ব্যাংকিং খাতে ক্ষমতাসীনদের হরিলুট চলছে : রিজভী
Published : Saturday, 2 December, 2017 at 12:00 AM, Update: 01.12.2017 10:34:24 PM
ব্যাংকিং খাতে ক্ষমতাসীনদের হরিলুট চলছে : রিজভীদিনকাল রিপোর্ট : ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে হরিলুট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তাছাড়া সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক বা অ্যারেজমেন্টে স্বাক্ষর করেছে তাতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরাজয় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করে বলেন, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক খাতে লুটপাট করে এবার হরিলুট করার জন্য সহজ মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্যাংককে। হরিলুট করতে গিয়ে একের পর এক ব্যাংক ফাঁকা করে ফেলা হচ্ছে। দেশে এখন ৫৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ব্যাংক নানা অনিয়ম, জালিয়াতি লুটপাট ও খেলাপি ঋণের কারণে আর্থিক সংকটে রয়েছে। বাকিগুলো নানা সমস্যার ভারে জর্জরিত। তিনি আরো বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও তাদের আত্মীয়স্বজন এ অবস্থার জন্য দায়ী। তাদের দ্বারা ব্যাংক লুটের প্রতিযোগিতায় আর্থিক খাত আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তারপর আরও তিনটি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী গত দু-তিনদিন আগে ঘোষণা করেছেন আরও ৩টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হবে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, দেশের অর্থনীতির যে পরিসর, তাতে করে চলমান ব্যাংকগুলোই অতিরিক্ত। এর ওপর নতুন ব্যাংকের ঘোষণা মূলত জনগণের টাকা হাতিয়ে নেয়ারই উদ্যোগ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, দেশের ৯৫ শতাংশ ব্যাংকারই চান না নতুন কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হোক। ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় বসার পর দলীয় লোকদের মালিকানায় বেসরকারি খাতে যে ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, সেটি আসলে লুটপাটের সুযোগ করার জন্যই। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মীর শরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, আসাদুল করিম শাহিন, মুনির হোসেন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। : রিজভী বলেন, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা লুট হলেও এখনও তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। অর্থমন্ত্রী বারবার তারিখ দিয়ে রহস্যজনক কারণে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি। সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকসহ সকল ব্যাংকিং খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হলেও, এমনকি গণমাধ্যমের বদৌলতে লুটপাটকারীদের নাম প্রকাশ হলেও এখনও পর্যন্ত লুটরেরা অধরা। দুদক তাদের বেলায় নির্বিকার। তাদের ধরবে কেন, তারাতো  ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ নেতাদেরই লোক। বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারি বেপরোয়া দুর্নীতিকে বৈধতা দেয়ার কমিশন এবং বিরোধী দলকে নিপীড়ন করার প্রতিষ্ঠান। : দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন,  বর্তমানে দেশে আবারও ভয়ঙ্কর তান্ডব চলছে। এমনিতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং ছিনতাইকালে খুনের শিকার হওয়ার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর সঙ্গে সেই ’৭৪ স্টাইলে ব্যাংক লুট করছে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা। : সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গত সোমবার দিনে-দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে হামলা করে ৪০ লাখ টাকা লুট করে নিয়েছে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার জয়পুরহাটে জনতা ব্যাংক থেকে লেনদেন চলাকালে ৪৫ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। বুধবার ময়মনসিংহে এক পরিবারকে জিম্মি করে নগদ টাকাসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা। এই লুটেরা ক্ষমতাসীন দলের লোকেরাই এখন রাজনীতি ও সমাজের হর্তাকর্তা, এরা বাংলাদেশের জনগণের জমি-জায়গা-ধন-সম্পত্তি-ব্যাংক-বীমার অখন্ড কর্তৃত্বের অধিকারী বলে নিজেদের মনে করে। এই দুর্বিনীত সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার। অথচ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন, মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার পক্ষের বিরোধী দল ও মতের মানুষের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারগুলোকে ভরে ফেলা হচ্ছে। : মিয়ানমারের সাথে চুক্তিকে ব্যর্থ উল্লেখ করে রিজভী বলেন,  কয়েকদিন আগে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বকে পাশ কাটিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা অ্যারেজমেন্টে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘসহ দেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর’র প্রধান বলেছেন, এই চুক্তি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাও এটাকে ব্যর্থ চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মিয়ানমার থেকে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত নেয়া শুরু হবে। কিন্তু কবে নাগাদ নেয়া শেষ হবে তা তিনি বলতে পারছেন না। এছাড়া সমঝোতা স্মারকের যে প্রস্তাবগুলো রয়েছে তাও অস্পষ্ট। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কিংবা নিরাপত্তার বিষয়টি সেখানে স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এতবড় কূটনৈতিক অর্জন নাকি আর কখনও হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য তৃতীয় কোনো দেশের প্রয়োজন নেই। এতবড় অর্জন হলো তাহলে এখনও প্রতিদিন রোহিঙ্গারা লাইন ধরে আসছে কেন? জনমানবহীন ভাসানচরে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিলেন কেন? চুক্তির পরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ না দেখে আপনারা মিয়ানমারের কাছে দেশের স্বার্থ বিক্রি করে দিয়েছেন।   : বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়ে এখন আবোল- তাবোল বলছে। এতবড় কূটনৈতিক পরাজয় দেশের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। রোহিঙ্গা সংকটে বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কাউকে পাশে পাওয়া যায়নি।  : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা ব্যাংকিং খাতে হরিলুট চালাচ্ছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
11271 জন