ঝিনাইদহে জমজমাট সুদ ব্যবসা
দায়েরকৃত শতাধিক মামলা বিচারাধীন অগনিত মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে আতঙ্কে
Published : Friday, 1 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 30.11.2017 9:09:41 PM
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ : সাইকেল ব্যবসায়ী রনো দত্তের ঝিনাইদহ শহরে জমজমাট ব্যবসা ছিল। শেরেবাংলা সড়কে ছিল তার জননী সাইকেল স্টোর নামে একটি বড় দোকান। প্রভাব আর প্রতিপত্তির কোনো কমতি ছিল না। এরপর ব্যবসা প্রসারের জন্য তিনি চড়া সুদে টাকা নেন। আর এটাই হলো তাদের কাল। ঝিনাইদহ শহরের সুদখোর পবহাটী গ্রামের ইমরান শাহ ও আর্মি খোকনের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। কিন্তু সুদ আর আসল দিতে দিতে পেরেশান রনো দত্ত সুদখোরদের ভয়ে বাড়ি বিক্রি করে পাড়ি জমান ভারতে। তেঁতুলতলা গ্রামের নিখিল ও সুনীল কুমার কুন্ডুরও ঝিনাইদহ শহরে জমজমাট ব্যবসা ছিল। কেসি কলেজের সামনে ছিল তাদের ভাই ভাই স্যানেটারি নামে একটি বড় দোকান। তারাও সুদের টাকা দিতে না পেরে গোপনে ঝিনাইদহের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বিক্রি করে ভারতে রানাঘাটে স্থায়ী হয়েছে। শহরের কলাবাগান পাড়ার স্বরজিৎ ও চাকলাপাড়ার কোমলের ছিল কোকাকোলার বড় ব্যবসা। সুদের টাকা দিতে না পেরে তারা ভারতে চলে গেছেন। শহরের মির্জা স্টোরের মালিক শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হয়ে পথে বসেছেন। শহরের শেরেবাংলা সড়কের হোমিও ডাক্তার আরিফ জনৈক খোকনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা সুদের টাকা নিয়ে ২০ লাখ পর্যন্ত দিয়ে শেষ পর্যন্ত সব হারিয়ে পথে বসেছেন। শহরে নিজের বাড়ি ও মার্কেট বিক্রি করে এখন ভাড়ার বাড়িতে বসবাস করছেন। মধুপুরের তাপস ও তার ভাই পলাশ কুন্ডু এবং পার্কপাড়ার অদৈত শাহা সুদে কারবারে ছারখার হয়ে গেছেন। এভাবে শহরের চাল ব্যবসায়ী মোকাদ্দেস হোসেন, রিয়াদ কটন শপের মালিক আসলাম হোসেন, ওরিয়েন্টাল স্টোরের মালিক সাবু মিয়া, ইটভাটা মালিক শহিদুল ইসলাম, রবি হার্ডওয়ারের মালিক আব্দুল মান্নান, তমা হার্ডওয়ারের মালিক স্মৃতি কুমার দাস, চাপড়ি মধুপুর বাজারের ব্যবসায়ী রামপাল, শ্যামপাল ও মদনপাল, টাইলসের দোকানদার মফিজ ও তার ভাগ্নে রুহুল আমিন এবং ট-বাজারের কার্তিক চন্দ্রসহ শ’ শ’ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এখন দেউলিয়া। ভিটেবাড়ি বিক্রি করে আসল টাকা পরিশোধ করলেও সুদের টাকার জন্য উল্টো মামলা ঝুলছে। শহরের মডার্নপাড়ার সিরাজ উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি সুদখোর ইমরানের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত তিনি সব টাকা পরিশোধ করেছেন। তারপরও ৬৫ লাখ টাকার মামলা দিয়ে সুদখোর ইমরান হয়রানি করছেন। শহরের প্রতিষ্ঠিত চাল ব্যবসায়ী ইমরানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে ৩৩ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরেও তার নামে ৩৪ লাখ টাকা দাবি করে চারটি মামলা দিয়েছে। ঝিনাইদহ শহরের এইচএসএস সড়কের আসাদ মিয়ার জামাই ইউনুস আলী বেসিক ব্যাংকের ব্লাংক চেক দিয়ে সুদখোর ইমরান শাহর কাছ থেকে অল্প কিছু সুদে টাকা নেন। পরে টাকা দিতে না পারায় তার নামে গত ২৬ জানুয়ারি ঝিনাইদহ আমলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার লাখ টাকার মামলা ঠুকে দেয়। শহরের কবি গোলাম মোস্তফা সড়কের জনতা ইটভাটার মালিক মফিজুল ইসলাম বাবুল জোয়ারদারের নামে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে দুটি মামলা দায়ের করেছে সুদখোর ইমরান শাহ।  ঝিনাইদহের আদালতের পেশকারদের দেয়া প্রাপ্ত তথ্যমতে সুদখোরদের  দায়ের করা এমন চার শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া শ’ শ’ ব্যবসায়ী ঘরবাড়ি, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেলে রেখে মাসের পর মাস পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সুদখোরদের ভয়ে। এদের  সন্ত্রাসী বাহিনী আছে, এই বাহিনী দিয়ে তারা বিভিন্ন ভয়-ভীতি, মারধর করে। ইতিমধ্যে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে হামদহ এলাকার ঠিকাদার বিপ্লব গলায় ফাঁস নিয়ে এবং ঢাকালে হালিম ও আব্দুর রশিদের অকাল মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন ভুইফোঁড় সমিতি ও এনজিওর নামে দাদন ব্যবসা চালিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, সুদে ব্যবসার ব্যাপারে কয়েকজন মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। : :  





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

টিআইবি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে । আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
13144 জন