গুরুদাসপুরে প্রতিদিন শ্রমিক কেনাবেচা
Published : Saturday, 2 December, 2017 at 12:00 AM
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : ভোরের সূর্য্য ওঠেনি। শরীরটা চাদরে মোড়ানো। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারদিক আর হিমেল হওয়ায় জবুথুবু অবস্থা। হাতে হাতে কাস্তে-কোদাল। কাঁধে ধান বাহনের জন্য আনা হয়েছে বাঁক। এসব সরঞ্জামাদি নিয়ে দিনমজুর শ্যামা ও কলেজছাত্রী মায়া নিজেকে হাটে তুলেছেন শ্রম বিক্রির জন্য। সময় তখন ভোর ৫টা। ঘন কুয়াশায় বাস-ট্রাকগুলো চলছে বাতি জ্বালিয়ে। দিনমজুর শ্যামা ও কলেজছাত্রী মায়ার বাড়ি তাড়াশের মাঝগাঁও গ্রামে। রাত ৪টায় ১০ টাকা ভাড়ায় একটি ট্রাকে চড়ে এসেছেন ‘বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে’র নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নয়াবাজার শ্রমিকের হাটে। এ হাটে শুধু যে শ্যামা ও কলেজছাত্রী মায়াই এসেছেন তা নয়। জীবিকার তাগিদে আশপাশের কয়েকটি উপজেলা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক এসেছেন শ্রম বিক্রি করতে। কিন্তু পাচ্ছেন না ন্যায্য মজুরি। শ্রমিকের এই কাতারে রয়েছেন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, নারী-পুরুষ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শ্রমিক ও শিশুসহ সব ধরনের মানুষ। কৃষি অধিদফতর ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলনবিলের নাটোর গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও পাবনার চাটমোহর উপজেলার বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে আবাদি ফসলের ক্ষেত। সেই সব ক্ষেতের আমন ধান কাটা আর নরম কাদা মাটিতে চলছে বিনা হালে রসুন রোপণের মহোৎসব। এসব কাজে অনেক শ্রমিকের দরকার। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক আসেন নয়াবাজার শ্রমিকের হাটে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুই মুঠো ভাতের জন্য দিনমজুরি খাটতে রোজ সাত সকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক-বাসের ছাদে, নছিমন- করিমন, ভুটভুটিতে ওরা ছুটে আসেন এ হাটে। ভোরের কুয়াশা ঠেলে এসে শ্রমজীবী মানুষের দল নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে পড়ে। এসব দিনমজুর বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে ছুটে আসেন এ শ্রমিকের হাটে। ভোরে থেকে দলে দলে সমবেত হন হাজার হাজার দিনমজুুর জড়ো হন গুরুদাসপুরের নয়াবাজার পয়েন্টে। প্রতিদিন সকালে বসে বিশাল দিনমজুরের হাট।  তারপর গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার কৃষকরা ভোরের এ মিলন মেলা থেকে দৈনিক মজুরিতে শ্রমজীবী মানুষ কিনে নিয়ে যান। গত বৃহস্পতিবার ভোরে নয়াবাজারের শ্রমিকের হাটে গিয়ে দেখা যায়, গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম ছাড়াও তাড়াশ, সলঙ্গা ও উল্লাপাড়া, বগুড়ার শেরপুর উপজেলা এলাকার শ্রমিকরা দল বেঁধে এই শ্রমিকের হাটে জমায়েত হয়েছেন। এসব শ্রমিকের সবাই এসেছেন ট্রাক বা বাসের ছাদে, নছিমন কিংবা অটো ভ্যানে। সবার গায়েই রয়েছে শীতের পোশাক, হাতে কাস্তে, কোদাল ও ধান বহনের জন্য বাঁক। পাশ দিয়েই সাঁই সাঁই করে চলছে বাস-ট্রাক। গৃহস্থ (কৃষক) দেখলেই শ্রমিকদের প্রশ্ন ‘কয়ড্যা লাগবি’ (কয়জন শ্রমিক লাগবে)। কৃষক তাদের চাহিদামতো শ্রমিক দরদাম মিটিয়ে সরাসরি নিয়ে যাচ্ছেন মাঠে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা ব্যাংকিং খাতে হরিলুট চালাচ্ছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
11243 জন