সরকারের নির্দেশেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে : রিজভী
Published : Friday, 1 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 30.11.2017 11:15:02 PM
দিনকাল রিপোর্ট : আদালতে বেগম খালেদা জিয়া যে ন্যায় বিচার পাবেন না, এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তা আরও পরিষ্কার হলো মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সরকারের নিষ্ঠুর ও বন্য আক্রোশেরই বহিঃপ্রকাশ। সরকারের কারসাজিতেই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।  রিজভী বলেন, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলোর হরতাল থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গতকাল আদালতে হাজির হতে না পারায় আবারও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে হাজির হয়ে সময়ও চেয়েছিলেন। এমনকি হরতাল শেষ হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চান বলে আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করলেও তা নাকচ করে দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী ও ন্যক্কারজনক। এই ঘটনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রধানের পাশবিক জিঘাংসার প্রতিফলন এটি। জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে হিংসাপরায়ণ সরকারের বিভীষিকাময় আস্ফালন। তিনি বলেন, এ আদালতে বেগম খালেদা জিয়া যে ন্যায় বিচার পাবেন না, এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তা আরও পরিষ্কার হলো। যেখানে প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তা নেই, যেখানে জোর করে অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশত্যাগে তাকে বাধ্য করা হয়, তারপর বিদেশে প্রধান বিচারপতির নিকট সরকারের লোকেরা গিয়ে হুমকি দিয়ে তাকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়, সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধান কিভাবে ন্যায় বিচার পাবেন? যেখানে প্রতিহিংসার বিষ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অন্তরে অমøান থাকে, সেখানে জনগণের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের মুক্তি কঠিন হয়ে পড়ে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সরকারের নিষ্ঠুর ও বন্য আক্রোশেরই বহিঃপ্রকাশ। সরকারের কারসাজিতেই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। : সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহেই সরকার প্রধানের নির্দেশে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানিমূলকভাবে আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। দেশনেত্রীও আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার আদালতে হাািজরা দিয়ে যাচ্ছেন। তারপর গতকাল আবারও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়না জারি যে, সরকারের পরিকল্পিত ও নীলনকশার অংশ সেটা বুঝতে কারও বাকি নেই। ভোটারবিহীন সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জান্তব হিংস্রতায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। মনে হয় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার জ্বালা সরকার প্রধানের মনের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলছে, এ আগুন যেন অনির্বাণ। নিপীড়নের মাত্রা কত তীব্র হলে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালা মিটবে তা সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন। মিথ্যা মামলা দায়ের, গ্রেফতারি পরোয়ানা, অশ্রাব্য-কুশ্রাব্য গালিগালাজ, মিথ্যাচারের অবিরাম ধারাবর্ষণ ইত্যাদি প্রতিনিয়তই চলছে বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। এক্ষেত্রে এক শ্রেণির ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। : বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় ১০ বছর ও তাদের মদদপুষ্ট ১/১১ সরকারের ২ বছরসহ একযুগ ধরে বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। নিম্ন আদালতের একটি মামলায় তারেক রহমানকে খালাস দেয়া হলে সে বিচারককে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে সরকার। কিন্তু যতই অপচেষ্টা হোক সরকার পার পাবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে কোটি কোটি মানুষের ঢল দেখে সরকার বেসামাল হয়ে দেশনেত্রীর ওপর নানামুখী আক্রমণ চালানো হচ্ছে। আদালতকে কব্জায় নিয়ে এই আক্রমণ চালাতে কসুর করছে না। তবে আমরা সরকারকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই- জনমতই হচ্ছে সর্বোচ্চ রায়। এই রায়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের সত্যিকার ও ন্যায়সঙ্গত প্রধান প্রতিনিধি, আওয়ামী সরকার বা বর্তমান সরকার প্রধান নন। যারা হত্যা, বেআইনি গুম, খুনকে ব্রত করে সরকার চালাচ্ছেন তারা হাহাকারে বাতাস যে ক্রমশ ভারী হয়ে উঠেছে সেটি তারা আন্দাজ করতে পারছে না। জনতার স্রোতে ভেসে যাবে সকল ষড়যন্ত্র। দেশের জনগণ দুন্দুভি বাজিয়ে বর্তমান সরকারের পতন নিশ্চিত করবে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানচ্ছি। অবিলম্বে গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি। : বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, যশোর জেলাধীন চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ আলী, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সদর পৌর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিদ্দিক হোসেন এবং ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম কাদের বাবলু, বেনাপোল পৌর কাউন্সিলর আব্দুল আহাদ, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলমগীর, জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, শার্শা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মশিউর, সদর উপজেলা বিএনপি নেতা শহীদ বিশ্বাসসহ ৬৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি এই গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট, ভুয়া ও কাল্পনিক মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। : সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বিএনপির উদ্যোগে আগামী ৩ ডিসেম্বর  রবিবার দেশব্যাপী সকল জেলা সদর ও মহানগরে এবং ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন রিজভী। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

টিআইবি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে । আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
13127 জন