ঘোড়াশাল ও পলাশ সার কারখানা ৮ মাস বন্ধ
Published : Tuesday, 28 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 27.11.2017 10:35:41 PM
ঘোড়াশাল ও পলাশ সার কারখানা ৮ মাস বন্ধপলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি, দিনকাল : দীর্ঘ ৮ মাস যাবত বন্ধ দেশের বৃহত্তর বিসিআইসি নিয়ন্ত্রণাধীন ১৪২২ টন ঘোড়াশাল ও  ৩০০ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন। গ্রীষ্মকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ১৭ এপ্রিল সার কারখানা দুটিতে সরকারি সিদ্ধান্তে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা। এরপর থেকে ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াশাল সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবুল কাসেম। জানা যায়, গত ২০১৬ সালে টানা ৯ মাস ঘোড়াশাল ও পলাশ সার কারখানা দুটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার পর ডিসেম্বরে উৎপাদনে যায় কারখানা দুটি। গ্যাস সরবরাহের মাত্র ৪ মাসের মাথায় আবারো  ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় কারখানা দুটির উৎপাদন। : ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, বিসিআইসি নিয়ন্ত্রণাধীন ঘোড়াশাল সার কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৪২২ টন ও পলাশ সার কারখানার ৩০০ টন। বছরের অধিকাংশ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানা দুটিকে ব্যাপক লোকসান ও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ৮ মাস যাবৎ বন্ধ থাকায় ঘোড়াশাল সার কারখানার ক্ষতি ৭৩০ কোটি এবং পলাশ সার কারখানার ক্ষতি ১০০ কোটি টাকা। দুটি সার কারখানার মোট ক্ষতির পরিমাণ ৮৩০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা আরো জানায়, বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে সার আমদানি করতেই একটি শক্তিশালী চক্র সরকারকে প্রভাবিত করে প্রতি বছর সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখছে। ঘোড়াশাল সার কারখানার উৎপাদন বিভাগ জানায়, প্রতি মেট্রিক টন সার উৎপাদনে খরচ হয় ১৪ হাজার টাকা। আর একই সার বিদেশ থেকে আমদানি করলে প্রতি মেট্রিক টনে খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা। এ বছর ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার টন। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। : ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানার সিবিএ সভাপতি আমিনুল হক ভূঁইয়া জানান, কবে নাগাদ কারখানা দুটিতে গ্যাস সরবরাহ করা হবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করা হয়নি। কারখানা দুটিতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ করে উৎপাদন শুরু না করার ফলে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশে ইউরিয়া সারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে এ উৎপাদনের ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে উচ্চ মূল্যে সার আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি টন সার আমদানিতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করা হচ্ছে। সার কারখানা দুটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন আমদানিনির্ভর হচ্ছে সরকার, অন্যদিকে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। বছরের দীর্ঘ সময় কারখানা দুটি বন্ধ থাকায় লাভজনক প্রতিষ্ঠান দুটি এখন লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৮ মাস ধরে বন্ধ থাকায় মরিচা পড়ে অকেজো হয়ে যাওয়ার ফলে ঘোড়াশাল সার কারখানার দুটি কনভাটারের মধ্যে একটি কনভাটারের বাস্কেট ফেল করায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে। : এদিকে গ্যাস সরবরাহের দাবিতে প্রতিদিনই কারখানার শ্রমিক- কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা পালন করে আসছে। : তিতাসের ঘোড়াশাল সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াশাল সার কারখানায় দৈনিক ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট ও পলাশ সার কারখানায় ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। ঠিক কবে নাগাদ সরকার গ্যাস সরবরাহের অনুমতি দিবে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। : এ বিষয়ে ঘোড়াশাল সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবুল কাসেম জানান, গ্যাস প্রত্যাহার করে নেয়া সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে কবে নাগাদ কারখানা পুনরায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে তা সঠিকভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানাটির যন্ত্রপাতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

দ্রুত রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান দেখছেন না ব্রিটিশ মন্ত্রী। আপনিও কি তাই দেখছেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
652 জন