হরতালে বিভিন্নস্থানে পুলিশের হামলা
Published : Friday, 1 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 30.11.2017 11:15:22 PM
দিনকাল রিপোর্ট : বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার বাম দলগুলোর ডাকা অর্ধদিবস হরতাল পালনকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পিকেটারদের ওপর হামলা চালিয়েছে পুলিশ। দেশব্যাপী এই হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। হরতালে পুলিশি বাধার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সারাদেশে বাম দলগুলো বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এদিকে হরতালে গতকাল কিশোরগঞ্জ, খুলনা, গাইবান্ধা, জামালপুর, কুমিল্লা, দিনাজপুর, যশোর, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার মোহাম্মদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সব লাঠিচার্জের ঘটনায় বহু আহত হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে অনেককে।  পুলিশি বাধার নিন্দা জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, দেশের সবাই আমাদের হরতালে সমর্থন দিয়েছেন। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে সরকারসহ নানা মহল পকেটে টাকা ভরছে। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, এটা ন্যায্য আন্দোলন। আমাদের শক্তি ন্যায্যতা। সংশ্লিষ্টরা ডাকাতের মতো অর্থ লুট করছে। গণশুনানি করে সরকারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক। এটা তখন তারা বুঝেছিল। কিন্তু তবুও সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে ধোঁকা দেয়া ছাড়া আর কিছু না। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে হরতালে পুলিশের হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রগতি ছাত্র জোটের সমন্বয়ক নাসির হোসেন প্রিন্স বলেন, শাহবাগে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। যা কোনোভাবে যৌক্তিক নয়। এছাড়া অহেতুক পুলিশ লাঠিচার্জ করছে হরতাল সমর্থকদের ওপরে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাম মোর্চার সমন্বয়কারী মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশারফ হোসেন নান্নু, ওয়ার্কার্স পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড লক্ষ্মী চক্রবর্তী প্রমুখ। : জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলা শহরে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জে আহত হন ১০ জন ও আটক ৭ হন। এ ঘটনায় আহত নেতাকর্মীকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন কিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে হরতালের সমর্থনে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদণি শেষে ডিবি রোডের এক নম্বর ট্রাফিক মোড়ে আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময়  নেতাকর্মীরা সেøাগান দেয়া শুরু করলে পুলিশ এসে বাধা দেয়। পরে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়পরে মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মিহির ঘোষসহ, সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও ছাত্র ইউনিয়নের সাতজন নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। অপরদিকে গাইবান্ধা জেলা শহরের কোথাও হরতালের কোনো প্রভাব ল্য করা যায়নি। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কে পুলিশ টহল দেয়। কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়া বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিনের ন্যায় সাইকেল-মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান, মাইক্রোবাসসহ বাস-ট্রাক চলাচল করে। : সিপিবি গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষে আমরা আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই পুলিশ এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয় ও সাতজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে আরও তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাসহ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা মিছিল শেষে সড়কে বসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদেরকে সরানোর সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন ঢিল ছোড়ে। সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে কাউকে আটক করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। : সিলেট : বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বামপন্থি জোটের ডাকা বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস হরতাল সিলেটে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করেছে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা এর নেতাকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকেই হরতালের সমর্থনে জোটের নেতাকর্মীরা নগরীর কোর্টপয়েন্টের সামনে এসে অবস্থান নেন। এরপর সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক দফা মিছিল করেন ও বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। কোর্ট পয়েন্টে অবস্থানের সময় নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, জিনিসপত্রের দাম বড়েছে। কিন্তু আয় বাড়েনি। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দামও আবার বাড়ানো হয়েছে। জনসংশ্লিষ্ট সকল জিনিসেরই দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এসব গণবিরোধী সিদ্ধান্ত ও জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদেই আজকের এই হরতাল। কোর্ট পয়েন্টে অবস্থানরত সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সহ-সভাপতি সঞ্জয় কান্তি দাস বলেন, সকাল থেকেই আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি সাথে কয়েক দফা মিছিলও করেছি। এদিকে হরতাল সমর্থনে মিছিল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ মার্কসবাদী সিলেট জেলার আহবায়ক উজ্জল রায় ও পরিচালনা করেন বাসদ সিলেট জেলার সদস্য প্রনব জ্যোতি পাল। : এদিকে যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে। সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. আব্দুল ওয়াহাব বলেন, হরতালের নামে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে হরতাল হলেও সিলেটে যানচলাচল ছিল স্বাভাবিক। হরতাল জনমনে তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে যানচলাচল স্বাভাবিক থাকলেও নগরীর বেশ কয়েকটি মার্কেট বন্ধ ছিল। স্কুল কলেজে যথারীতি কাস ও পরীক্ষা হয়েছে। খোলা ছিল দোকানপাট। সকালে দণি সুরমার টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসও ছেড়ে গেছে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার ডাকা সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ অর্ধবেলার হরতালে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। : কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জে বামদলের হরতালে পিকেটারদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এতে জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেশব্যাপী হরতালের সমর্থনে সিপিবি ও বাসদের নেতাকর্মীরা কিশোরগঞ্জে শহরে মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের পুরান থানা এলাকায় গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ব্যানার কেড়ে নেয়। পরে মিছিলকারীরা জেলা সিপিবি কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। হরতালে শহরের দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে। প্রসঙ্গত, বিদ্যুৎসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর ডাকে সারাদেশে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালিত হচ্ছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

টিআইবি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে । আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
13126 জন