অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে সবাই মেনে নেবে : বার্ণিকাট
Published : Wednesday, 29 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 28.11.2017 10:43:56 PM
দিনকাল রিপোর্ট : গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে ভোট দেয়া নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। তিনি বলেন, সবদলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে সবাই তার ফল মেনে নেবে। নির্বাচনে স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে তার ফলে ভোটাররা বেশি আস্থাশীল হবে। : বার্নিকাট বলেন, একটা কার্যকর গণতন্ত্রে সব রাজনৈতিক দলের মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে। নাগরিকদের ভোটার হওয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে।  কোনও ধরনের বাধা বা চাপমুক্ত থেকে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে হবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনও স্থান নেই। : গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত ‘অ্যাডভান্সড উইমেন্স লিডারশিপ ইন ইলেকশনস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বার্নিকাট এসব কথা বলেন। : যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক দল, তরুণ ও নারী নেত্রীর সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিকরণ রাজনীতি নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে দৃঢ় করতে নারীদের নিরাপদ অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখনও বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী থাকার পরও রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়া পিছিয়ে রয়েছে। : বার্নিকাট বলেন, গণতন্ত্র মানে শুধু ব্যালট বাক্সে ভোট দেয়া না। নির্বাচনের আগে যা হয়, নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পর যা হয় সবকিছুই গণতন্ত্রের অংশ। : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, একটা কার্যকর গণতন্ত্রে সকল রাজনৈতিক দলের মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে। নাগরিকদের ভোটার হওয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে। কোনো ধরনের বাধা বা চাপ মুক্ত থেকে ভোট প্রদানের সুযোগ থাকবে হবে। : তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন পদে নারীরা  নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এখনো অনেক কিছু করার আছে। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে আছেন নারীরা। : বার্নিকাট বলেন, নির্বাচনি ব্যবস্থায় নারীদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ বিভিন্ন কারণে নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। ইসলামিক দলগুলোর নেতৃত্বে নারীদের অবস্থান শূন্য। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, ধর্মীয় প্রত্যাশা, লিঙ্গভিত্তিক ও রাজনৈতিক সহিংসতাও নারীদের অংশগ্রহণ না করার কারণ। একটি দৃঢ় গণতান্ত্রিক সমাজে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। বাংলাদেশের গণতন্ত্রেও সহিংসতার স্থান নেই। যদি অংশগ্রণমূলক নির্বাচন এবং স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয় তাহলে ফলাফলের ওপর ভোটারদের আস্থা থাকে। : আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা আশা করি শুধু রাজনৈতিক দলের নেতারা নন বরং সকল স্তরের নাগরিকরা একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করবেন। আমাদের সুযোগ হয়েছে আজ বাংলাদেশের গণতন্ত্র দৃঢ় করতে আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছি তা প্রতিফলিত করার এবং আমরা এখনো যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি তা নিয়ে কথা বলার। : নারীরা ভোট জালিয়াতি করেন না : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, প্রায় ৩১ বছর ধরে দেশের পুরুষের হাতে মতা নেই। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ অনেক পদেই ভাল ভূমিকায় আছেন নারীরাই। ১৯৮৬ সাল থেকে এ অবস্থার শুরু। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ ধরনের নজির নেই। : সিইসি বলেন, দেশের নারীরা ভোট জালিয়াতি করেন না। ভোটকেন্দ্রে মারামারি করেন না। নারীরা যেমন ঘর গোছাতে পারেন, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও সফল। রাজনীতিতে আসা নারীদের যোগ্যতা নিয়েও কোনো সন্দেহ নেই বলে উল্লেখ করেন সিইসি। : গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে  হোটেল লেকশোরে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সিইসি এসব কথা বলেন।   : সিইসি বলেন,‘আমরা নেতৃত্ব দানে পিছিয়ে আছি তা স্বীকার করি না। আপনাদের দেশে কিন্তু নারীর তেমন অগ্রগতি নেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো নারী নেতা পাওয়া যায়নি। চীনে অদূর ভবিষ্যতে মতায় কোনো নারী আসবে বলে মনে হয় না। রাশিয়া, তুরস্কে কোনো নারী রাষ্ট্র প্রধান হতে পারেননি। জাপানের রাজনীতিতে নারী কই?’ : সিইসি বলেন, ‘কতজন নারীকে মনোনয়ন দেবে তা আমরা কোনো দলকে বলতে পারি না। এ বিষয়ে হস্তপে করতে পারি না। তবে দলগুলোকে উৎসাহী করতে পারি। আর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ২০০৯ (সংশোধিত) অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে বাধ্যতামূলকভাবে ৩৩ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্ত করার আইনগত ভিত্তি তো আছেই। : এইচটি ইমাম : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, বর্তমানে রাজনীতির েেত্র নারীরা অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তৃণমূলে নারীদের কথার কতটুকু গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। : তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন কোনো আইন করবে না। নিজ নিজ দলের নেতাদের ওপর এজন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। : ড. আব্দুল মঈন খান : নারী-পুরুষকে সমান চোখে না দেখার বিষয়টি বৈশ্বিক সমস্যা বলে মনে করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টে নারীদের প্রতিনিধিত্বের হার তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংরতি আসনের বিষয়টি নারীদের উন্নয়নের জন্য বাধা হিসেবে কাজ করছে। নারীরা নির্বাচনে জিততে পারেন না এ ধারণা সঠিক না। গঠনতন্ত্র সংশোধন, নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে, এক সময় মতা ছেড়ে দিতে হবে।  দেশ শাসনের মতা জনগণের। তাদের হাতে মতা ফিরিয়ে দিতে হবে। : আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী : বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন না করলে কোনো আইন কাজ করবে না। আর এজন্য প্রথম ধাপ হচ্ছে গণতন্ত্র। আমরা আসলে মন থেকে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি না, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি করি না, বৈচিত্র্যতে বিশ্বাস করি না। নারীদের ৩৩ শতাংশ কোটায় বেঁধে না রেখে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে তাগিদ দেন তিনি। এজন্য সাংঘর্ষিক রাজনীতি থেকে সকলকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি বলতে সবকিছুকে বোঝায়। এটা শুধু নারীদের বিষয় নয়। যেখানে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র থাকবে না সেখানে নারীদের কোনো জায়গা নেই। দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন, মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। : ড. হাছান মাহমুদ : নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে কপ্রণ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, আমরা আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক দেখতে চাই। নারী নেত্রীদের যেমন নারীর মতায়নের জন্য এগিয়ে আসতে হবে তেমনি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানেও তাদের কাজ করতে হবে। : রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের কমিটিতে নারীদের ৩৩ শতাংশ উপস্থিতি এখনই বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়ে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইনে বিষয়টি পর্যায়ক্রমে করার কথা বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শব্দটি তুলে দিয়ে বাধ্যতামূলক করা হলে নারীদের রাজনৈতিক দলে অংশগ্রহণ বাড়বে। : শামা ওবায়েদ : বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। নারীদের ভিন্ন কোনো পরিচয়ে নয়, কাজের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে তাদের মতায়ন করতে হবে। : অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে আসা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় ১৫০ জন নারী নেত্রী দলের অভ্যন্তরে এবং আগামী নির্বাচনে নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধিতে তাদের যৌথ সুপারিশমালাসমূহ দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটির নীতি নির্ধারক এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট তুলে ধরেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

মির্জা ফখরুল ইসলাম পিলখানা হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। আপনিও কি তাই চান?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33761 জন