ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাদ দিন : অ্যামনেস্টি
Published : Thursday, 30 November, 2017 at 12:00 AM, Update: 29.11.2017 10:44:11 PM
ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাদ দিন : অ্যামনেস্টিদিনকাল রিপোর্ট : জনমানবহীন ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের সব পরিকল্পনা বাদ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এর দণি এশিয়াবিষয়ক পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক বলেছেন, ওই দ্বীপটি শরণার্থীদের অন্যান্য আশ্রয়শিবির থেকে অনেক দূরে। বন্যায় তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিপজ্জনক এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেখানে। এমন জনমানবহীন একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে ভয়াবহ একটি ভুল সিদ্ধান্ত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা রিফিউজিস মাস্ট নট বি রিলোকেটেড টু আনইনহ্যাবিটেবল আইল্যান্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ওই ঠেঙ্গারচরে কমপে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের এমন সব পরিকল্পনা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। উল্লেখ্য, ওই দ্বীপটি বসবাসের উপযোগী করতে ২৮ কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন। বন্যাপ্রবণ। জনমানবহীন। রোহিঙ্গাদের যতদিন মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যাবে ততদিন ওই দ্বীপেই অস্থায়ী ভিত্তিতে রাখা হবে রোহিঙ্গাদের। বিরাজ পাটনায়েক বলেন, তিন মাস ধরে বাংলাদেশ কমপে ৬ লাখ রোহিঙ্গার জন্য তার দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আর এখন তারাই ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে তারা। এতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে যে প্রশংসা কুড়িয়েছিল তা নষ্ট হবে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা আশ্রয় শিবির ত্যাগ করছে এবং তারা মিয়ানমারে ফিরে যাচ্ছে এমনটা দেখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। কিন্তু এতে ওইসব রোহিঙ্গার নিরাপত্তা ও কল্যাণ ঝুঁকিতে পড়বে। উল্লেখ্য, ঠেঙ্গারচর স্থানীয়ভাবে ভাসানচর নামেও পরিচিত। এ চরটি দৃশ্যমান হয় ১১ বছর আগে। বর্ষার মৌসুমে তা মারাত্মকভাবে বন্যাকবলিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই জনমানবহীন এই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করার বিষয়ে যে বিপদ রয়েছে সে বিষয়ে মানবাধিকারবিষয়ক সম্প্রদায় সতর্কতা দিয়েছে। নিকটবর্তী বসতি থেকে এই দ্বীপে যেতে সময় লাগে দু ঘন্টা। তাই রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে। গত সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া নিয়ে একটি চুক্তি স্বারিত হয়। এ চুক্তির অধীনে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা। ২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের কারণে তারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এ সমস্যার মৌলিক কারণ নিয়ে সম্প্রতি একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাতে দেখানো হয়েছে, রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যসহ সব রকম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে করা হচ্ছে বর্ণবাদী আচরণ। রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে বিরাজ পাটনায়েক বলেন, এখনও বাংলাদেশের হাতে সময় আছে এই অপরিণামদর্শী অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা। জোর করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে অর্জিত সম্মান নষ্ট হবে, আর কিছু নয়। তাতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হবে এবং রোহিঙ্গারা সেই একই রকম ভয়াবহতার শিকার হবে। : : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করে সরকার আরও কঠোর আইন করবে বলে আশঙ্কা করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33595 জন