পাটকেলঘাটায় তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ!
Published : Friday, 1 December, 2017 at 12:00 AM
পাটকেলঘাটায় তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ! পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : পাটকেলঘাটায় সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক-সংলগ্ন বকশিয়া মাঠে তিন ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি এলাকার মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ১০০ বিঘা কৃষিজমিতে ইটভাটা নির্মাণ করায় আশপাশের কৃষিজীবী ও জনবসতি এলাকার দুই শতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত লিখিত আপত্তিপত্র জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতরসহ বিভিন্ন দফতরে দাখিল করা হয়েছে। দাখিলের ৬-৭ মাস অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত আইনগত কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় এলাকাবাসী হতাশ হয়ে পড়েছেন। প্রাপ্ত অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা গেছে, সাতক্ষীরা-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪৫তম কিলোমিটার-সংলগ্ন তালা উপজেলার বকশিয়া গ্রামে ৩ ফসলি মাঠে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই সাতক্ষীরায় পলাশপোল গ্রামে বসবাসরত মৃত শহিদ মোল্লার ছেলে মোজাম্মেল হক নিজে মোল্লা ব্রিকস্ নামে ইটভাটা নির্মাণ ও পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বছরখানেক ধরে এসব অবৈধ কাজ চললেও উপজেলা বা জেলা প্রশাসন নির্বিকার রয়েছে। পরিবেশ অধিদফতর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এলাকার কৃষিজীবী মানুষ এ অবৈধ ইটভাটার ব্যাপারে লিখিত আপত্তিপত্র গত  ৪ মে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক,  ৮ মে পরিবেশ অধিদফতর এবং ১৪ মে নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) সাতক্ষীরা বরাবর পৃথকভাবে দাখিল করলেও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা। একমাত্র সওজ কর্তৃপক্ষ ২২ মে ভূমি ও বিল্ডিং (দখল উদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭০-এর ৫ ধারা মোতাবেক ১৫৯৫ নম্বর স্মারকপত্রে ইটভাটা নির্মাণকারীকে ৭ দিনের মধ্যে সড়ক সীমানা ব্যবহার ও নির্মাণকৃত ঘরবাড়ি অপসারণের নির্দেশ দেন। অজ্ঞাত কারণে কোনো নির্দেশনাই মানা হয়নি। বরং নির্মাণকাজ আরো দ্রুত গতিতে চালানো হয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তালা উপজেলার ৪ নম্বর কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যানের দফতর থেকে গত ৩১ জুলাই ১৭০২ নম্বর ক্রমিকে একসনা একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এ অবৈধ কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসক, কৃষি অফিস এবং পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র বা অনুমতি তো দূরের কথা এসব দফতরে আবেদনপত্র পর্যন্ত জমা দেয়া হয়নি। দেশের খাদ্য উৎপাদনের কৃষিজমিতে কোনোভাবে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। তা ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং পরিবেশের ভারসাম্য হারায় সেসব স্থানে ইটভাটা নির্মাণ বা পোড়ানোর কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও এখানে তার কোনোটি মানা হচ্ছে না। নীতিমালা অনুযায়ী এসব অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনের বিধান থাকলেও উপজেলা বা জেলা প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। সারা দেশে খাদ্যে ভেজালকারী ও মাদক সেবনকারীদের রোধ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ডের পাশাপাশি অর্থদন্ড অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু এ অবৈধ ইটভাটা নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে কোনো : আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় এলকাবাসী ফুঁসে : উঠেছেন। অনেকে মন্তব্য করে বলেছেন আইন-কানুন কি শুধু দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য? : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

টিআইবি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে । আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
13150 জন