑ এসব কথা বলে তো কোনো লাভ নেই। গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো, রোহিঙ্গাদের তারা ফেরত নিতে চেয়েছে। লোকগুলোর সেখানে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, তার কাজও শুরু হয়েছে। : সূত্র জানায়, ২৩ নভেম্ব^র নেপিডো ও ঢাকার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ১৪ নম্ব^র ধারায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও জাতিসংঘের আওতায় অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। : ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়, স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে আগ্রহীদেরই মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের বাইরে যেসব শিশুর জন্ম হয়েছে, তাদের বাংলাদেশ আদালতের মাধ্যমে চিহ্নিত করবে। এ ছাড়া ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফেরাতে যে ফরম ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই ফরমই এবারও ব্যবহার হবে। চুক্তির ৭ নম্ব^র ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, মিয়ানমারের নাগরিকত্ব যাচাই বাছাই করার লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। তাদের মিয়ানমারের পুরনো বা মেয়াদ উত্তীর্ণ নাগরিকত্ব পরিচয়পত্র অথবা জাতীয় নিবন্ধনপত্র অথবা অস্থায়ী নিবন্ধন পত্র (সাদা কার্ড) অথবা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অন্য কোনো কার্ড দেখাতে হবে। এ ছাড়া তাদের আবাসস্থলের ঠিকানা, ব্যবসায়িক ঠিকানা বা অন্য কোনো যথাযথ তথ্য উপস্থাপন করতে পারলে মিয়ানমার ফেরত নেবে। : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত হবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এ চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। : তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার পর তাদের আগের আবাসস্থল বা তাদের পছন্দ অনুযায়ী কাছাকাছি কোনো স্থানে পুনর্বাসিত করা হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল/ব্যবস্থায় সীমিত সময়ের জন্য রাখা হবে। এ প্রক্রিয়ায় চীন ও ভারতের সহযোগিতা নেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। : উখিয়া প্রতিনিধি পলাশ বড়–য়া জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পরও বাংলাদেশ অভিমুখে আসছে রোহিঙ্গারা। তাদের একজন বুচিদং মগনামা এলাকার হারিসানের পুত্র জাফর হোছন। ৩ ছেলেমেয়ে নিয়ে শুক্রবার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসে। তার ভাষ্যমতে, রাখাইনে এখন নির্যাতন না করলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাব চরমে। তা ছাড়া এ দেশে আশ্রিত স্বজনরা মোবাইল ফোনে চলে আসতে বললে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলে আসি। বর্তমানে তারা বালুখালী মইনারঘোনা ক্যাম্পে অবস্থান করছে। মংডু কাওয়ার বিল এলাকার ফাতেমা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন অনেকদিন ঠিকমতো খেতে পারিনি। গোসল করতে পারিনি। ছোট-ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনেক কষ্ট করে পালিয়ে এসেছি। : রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ কক্সবাজারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কমেছে। সে সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক প্যারা শিক্ষকরাও বেশি বেতনের আশায় ক্যাম্পগুলোয় চাকরির জন্য ছুটছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

দ্রুত রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান দেখছেন না ব্রিটিশ মন্ত্রী। আপনিও কি তাই দেখছেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
640 জন