চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা : ডাক্তার নেই ওষুধ নেই যন্ত্রপাতিও অচল
Published : Thursday, 30 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 29.11.2017 10:44:44 PM
চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা : ডাক্তার নেই ওষুধ নেই যন্ত্রপাতিও অচলদিনকাল রিপোর্ট : সরকারি ও বেসরকারি নামিদামি হাসপাতালেও চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সব হাসপাতালেই চিকিৎসা সেবার নামে চলছে রমরমা বাণিজ্য। বলতে গেলে চিকিৎসা সেবার মান অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। দেশের অধিকাংশ হাসপাতাল এবং কিনিকগুলোতে অদক্ষ, অর্থলোভী চিকিৎসক, নার্স আর বহিরাগত দালালদের একচেটিয়া দৌরাত্ম্য চলছে। তাদের কাছে সম্পূর্ণভাবে জিম্মি হয়ে পড়েছে অসহায় রোগী এবং অভিভাবকরা। : সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ হাসপাতালেই পরীক্ষাগারের (ল্যাবে) আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নতমানের উপকরণ অর্থাৎ মেডিসিন এবং দক্ষ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। পুরনো যন্ত্রপাতি আর মেডিসিন ব্যবহার করেই রোগীদের নানা জটিল রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা  চলছে। শুধু তাই নয়, অনেক হাসপাতালে টেকনিশিয়ানই পরীক্ষার রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষে মতামতসহ সই-স্বাক্ষর করেন। এমন অভিযোগও প্রায়ই বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়। আবার অনেক সরকারি হাসপাতালে আশপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো নানা নামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কিনিক ও হাসপাতাল। ওইসব হাসপাতালে অনেক সরকারি চিকিৎসকরা কন্ট্রাকে রোগীদের অপারেশনসহ চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তারা সরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত সময়েও মনোযোগ সহকারে রোগী দেখার সময় পান না, এমন অনেক অভিযোগও রয়েছে। : শুধু তাই নয়, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কর্মচারীরা  ওইসব হাসপাতালে এবং কিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টায় থাকেন সবসময় তৎপর। তাদের খপ্পরে পড়ে অনেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করেন। ইদানীং প্রায় মিডিয়ায় খবর আসে অপারেশন থিয়েটারে রোগীর পেটে কখনো গজ, কখনো কাচি আবার কখনো  মহিলা রোগীর পেটে যমজ  সন্তানের একটিকে বের করে আরেকটিকে পেটের ভেতর রেখেই  সেলাই করে দিয়েছেন। এমনই একটি আলোচিত ঘটনায় কুমিল্লায় একটি কিনিকের মালিককে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই চিকিৎসককে অপারেশন থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। চিকিৎসার নামে চলছে অপচিকিৎসা। : বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার বলা আছে অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং বাসস্থানের বিষয়টি। সরকারি হাসপাতালে এক সময় বিনামূল্যে সাধারণ রোগীরা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ওষুধসহ চিকিৎসা সেবা পেতেন। কিন্তু বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত ফি দিয়েও সময় মতো চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি পরীক্ষা নিরীক্ষায় ভালো টাকা নেয়া হয়। ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। শুধুমাত্র ডাক্তারদের পরামর্শটা অল্প টাকায় কেনা একটি টিকিটের বিনিময়ে হয়ে থাকে। আর এই  সুযোগেই চিকিৎসকদের ছত্রছায়ায় সরকারি হাসপাতালেই গড়ে উঠেছে রোগী ভাগানো অনেক সিন্ডিকেট। : রাজধানী ঢাকা শহরসহ দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও গড়ে উঠেছে অসংখ্য নানা নামে হাসপাতাল এবং কিনিক। ওইসব হাসপাতালে ভালমানের ডাক্তার, নার্স ও ভালো টেকনিশিয়ান পর্যন্ত নেই। কন্ট্রাকে জেলা  কিংবা উপজেলা পর্যায়ে দুই একজন চিকিৎসক মাঝেমধ্যে ওইসব কিনিকে রোগী দেখেন বলে জানা যায়। এদিকে মাঝেমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীরা রক্ত পরীা, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ পরীাসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেখা যায় না। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন নিয়ে থাকেন বেশি ব্যস্ত। : সূত্র মতে, দেশের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ জাতীয় সংসদেও ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা হয়। অনেক সংসদ সদস্যরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদেরকে প্রশ্ন করে বেশ বেকায়দায় ফেলতে দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে এখনো তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। জবাবে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বলেন, চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্য উপকরণ সঙ্কটসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। : চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছেন দাবি করে তীব্র ােভ প্রকাশ করেন তারা। তারা বলেন, সারাদেশের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন এটা সরকারি দলের জন্য শোভন নয়। হাসপাতালের বেহাল দশা বর্ণনা করে কয়েকজন সংসদ সদস্য বলেন, এসব নিয়ে প্রশ্ন করে মন্ত্রীকে লজ্জা দিতে চান না। কারণ এখন লজ্জাতে প্রিজারভেটিভ দেয়া থাকে। সংসদ সদস্যদের অসন্তোষের মুখে মন্ত্রীরা প্রায় বলেন মন্ত্রণালয়ের চেষ্টার ত্রুটি নেই। : কখনো কখনো বলতে শোনা যায়, দেশের জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর করুণ অবস্থা। ৮০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন ডাক্তার আছে। ডাক্তার দেয়াতো দূরের কথা উল্টো যারা ছিল তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে অনেকবার বলা হয়েছে শূন্যপদে ডাক্তার নিয়োগ করা হবে। সরকারের  কাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে জানেন না। অনেক নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ দেয়া হয়েছে। এগুলো কারা পেয়েছে জানেন না। সারাদেশে মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেÑ এটা তাদের দলের মতো রাজনৈতিক দলের জন্য শোভনীয় নয়। : মন্ত্রীরা বলেন, চিকিৎসা খাতে সমস্যা আছে। ডাক্তারের সমস্যা রয়েছে, যন্ত্রপাতির সমস্যা রয়েছে, প্রশিণের সমস্যা রয়েছে। তবে তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। সংসদে আলোচনার বিষয়গুলো মধ্যে আরো রয়েছে, হাসপাতালে বেড বাড়ানোর কথা, ডাক্তার নিয়োগের কথা। কিন্তু হাসপাতালে ডাক্তার নেই, কবিরাজ নেই, ঢাল নেই, তলোয়ার  নেই নিধিরাম সর্দার। নতুন করে কোনো হাসপাতাল বেড বাড়ানোর দরকার নেই। যেগুলো আছে সেগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করুন। মারুফ সাকলাইন তার নির্বাচনি এলাকার দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক সঙ্কটের কথা তুলে ধরা হয়। : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করে সরকার আরও কঠোর আইন করবে বলে আশঙ্কা করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33588 জন