বিডিআর বিদ্রোহের সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি : ফখরুল
Published : Wednesday, 29 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 28.11.2017 10:43:39 PM
দিনকাল রিপোর্ট : পিলখানা হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেেেণ গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার যে তদন্তের কথা আদালত বলছেন, সেটির সুষ্ঠু, নির্মোহ ও নিরপে তদন্ত হওয়ার দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে ওই ঘটনার সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্র্ণাঙ্গ রিপোর্ট এবং সেনাবাহিনীর করা পৃথক তদন্ত রিপোর্ট কেন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলো না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। সোমবার হাইকোর্টের রায় ঘোষণার একদিন পর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সেমিনার কে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার জাতীয় কাউন্সিলে তিনি এসব কথা বলেন। জাগপার মরহুম সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুর পর নতুন নেতৃত্ব ঠিক করতেই এই বিশেষ কাউন্সিল হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, এই রায় সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে রায়ের যে পর্যবেণে বিচারকরা দিয়েছেন সেই সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। এই বিদ্রোহের উদ্দেশ্য কি ছিলো শুধু সরকারকে বিব্রত বা ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা নাকি বাংলাদেশকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা? ৫৭ জন সেনা মুক্তিযুদ্ধেও আমাদের খোয়াতে হয়নি, সেই ৫৭ কর্মকর্তাকে হত্যা করে কে লাভবান হলো, কারা লাভবান হলো? যারা বাংলাদেশের যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চাইলো, যারা বাংলাদেশের গর্ব সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে চাইলো, কে লাভবান হলো? এ বিষয়গুলো আমাদেরকে অবশ্যই সুষ্ঠু, নির্মোহ নিরপে তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত। : মির্জা ফখরুল প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন গোয়েন্দা সংস্থা ব্যর্থ হলো বিষয়টা জানাতে? কেন সেদিন অতিদ্রুততার সঙ্গে বিদ্রোহ দমন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলো না? কেন সেদিন সিদ্ধান্ত নিতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় অতিবাহিত করতে হলো। আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। এটার (বিডিআর বিদ্রোহ) তো কোনো সুষ্ঠু নিরপে তদন্ত হয়নি। কেন এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর যে তদন্ত রিপোর্ট সেটা প্রকাশিত হলো না, কেন এখন পর্যন্ত একটা যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিলো তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসলো না? এ জিনিসগুলো আমাদের জানার অধিকার আছে। আমরা এদেশের নাগরিক। প্রত্যেকটির নাগরিকের সেটা জানার অধিকার আছে। : ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন,  আমরা বলতে চাই যে, একটা সুপরিকল্পিত কাজ চলছে অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবার জন্যে। ২শ বছরের একটি প্রতিষ্ঠান যা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে সব সময় বাংলাদেশের সীমান্তকে রা করবার জন্যে অত্যন্ত কৃতিত্ব ও গৌরবের কাজ করেছে বলে সর্বত্র স্বীকৃত হয়েছে- এটাকে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে ফেলা হলো, তার নামটা পরিবর্তন করে দেয়া হলো। আমি জেলে ছিলাম কয়েকবার। জেলে বিডিআরের সৈনিক যাদের জেল দেয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংয়ের মাধ্যমে, তাদের প্রায় বহু লোকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ বলেছে আমরা কিছুই জানতাম না। আমাদেরকে টাট্টু সো’র জন্য নিয়ে আসা হয়েছে বিভিন্ন জেলাগুলো থেকে। তারপর এই ঘটনা ঘটেছে। তাদের পরিবারগুলো শেষ হয়ে গেছে, নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। : রায়ে বেকসুর খালাস পাওয়া আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড নেতা তোরাব আলীর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে রায়ের মধ্যে দেখছি তোরাব আলীসহ ১২ জন খালাস। যার নেতৃত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে বৈঠক হলো দাবি-দাওয়া নিয়ে, যার বাসা ব্যবহার করা হলো তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। আর আমাদের নাসিরউদ্দিন পিন্টু যিনি কিছুদিন আগেও জেলে ছিলেন, জেল থেকে বেরিয়েছেন, তাকে আবার মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই বিষয়গুলোর উত্তর প্রয়োজন। এতকিছু ঘটছে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাড়িতে যাচ্ছেন নেতারা, কথা বলছে। সেই বিষয়ে কিন্তু কোনো কথা বলা হচ্ছে না। এটা জানা দরকার। : রাজনৈতিক বিবেচনায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থা করে সরকার প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রশাসনে রাজনৈতিক বিবেচনায় সমস্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে নেয়া হচ্ছে। আমরা অনেকদিন ধরে বলে আসছি যে, এই সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চলেছে। ঘোষণা দিয়ে করবে না কিন্তু যা করছে তা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে কম নয়। এটা তারা (সরকার) করে ফেলেছে ইতিমধ্যে। : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংসদের কী অবস্থা। প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, তিনি দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখন তিনি (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) কানাডায় ছোট্ট এক ঘরের মধ্যে বাস করছেন। দিস ইজ দ্য স্টেট, এটাই আমাদের রাষ্ট্র। এভাবে সংসদ, বিচার বিভাগ, প্রশাসন- রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভ ভেঙে পড়ে গেছে, মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। সেটা করেছে সচেতনভাবে এই আওয়ামী লীগ সরকার। কারণ তারা জানে যে, রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যদি সব কিছু ঠিক রাখা যায় তাহলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। এখনো প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দিয়ে সরকার ‘সাংবিধানিক সংকট’ সৃষ্টি করেছে। : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে টক শোতে কথা বলেন, যে সত্যি কথা বলেন, তার বিরুদ্ধে এভাবে মামলা দেয়া হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির প্রসঙ্গ টেনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ফার্মার্স ব্যাংক মহীউদ্দিন খান আলমগীরের ব্যাংক, তিনি প্রবল প্রতাপশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এই সরকারের। আমরা এমন কেউ নেই যে, নির্যাতনে নির্যাতিত হয়নি, ১৫৪ জনকে আমাদের নয়া পল্টনের অফিস থেকে ধরে নিয়ে গেলো। রানা প্লাজা ধসে পড়লো উনি বললেন বিএনপি ধাক্কা মেরে ভেঙে ফেলেছে। ওনার কথা-বার্তা শুনলে পড়ে মনে হতো দেশে ওনার মতো জ্ঞানী-গুনী লোক দেশপ্রেমিক মানুষ আর কেউ নেই। আজকে বাংলাদেশ ব্যাংক ওনাকে বলছে যে, পদত্যাগ করো না হলে তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। কারণ দুর্নীতি-অনিয়ম-চরম স্বেচ্ছাচারিতা। এটা তো শুধু মহীউদ্দিন খান আলমগীরেরটা প্রকাশ হয়েছে, অন্যদেরটা প্রকাশ হয় না। আমরা জানি, জনগণ জানে, খোদাই হয়ে যাচ্ছে ভেতরে ভেতরে গ্রাম-গঞ্জে সমস্ত তালিকা, ঘটনা সব হচ্ছে। শ্বেতপত্রে প্রকাশিত হওয়ার চেয়ে হৃদয়ের ভেতরে থাকলে সময়মত ঠিক আসবে। : বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা দুর্নীতি মামলা’ দায়েরের উদ্দেশ্যও তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ষড়যন্ত্র কত গভীরে যাচ্ছে, তা আমাদের বুঝতে হবে। সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংকটকে এড়িয়ে যাবেন, সংকট এড়িয়ে গেলে তা আরো ঘনীভুত হবে, বৃদ্ধি পাবে। তাই বলব, এসব দাম্ভিকতা ছেড়ে দিয়ে, আত্মম্ভরিতা ছেড়ে দিয়ে আপনাদেরকে শুভ পথে আসার জন্য আমরা আহবান জানাচ্ছি। মানুষের কল্যাণের জন্য, জনগণ ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য এসব দাম্ভিকতা বাদ দিয়ে আসুন দেশনেত্রী যে আহবান করেছেন সেই পথে আসুন। তিনি বলেছেন যে, আসুন আমরা আলাপ-আলোচনা মাধ্যমে, সংলাপের মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচন যাতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, সকলে যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। জনগণের সরকার একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করি। : জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএনপি নেতা অ্যালবার্ট পি কস্টা, জাগপার সিনিয়র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, সহ-সভাপতি খন্দকার আবিদুর রহমান, আবু মোজাফফর মো. আনাছ, মাস্টার এম এ মান্নান, রকিবউদ্দিন চৌধুরী মুন্না, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম শফিক, শেখ জামালউদ্দিন, ইকবাল হোসেন, আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকন উদ্দিন হাজারী, শাহজাহান খোকন, যুব জাগপার সভাপতি সাইদুর রহমান, জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল আলম, যুব জাগপা নেতা নজরুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

মির্জা ফখরুল ইসলাম পিলখানা হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। আপনিও কি তাই চান?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33798 জন