সরকার পতনে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই : ফখরুল
Published : Tuesday, 28 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 27.11.2017 10:34:56 PM
সরকার পতনে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই : ফখরুলদিনকাল রিপোর্ট : সরকার জাতির ওপর পাথরের মতো চেপে বসেছে। এই পাথর সরাতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, বিএনপি ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠে। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা, দেশপ্রেম, স্বাধীন থাকার যে আগ্রহ-আকাক্সক্ষা তাকে কোনো দিন দাবিয়ে রাখা যাবে না। আমাদেরকে সবার আগে যেটা করতে হবে, ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে, সংগঠন গড়ে তুলতে হবে এবং আন্দোলনের মুখেই নির্বাচনে যেতে হবে এবং সেখানেই আমাদের জয়লাভ করতে হবে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল একথা বলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑবিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর। মির্জা ফখরুল বলেন, আজ পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে যত যুদ্ধ জয় সম্ভব হয়েছে, যত আন্দোলন-সংগ্রাম সফল হয়েছে এর সব কিছুর পেছনে ছিল একটা ডিসিপিলিন ফোর্স। যদি শৃঙ্খলাবদ্ধ না হন তাহলে কোনো আন্দোলনে বিজয় অর্জন করা যাবে না। আমি বলতে চাই, আপনাদের সংগঠন তৈরি করতে হবে, ঘরে ঘরে মানুষের কাছে গিয়ে বলতে হবে কোথায় অন্যায়টা হচ্ছে, কেন আমরা এই কথা বলছি, কেন এই সরকার জনগণের অজনপ্রিয় সরকার- এসব মানুষকে বলতে হবে। আজকে ৬০-৭০ টাকা চালের দাম, প্রতিটি দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ুন গ্রামে গ্রামে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, মানুষকে সরকারের অন্যায়গুলো বলুন। : একাদশ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে নয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতায় থাকবেন, ডুগডুগি বাজাবেন, আর সব নিয়ন্ত্রণ করবেন। আবার নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাবেন- এই স্বপ্ন দেখছেন আপনারা। আপনারা তো ২০৪১ সাল পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে ফেলেছেন।’ আমরা বলতে চাই, এই সংসদ রেখে কোনো মতেই নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এই সরকারকে রেখে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেন, সহায়ক সরকার বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলেন-মূল কথা হচ্ছে একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে যারা নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করবে। : বিএনপি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেয়া বক্তব্যকে উদ্ধৃতি করে তাকে ‘কিছুটা বাস্তববাদী’ বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিকদের এতো সহজে এদেশ থেকে দূর করা যাবে না। হাসানুল হক ইনু সাহেব (জাসদ সভাপতি) প্রায়ই বলেন যে, বিএনপির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। হানিফ সাহেব (আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ) বলেন, বিএনপিকে রাজনীতি করতে দেয়া যাবে না। অবশ্য ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেন যে, বিএনপিকে অস্বীকার করা যাবে না। এর পেছনে এখনো বহু লোক আছে। কিছুটা বাস্তববাদী এই কারণে তিনি সেই কথা বলেন। আমি কোনো ব্যক্তি নিয়ে কথা বলতে চাই না, কারণ এটা আমার অভ্যাস নয়। : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে ১৯৭২-৭৫ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলের ইতিহাস জনগণ ভুলে যাবে না বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ইতিহাসের কথা বলেন আপনারা (প্রধানমন্ত্রী)। ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত এদেশে কী করেছেন এটা সবাই জানে। ওই বইগুলো পড়ে দেখুন, বইগুলো সরিয়ে ফেলেছেন আপনারা। তখনও আজকের মতো অবস্থা ছিল, রাস্তার ধারে গুলিবিদ্ধ ডেডবডি পড়ে থাকতো। তখন আজকের মতোই গুম হয়ে যেতো কেউ খবর দিতে পারতো না। কমিউনিস্ট পার্টির শান্তিসেন, তার স্ত্রী, তার ভাইয়ের বউকে ওই রক্ষী বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল, সারা রাত পানির মধ্যে, ঠান্ডার মধ্যে চুবিয়ে রেখেছিল এবং ২১ দিন নির্মম নির্যাতন করেছিল। সিরাজ সিকদার ভিন্নমত পোষণ করতেন বলে তাকে গ্রেফতার করে পেছন দিক থেকে গুলি করে বললেন যে, ক্রসফায়ার। এরকম হাজার হাজার ভিন্নমতের মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে সেই ইতিহাস আমরা ভুলে যাইনি, জনগণ ভুলে যাবে না। আমরা ভুলে যাইনি সেদিন আপনাদের দুঃশাসনে, দুর্নীতি-লুটপাটে এক লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা গেছে। ১৯৭২-৭৫ সালে মানুষ হাত তুলে দোয়া করতো কখন এই জালেমের হাত থেকে মুক্তি পাবে। আজ আবারো মানুষ সেই দোয়া করতে শুরু করছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করতেই সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার চক্রান্ত করছেন বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বয়াতি ওবায়দুল কাদের সাহেব। প্রতিদিন উনি কোনো না কোনো গান গাচ্ছেন। উদ্ভট, অদ্ভুত গান গেয়ে যাচ্ছেন। মানুষ শুনছে কি শুনছে না সেই দিকে তার খেয়াল নেই। তিনি বলেছেন, বিএনপি গভীর খাদের কিনারে। আমি বলতে চাই, আপনারা কী বিশাল ফুল বাগানের কিনারে দাঁড়িয়ে আছেন নাকি। মানে ধাক্কা খেয়ে পড়লে পরে ওই কিনার থেকে হাস্না হেনা, চামেলী, গোলাপ, বেলী, চন্দ্র মল্লিকার মধ্যে পড়ে যাবেন। আপনারা এমন একটি কিনারে দাঁড়িয়ে আছেন, শুধু ছোট্ট একটা ধাক্কা খেলেই সিটি করপোরেশনের ডাস্টবিনের মধ্যে পড়ে যাবেন- এটা মনে রাখবেন ওবায়দুল কাদের সাহেব। ক্ষমতার জোর, পুলিশের জোর, র‌্যাবের জোর। এই জোরাজুরি দিয়ে নিজেকে খুবই ক্ষমতাবান মনে করছেন। কিন্তু পায়ের তলা থেকে পলি মাটি, লাল মাটি সব মাটি সরে গেছে। এখন চোরাবালির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। ডাল ভেঙে যখন পা-হাতটা ছুটে যাবে তখন একেবারে অতলে চলে যাবেন। : ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সহ-সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ মহানগর উত্তরের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি রবিউল আউয়াল, যুগ্ম সম্পাদক শামীম পারভেজ, দফতর সম্পাদক এবিএম আব্দুল রাজ্জাক, উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপি নেতা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন মন্ডল, ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরামসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। :   :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

দ্রুত রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান দেখছেন না ব্রিটিশ মন্ত্রী। আপনিও কি তাই দেখছেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
666 জন